একাকি থাকা অবস্থায় গুণগুণ করে প্রেমভালবাসা সম্পর্কীত গান গাওয়া কি বৈধ?

প্রশ্ন: গুণগুণ করে নিজের শুনি এরকম করে কি গান গাওয়া যাবে যদি সেটাতে প্রেম ভালবাসা কথা বা বাক্য থাকে? এই ধরণের বাক্য বলার কারণে কি গুনাহ হবে?

উত্তর:
আমাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন যে, আামাদের প্রতিটি কথা -যা আমরা মুখে উচ্চারণ করি তা আল্লাহর ফেরেশতাগণ লিখে রাখেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
“সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী (ফেরেশতা নিয়োজিত) রয়েছে।” (সূরাক্বাফ: ১৮)
সুতরাং আমাদের মুখের কথার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্ব করা আবশ্যক।
আমরা কিভাবে কথা বলব সে ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَقُل لِّعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
“আমার বান্দাদের বল, তারা যেন এমন কথা বলে যা সব চেয়ে সুন্দর।” (সূরা ইসরা: ৫৩)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَن كان يُؤمِنُ باللهِ واليومِ الآخِرِ فلْيَقُلْ خيرًا أو لِيَصمُتْ
“যে আল্লাহ ও পরকালকে বিশ্বাস করে সে যেন, ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।” (সহীহ বুখারী)
আল্লামা বিন সাদী রহ. বলেন: “সুন্দর কথা মানুষকে সুন্দর চরিত্র ও নেক আমলের দিকে আহবান করে। যে তার জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করল সে যেন তার সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করল। (তাফসীরে বিন সাদী/ ৪৬০ পৃষ্ঠা)
অত:এব একাকি থাকা অবস্থায় নিজে নিজে এমন কোন কথা উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি যাতে কোন ফায়দা নেই বরং এমন কথা বলা উচিৎ যাতে কল্যাণ রয়েছে।

এছাড়াও একাকি প্রেম-ভালবাসা সম্বলিত গান গাইলে মনের মধ্যে হারাম কাজের উদ্রেক ঘটতে পারে যার কারণে কুপ্রবৃত্তির তাড়না ও শয়তানের কুমন্ত্রণায় মানুষ হারামে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মনের প্রশান্তি ও মানসিক বিনোদনের জন্য ইচ্ছা করলে এমন সব সঙ্গীত বা গান মাঝে মধ্যে বলা দোষণীয় নয় যাতে প্রেমভালবাসা, অশ্লীলতা এবং আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এমন কোন নেই।

কিন্তু একজন ঈমানদারের কতর্ব্য হল, জিহব্বাকে এমন কাজে ব্যবহার করা যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়।
সুতরাং নি:সঙ্গ অবস্থায় সুর করে কুরআন তিলাওয়াত অথবা দুআ, তাসবীহ ইত্যাদিগুলো পাঠের প্রতি গুরুত্ব দেয়া অধিক কল্যাণকর- তাতে কোন সন্দেহ নাই।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে বলেছেন:
لا يزال لسانك رطباً من ذكر الله تعالى
“তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা
তরতাজা থাকে আল্লাহর জিকিরে।”
(তিরমিযী ও ত্ববারানী, সনদ সহীহ)
আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
——————————–
উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

Share: