অসুস্থতার কারণে সালাত পরিত্যাগের বিধান এবং এ অবস্থায় তা আদায়ের সঠিক পদ্ধতি

প্রশ্ন: রিয়াদ-সৌদি আরব থেকে শ্রোতা হাসান বিন হাদি প্রশ্ন করেছেন যে, কিছু রোগী অসুস্থতার সময় ফরজ সালাত আদায় করে না—হয় তা আদায়ের সামর্থ্য না থাকার কারণে অথবা এই আশা রাখার কারণে যে, সুস্থ হওয়ার পর তা কাজা করে নিবে। যে রোগী বিছানা থেকে উঠতে সক্ষম নয়, ওজু ছাড়া এবং বিছানায় শুয়ে যেদিকেই মুখ ফিরে থাকুক না কেন তার সালাত কি সহীহ হবে? অনুগ্রহপূর্বক জানাবেন, আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
উত্তর: রোগীর জন্য সালাত আদায় করা ফরজ। জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজর—এই পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ সালাত আদায় করা রোগীর সাধ্যানুযায়ী তার ওপর অপরিহার্য। এগুলো পরিত্যাগ করা জায়েজ নয়। বরং তাকে তার অবস্থা অনুযায়ী সালাত আদায় করতেই হবে। কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন রোগীকে তার জিজ্ঞাসার জবাবে বলেছিলেন,
صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ
“তুমি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর, যদি সামর্থ্য না থাকে তবে বসে, আর যদি তাও সামর্থ্য না থাকে তবে কাত হয়ে (এক পাশে শুয়ে)।” [সহীহ বুখারি, হাদিস নং ১১১৭, ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত]
সুনানে নাসাইর বর্ণনায় এর সাথে অতিরিক্ত এসেছে—
فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَمُسْتَلْقِيًا
“আর যদি তাও সামর্থ্য না থাকে তবে চিত হয়ে (সালাত আদায় করবেন)।”
❑ যদি দাঁড়িয়ে সালাত সালাত আদায় করতে সক্ষম না হয় তবে:
রোগীর জন্য আবশ্যক হলো—তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবেন যদি সামর্থ্য থাকে। সামর্থ্য না থাকলে বসে সালাত আদায় করবেন এবং রুকু-সিজদা করবেন।
বসেও যদি সালাত আদায় করতে অক্ষম হন তবে কাত হয়ে (একপাশে শুয়ে) সালাত আদায় করবেন। তখন তিনি কিরাত ও মৌখিক দোয়া ও জিকিরগুলো পড়বেন এবং শারীরিক কাজগুলো নিয়তের মাধ্যমে বা মনে মনে আদায় করবেন—যেমন: মনে মনে রুকুর নিয়ত, সিজদার নিয়ত, রুকু থেকে ওঠার নিয়ত এবং সিজদা থেকে ওঠার নিয়ত করবেন, সাথে শরিয়তসম্মত দোয়া ও জিকিরগুলোও পাঠ করবেন।
❑ আর যদি তিনি (কাত হয়ে শুয়েও) অক্ষম হন তবে:
– চিত হয়ে শুয়ে সালাত আদায় করবেন এবং তাঁর পা দুটি কিবলার দিকে থাকবে। তিনি তাকবির বলবেন ও কিরাত পড়বেন।
– এরপর তাকবির বলে মনে মনে নিয়তের মাধ্যমে রুকু করবেন।
– এরপর রুকু থেকে ওঠার সময় নিয়ত করে বলবেন: “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্”।
– তারপর তাকবির বলে সিজদার নিয়ত করবেন এবং বলবেন: “সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা, সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা”।
– এরপর তাকবির বলে সিজদা থেকে ওঠার নিয়ত করবেন এবং নিয়তের মাধ্যমেই দুই সিজদার মাঝে বসবেন এবং বলবেন: “রাব্বিগফির লী, রাব্বিগফির লী”।
-এরপর তাকবির বলে দ্বিতীয় সিজদার নিয়ত করবেন।
– এরপর তাকবির বলে দ্বিতীয় সিজদার নিয়ত করবে।
এভাবেই সালাত চালিয়ে যাবেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
“সুতরাং তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর” [সূরা তাগাবুন: ১৬]।
আর এটিই হলো তার সামর্থ্য অনুযায়ী করণীয়। তাই তার জন্য সালাত পরিত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই।
❑ পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে:
যদি তিনি পানি ব্যবহার করতে অক্ষম হন কিংবা তাকে ওজু করিয়ে দেওয়ার মতো কেউ না থাকে তবে তিনি পবিত্র মাটি বা জমিনের ধূলিবালি দিয়ে তায়াম্মুম করবেন এবং মুখমণ্ডল ও দুই হাত মাসাহ করবেন।”
উপস্থাপক: জাযাকাল্লাহু খাইরান ওয়া আহসানা ইলাইকুম (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং আপনাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
ফতোয়া প্রদানে: আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ.) (সৌদি আরবের প্রাক্তন প্রধান মুফতি)।
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
(দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব)।
Share: