যে সকল নাম দ্বারা সন্তানের নামকরণ অনুচিত

সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম ও সিনিয়র স্কলার পরিষদের সদস্য এবং মসজিদে নববীর মুদাররিস শায়খ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যাইদ (রাহ.) বলেছেন:
“وَمِنْ هٰذَا الغَلَطِ التَّعْبِيدُ لِأَسْمَاءٍ يُظَنُّ أَنَّهَا مِنْ أَسْمَاءِ اللهِ تَعَالَى، وَهِيَ لَيْسَتْ كَذٰلِكَ، مِثْلُ: عَبْدُ المَقْصُودِ، عَبْدُ السَّتَّارِ، عَبْدُ المَوْجُودِ، عَبْدُ المَعْبُودِ، عَبْدُ الهُوٰى، عَبْدُ المُرْسِلِ، عَبْدُ الوَحِيدِ، عَبْدُ الطَّالِبِ، عَبْدُ النَّاصِرِ، عَبْدُ القَاضِي، عَبْدُ جَامِعٍ، عَبْدُ الحَنَّانِ، عَبْدُ الصَّاحِبِ.
فَهٰذِهِ يَكُونُ الخَطَأُ فِيهَا مِنْ جِهَتَيْنِ:
مِنْ جِهَةِ تَسْمِيَةِ اللهِ بِمَا لَمْ يَرِدْ بِهِ السَّمْعُ، وَأَسْمَاؤُهُ سُبْحَانَهُ تَوْقِيفِيَّةٌ عَلَى النَّصِّ مِنْ كِتَابٍ أَوْ سُنَّةٍ.
وَالجِهَةُ الثَّانِيَةُ: التَّعَبُّدُ بِمَا لَمْ يُسَمِّ اللهُ بِهِ نَفْسَهُ وَلَا رَسُولُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
وَكَثِيرٌ مِنْهَا مِنْ صِفَاتِ اللهِ؛ وَلٰكِنْ قَدْ غَلِطَ غَلَطًا بَيِّنًا مَنْ جَعَلَ لِلّٰهِ مِنْ كُلِّ صِفَةٍ أَسْمَاءً وَاشْتَقَّ مِنْهَا، فَقَوْلُ اللهِ تَعَالَى:
﴿وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ﴾ [غافر: ٢٠]
لَا يُشْتَقُّ مِنْهَا اسْمُ (القَاضِي)، لِهٰذَا لَا يُقَالُ: (عَبْدُ القَاضِي)، وَهٰكَذَا.”
“এই ভুলের অন্তর্ভুক্ত হলো এমন কিছু নামের সাথে ‘আব্দ’ (দাস) শব্দ যুক্ত করে নাম রাখা, যেগুলোকে মহান আল্লাহর নাম মনে করা হয়; অথচ প্রকৃতপক্ষে সেগুলো আল্লাহর নাম নয়। যেমন:
১. আবদুল মাকসুদ
২. আবদুস সাত্তার
[এই নামটি আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হলেও প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর নাম হিসেবে ‘সাত্তার’ (الـسَّـتَّـارُ) নামটি বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত নয়। সঠিক হল ‘সিত্তীর’
(الـسَّـتِّـيـرُ)
যদিও উভয়টি একই অর্থবোধক। তা হলো: পাপ গোপনকারী]
৩. আবদুল মাওজুদ
৪. আবদুল মাবুদ
৫. আবদুল হাওয়া
৬. আবদুল মুরসিল
৭. আবদুল ওয়াহীদ
[আল ওয়াহীদ (الْوَحِيدُ) নামটি আল্লাহর নাম হিসেবে সাব্যস্ত নয়। তবে আল ওয়াহেদ (الْوَاحِدُ) এবং আল আহাদ (الْأَحَدُ) আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
৮. আবদুত তালিব
৯. আবদুন নাসের
[উল্লেখ্য যে, আবদুন নাসীর (عَبْدُ النَّصِيرِ) নামে কোন সমস্যা নেই]
১০. আবদুল কাদী/কাজী
১১. আবদুল জামি‘
১২. আবদুল হান্নান
১৩. আবদুস সাহিব
এই নামগুলোর ক্ষেত্রে ভুলটি দুটি দিক থেকে ঘটে থাকে:
১. প্রথমত: এই নামগুলোতে আল্লাহর এমন সব নাম রয়েছে যেগুলো দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহ সম্পূর্ণরূপে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের ওপর নির্ভরশীল (তাওকিফিয়্যাহ)।
২. দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য এবং তাঁর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জন্য যেসব নাম নির্ধারণ করেননি, সেগুলোর সাথে দাসত্ব বা ‘আব্দ’ সম্বন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।
হ্যাঁ, এসবের অনেকগুলোই আল্লাহর সিফাত বা গুণের অন্তর্ভুক্ত শব্দ থেকে গঠিত। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতিটি সিফাত থেকে নাম গঠন করে সেখান থেকে (আব্দ যুক্ত) নতুন নাম বের করেছে, সে স্পষ্ট ভুল করেছে। যেমন: মহান আল্লাহর বাণী:
وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ
“আর আল্লাহ ন্যায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করেন।” [গাফির/মুমিন: ২০]
এই আয়াত থেকে আল্লাহর নাম হিসেবে ‘আল কাদী/আল কাজী’ (বিচারক) নামটি গ্রহণ বা উদ্ভাবন করা যাবে না। এ কারণেই ‘আবদুল কাদী (বা আব্দুল কাজী)’ বলা যাবে না। একইভাবে বাকি নামগুলোও বুঝে নিতে হবে।”
তথ্যসূত্র: মু‘জামুল মানাহিল লাফযিয়্যাহ।
(مُعْجَمُ المَنَاهِي اللَّفْظِيَّةِ)
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
লেখক: শাইখ বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবু যাইদ (রহ.)
অধ্যায়: হারফুল ‘আইন (حَرْفُ العَيْنِ)
পরিচ্ছেদ: আবদুল মুক্তাদির, আবদুল মাকসুদ … (عَبْدُ المُقْتَدِرِ، عَبْدُ المَقْصُودِ …)
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: