মেহেদি ও কলপের ব্যবহার এবং নারী-পুরুষের জন্য শরিয়তের জরুরি বিধিবিধান

নারীরা স্বাভাবিকভাবেই সাজসজ্জার অংশ হিসেবে হাতে-পায়ে মেহেদি বা বিভিন্ন রং ব্যবহার করে থাকেন। এতে কোনো সমস্যা নেই আলহামদুলিল্লাহ। তবে বর্তমানে আমাদের সমাজে দেখা যায়, অনেক যুবক গায়ে হলুদ, বিয়ে, ঈদ কিংবা নানা আনন্দ-উৎসবে সাজসজ্জা করতে গিয়ে হাতে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেহেদি ব্যবহার করে থাকে। অনেকে আবার আকিকা, সুন্নতে খতনা কিংবা নিছক শখের বশে ছোট ছেলেদের হাতও মেহেদির রঙে রাঙিয়ে দেন। এছাড়া কখনো কখনো বিভিন্ন শারীরিক ব্যাধির কারণে মেহেদি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। আবার বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ চুলে এবং পুরুষরা দাড়িতে কলপ করে থাকেন। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক শরয়ি বিধান জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই বিজ্ঞ আলেমদের দলিলভিত্তিক ফতোয়ার আলোকে বিষয়গুলো সংক্ষেপে ও সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
وبالله التوفيق
▪️ নারীদের জন্য মেহেদি ব্যবহার:
সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে মেহেদি বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা নারীদের জন্য সম্পূর্ণরূপে বৈধ। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
طِيبُ الرِّجَالِ مَا ظَهَرَ رِيحُهُ وَخَفِيَ لَوْنُهُ، وَطِيبُ النِّسَاءِ مَا ظَهَرَ لَوْنُهُ وَخَفِيَ رِيحُهُ
“পুরুষের সুগন্ধি হলো তা, যার ঘ্রাণ প্রকাশ পায় কিন্তু রং গোপন থাকে। আর নারীর সুগন্ধি হলো তা, যার রং প্রকাশ পায় কিন্তু ঘ্রাণ গোপন থাকে।” [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর ২৭৮৮ — হাসান সহিহ]
এই হাদিস থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, সৌন্দর্যবর্ধন ও রঙের মাধ্যমে নিজেকে সাজানো নারীদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। আর সুগন্ধি ছড়িয়ে দেওয়া পুরুষদের বৈশিষ্ট্য।
▪️ পুরুষদের জন্য মেহেদি ব্যবহারের বিধান:
সাজসজ্জা বা সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে হাতে-পায়ে মেহেদি ব্যবহার করা পুরুষের জন্য বৈধ নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
“রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীর সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষদের এবং পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারীদের অভিশাপ দিয়েছেন।” [সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৮৮৫]
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি ঘটনায় বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে:
أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمُخَنَّثٍ قَدْ خَضَّبَ يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ بِالْحِنَّاءِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا بَالُ هَذَا؟ فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، يَتَشَبَّهُ بِالنِّسَاءِ! فَأَمَرَ بِهِ فَنُفِيَ إِلَى النَّقِيعِ
“রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এক মুখান্নাসকে (নারী-স্বভাবী পুরুষ) আনা হলো, যে তার হাত-পা মেহেদি দিয়ে রাঙিয়ে রেখেছিল। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এর কী হয়েছে?
বলা হলো, হে আল্লাহর রসুল, সে নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করছে! তখন তিনি তাকে ‘নাকি‘ নামক স্থানে নির্বাসিত করার নির্দেশ দিলেন।” [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৯২৮ — আলবানি কর্তৃক সহিহ আবু দাউদে সহিহ আখ্যায়িত]
▪️ কালো রং ছাড়া সাদা চুল-দাড়িতে কলপ ব্যবহার করা মুস্তাহাব:
সৌদি আরবের স্থায়ী ফতওয়া কমিটি (আল লাজনাহ আদ দাইমাহ) উল্লেখ করেছেন:
يُسْتَحَبُّ لِلنِّسَاءِ وَالرِّجَالِ تَغْيِيرُ الشَّيْبِ بِلَوْنٍ غَيْرِ السَّوَادِ، لِقَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (غَيِّرُوا هَذَا الشَّيْبَ، وَجَنِّبُوهُ السَّوَادَ) سَوَاءٌ غَيَّرَهُ بِالْحِنَّاءِ أَوْ غَيْرِهِ مِنَ الْأَلْوَانِ الْأُخْرَى غَيْرِ السَّوَادِ، أَمَّا الْخِضَابُ بِالْحِنَّاءِ لِلزِّينَةِ فَهُوَ مِنْ خَصَائِصِ النِّسَاءِ وَلَا يَجُوزُ لِلرِّجَالِ؛ لِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَأَمَّا اسْتِعْمَالُ الْحِنَّاءِ بِوَضْعِهِ عَلَى بَعْضِ الْجِسْمِ لِلْعِلَاجِ مِنَ الْمَرَضِ – إِذَا كَانَ فِيهِ فَائِدَةٌ – فَهُوَ جَائِزٌ لِلرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ
“নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই পাকা চুল কালো ছাড়া অন্য রঙে রাঙানো মুস্তাহাব। কেননা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “এই পাকা চুল পরিবর্তন করো। তবে কালো রং থেকে বিরত থাকো” — চাই তা মেহেদি দিয়ে হোক বা কালো ব্যতীত অন্য যেকোনো রং দিয়ে হোক। তবে সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে মেহেদি লাগানো নারীদেরই বৈশিষ্ট্য; পুরুষদের জন্য তা একেবারেই বৈধ নয়। কারণ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীর সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষদের লানত করেছেন। পক্ষান্তরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে শরীরের কোনো অংশে মেহেদি ব্যবহার করা — যদি তাতে উপকার থাকে — নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই জায়েজ।” [ফতাওয়া আল-লাজনাহ আদ দাইমাহ, খণ্ড ২৪, পৃষ্ঠা ১০৮]
▪️ বিয়ে উপলক্ষে পুরুষদের মেহেদি ব্যবহার:
শাইখ ইবনে উসাইমিন (রাহ.) বিবাহ অনুষ্ঠানে পুরুষদের মেহেদি লাগানোর হুকুম সম্পর্কে শাইখ ইবনে উসাইমিন (রাহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
يَحْرُمُ عَلَى الرَّجُلِ أَنْ يَخْتَضِبَ بِالْحِنَّاءِ فِي مُنَاسَبَةِ الزَّوَاجِ أَوْ غَيْرِ مُنَاسَبَةِ الزَّوَاجِ؛ وَذَلِكَ لِأَنَّ الْخِضَابَ بِالْحِنَّاءِ مِنْ خَصَائِصِ النِّسَاءِ، فَإِذَا فَعَلَهُ الرَّجُلُ كَانَ مُتَشَبِّهًا بِالْمَرْأَةِ، وَتَشَبُّهُ الرَّجُلِ بِالْمَرْأَةِ مِنْ كَبَائِرِ الذُّنُوبِ، كَمَا أَنَّ تَشَبُّهَ الْمَرْأَةِ بِالرَّجُلِ مِنْ كَبَائِرِ الذُّنُوبِ … وَخُلَاصَةُ الْجَوَابِ: أَنَّ خِضَابَ الرَّجُلِ بِمُنَاسَبَةِ الزَّوَاجِ أَوْ غَيْرِهِ مُحَرَّمٌ، بَلْ مِنْ كَبَائِرِ الذُّنُوبِ؛ لِمَا فِيهِ مِنَ الْمُشَابَهَةِ بِالنِّسَاءِ
“বিবাহের অনুষ্ঠান হোক বা অন্য কোনো উপলক্ষ, পুরুষের জন্য মেহেদি লাগানো হারাম। কারণ মেহেদি দিয়ে সাজা নারীদের বৈশিষ্ট্য। কোনো পুরুষ তা করলে সে নারীর সাদৃশ্য গ্রহণকারী বলে গণ্য হবে। আর পুরুষের নারীর সাদৃশ্য গ্রহণ করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত — ঠিক যেমন নারীর পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করাও কবিরা গুনাহ… সংক্ষেপে জবাব হলো, বিয়ে বা অন্য যেকোনো উপলক্ষে পুরুষের হাতে-পায়ে মেহেদি লাগানো হারাম বরং তা মারাত্মক কবিরা গুনাহ। কেননা এতে নারীদের অন্ধ অনুকরণ ও সাদৃশ্য অবলম্বন করা হয়।” [ফতাওয়া নূরুন আলাদ দারব, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৪১৫-৪১৬]
▪️ শিশুদের হাতে মেহেদির নকশা করা ও রোগ ব্যাধিতে মেহেদি ব্যবহার করা:
শাইখ সালেহ আল ফাউজান (হাফি.): ছোট-বড় নারী ও শিশুদের হাতে মেহেদি দিয়ে নকশা করার বিধান প্রসঙ্গে শাইখ সালেহ বিন ফাউজান আল ফাউজান (হাফি.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
النِّسَاءُ لَا بَأْسَ، أَمَّا الذُّكُورُ فَلَا يَجُوزُ، لَا الكِبَارُ وَلَا الصِّغَارُ، الحِنَّاءُ مَا يَجُوزُ لِلذُّكُورِ؛ لَا الصِّغَارِ وَلَا الكِبَارِ، إلَّا إذَا كَانَ لِلْعِلَاجِ، إذَا احْتَاجَهُ الإِنْسَانُ لِلْعِلَاجِ؛ كَأَنْ يَضَعَهُ عَلَى رَأْسِهِ أَوْ عَلَى رِجْلِهِ مِنْ أَجْلِ العِلَاجِ، فَلَا بَأْسَ. أَمَّا لِلزِّينَةِ أَوْ العَبَثِ، فَهَذَا لَا يَجُوزُ لِلرِّجَالِ، هَذَا مِنْ خَوَاصِّ النِّسَاءِ؛ كَبِيرَاتٍ أَوْ صَغِيرَاتٍ، وَيَجُوزُ لِلرِّجَالِ مِنْ بَابِ العِلَاجِ فَقَطْ، وَيَجُوزُ لِلرِّجَالِ فِي خِضَابِ الشَّيْبِ
“নারীদের জন্য এতে কোনো বাধা নেই। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে — তারা বয়সে বড় হোক বা ছোট — তা জায়েজ নয়। মেহেদি কোনো পুরুষের জন্যই বৈধ নয়; চাই সে শিশু হোক কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক। অবশ্য চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ব্যতিক্রম; যেমন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মাথায় বা পায়ে মেহেদি ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সাজসজ্জা কিংবা নিছক শখের বশে পুরুষদের জন্য এটি করা একদমই অনুচিত। কারণ এটি কেবল নারীদের — চাই তারা বয়সে বড় হোক বা ছোট — নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। সুতরাং পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি কেবল চিকিৎসার দরকারে এবং পাকা চুল-দাড়ি কলপ করার জন্যই বৈধ।”
🔹পাকা চুল-দাড়ি রাঙানো এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মেহেদি ব্যবহার:
পাকা চুল বা দাড়ি মেহেদি দিয়ে রাঙানো একটি উত্তম সুন্নত। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার করেছেন।
– প্রখ্যাত সাহাবি আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
إِنَّ أَحْسَنَ مَا غُيِّرَ بِهِ هَذَا الشَّيْبُ الْحِنَّاءُ وَالْكَتَمُ
“পাকা চুল বা দাড়ি পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম হলো মেহেদি এবং কাতাম (এক ধরনের বিশেষ প্রাকৃতিক উদ্ভিদ, যা মেহেদির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়)।” [সুনানে তিরমিজি, হাদিস নম্বর ১৭৫৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪২০৫ — হাসান সহিহ]
– উম্মে সালামা (রা.) বর্ণনা করেন, উসমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাওহাব বলেন
,دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَأَخْرَجَتْ إِلَيْنَا شَعَرًا مِنْ شَعَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَخْضُوبًا
“আমি উম্মে সালামা (রা.)-এর কাছে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মেহেদি-রঞ্জিত কিছু চুল বের করে দেখালেন।” [সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৮৯৭]
এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের পাকা চুলে মেহেদি ব্যবহার করতেন। এছাড়া রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যথা ও ক্ষতের চিকিৎসায়ও মেহেদি ব্যবহার করতেন। সালমা, যিনি উম্মে রাফে (রা.) নামে পরিচিত এবং রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেবা করতেন, তিনি বর্ণনা করেন,
مَا كَانَ يَكُونُ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرْحَةٌ وَلَا نَكْبَةٌ إِلَّا أَمَرَنِي أَنْ أَضَعَ عَلَيْهَا الْحِنَّاءَ
“রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরীরে কোনো ফোড়া বা আঘাতজনিত ক্ষত হলেই তিনি আমাকে তার ওপর মেহেদি লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন।” [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৩৮৫৮; শামায়িলে তিরমিজি, হাদিস নম্বর ১০৬ — হাসান, তিরমিজি ও আলবানি উভয়েই এটিকে হাসান আখ্যায়িত করেছেন]
সুতরাং পুরুষদের জন্য হাতে-পায়ে সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে মেহেদি লাগানো নিষিদ্ধ হলেও পাকা চুল-দাড়িতে রাঙানো এবং চিকিৎসায় এর ব্যবহার অত্যন্ত পছন্দনীয় ও সুন্নতি আমল, যা স্বয়ং রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আমল দ্বারা প্রমাণিত।
▪️ উপসংহার:
সাজসজ্জা বা সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে হাতে-পায়ে মেহেদি লাগানো পুরুষের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতে নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হয়। তবে পাকা চুল বা দাড়ি কালো রং ব্যতীত অন্য কোনো রঙে রাঙানো এবং চিকিৎসায় মেহেদি ব্যবহার করা নারী-পুরুষ সবার জন্যই সমানভাবে বৈধ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক শরয়ি জ্ঞান অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: