প্রশ্ন: আজান শুনলে কী কী করণীয়? আর আমরা জানি, আজান ও ইকামত এর মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কবুল হয়। কিন্তু আজানের উত্তর দেয়ার ফাঁকে ফাঁকে কি আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া চাওয়ার কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে কি? দয়া করে জানাবেন ইনশাআল্লাহ।
উত্তর: আজানের উত্তর দেওয়ার সময় মাঝপথে আলাদাভাবে দোয়া করার বিশেষ কোনো নির্দেশ বা আমল হাদিসে বর্ণিত হয়নি। সুন্নত সম্মত নিয়ম হলো, মুয়াজ্জিনের প্রতিটি বাক্যের উত্তর দেওয়া এবং আজান শেষ হলে প্রথমে দরুদ অতঃপর আজানের বিশেষ দোয়া পাঠ করা। আজান শুনলে যে সকল করণীয় সেগুলো ধারাবাহিকভাবে নিচে উল্লেখ করা হল:
◈ ১. আজানের জবাব:
আজান চলাকালীন মুয়াজ্জিন যা বলেন, শ্রোতার জন্য হুবহু তা-ই বলা সুন্নাত। তবে মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলেন তখন উত্তরে বলতে হয়:
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
[সহিহ বুখারি, ৬১৩; সহিহ মুসলিম, ৩৮৫]
বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরোক্ত হাদিসের আলোকে ফজর নামাজে মুয়াজ্জিন যখন “হাইয়া আ’লাল ফালাহ” বলার পরে বলবে, ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ তখন তার জবাবে তা-ই বলতে হবে। এক্ষেত্রে “সাদাকতা ওয়া বারাকাকতা বা বারারতা’ বলার হাদিসটি সনদগতভাবে দুর্বল।
◈ ২. আজান শেষে দরুদ পাঠ ও দোয়া:
আজান শেষ হওয়ার পর রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করতে হয় এবং এরপর আজানের বিশেষ দোয়াটি পড়তে হয়।
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
إذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ
“যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে তখন সে যা বলে তোমরাও তা-ই বলো। এরপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো।” [সহিহ মুসলিম, ৩৮৪]
◈ ৩. আজানের বিশেষ দুআ পাঠ এবং তার ফজিলত:
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আজান শোনার পর বলে:
«اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ؛ حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা রববা হা-যিহিদ দাওয়াতিত তা-ম্মাহ, ওয়াস সলা-তিল ক্ব-ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল অসীলাতা ওয়াল ফাদীলাহ, ওয়াবআসহু মাক্ব-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়াআত্তাহ।
অর্থ: “হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের আপনিই মালিক। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আপনি ‘অসীলা’ (জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান) ও মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই ‘মাক্বামে মাহমুদ’ (প্রশংসিত স্থান)-এ পৌঁছে দিন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন।” কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।” [সহিহ বুখারি: ৬১৪]
◈ ৪. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া:
আজানের উত্তর শেষ করার পর থেকে ইকামতের আগ পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। এ সময়ে আপনি আল্লাহর কাছে যা খুশি চাইতে পারেন। হাদিসে এসেছে:
«الدُّعَاءُ لَا يُرَدُّ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ»
“আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।” [সুনানে আবু দাউদ, ৫২১; জামে তিরমিজি, ২১২]
অন্য বর্ণনায় এসেছে,
“الدعاءُ لا يُرَدُّ بين الأذانِ والإقامةِ . قالوا : فماذا نقولُ يا رسولَ اللهِ ؟ قال : سَلُوا اللهَ العافيةَ في الدنيا والآخرةِ”
“আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আমরা তখন কী বলব? তিনি বললেন: তোমরা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের ‘আফিয়াত’ (নিরাপত্তা) প্রার্থনা করো।” [সুনান তিরমিজি: ৩৫৯৪-হাসান]
মোটকহলো, আজানের উত্তর দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে দোয়া নয় বরং আজান মনোযোগ দিয়ে শোনা ও আজানের জবাব দেওয়া সুন্নাত। আজান শেষ করে দরুদ ও আজানের দুআ পাঠের পর ইকামতের আগ পর্যন্ত সময়টি দোয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।