মহিলাদের বাইক বা গাড়ি চালানো কিংবা পাবলিক বাসে উঠার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

প্রশ্ন: কোথাও যাতায়াতের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য পাবলিক গাড়ি না কি লেডিস বাইক ব্যবহার করা উত্তম?
উত্তর: মহিলাদের একান্ত জরুরি প্রয়োজনে বাইরে কোথাও যাওয়ার দরকার হলে পাবলিক বাস কিংবা ব্যক্তিগত মটর বাইক বা নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করা কোনটাই নাজায়েজ নয়। এগুলোর মধ্যে যেটা তার জন্য সুবিধাজনক ও অধিক নিরাপদ মনে হয় সেটাই সে ব্যবহার করবে। তবে কোথাও কোথাও পাবলিক বাসের চেয়ে ব্যক্তিগত লেডিস বাইক ব্যবহার করা অধিক নিরাপদ হতে পারে।

শাইখ আলবানিকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, মহিলাদের জন্য কি গাড়ি চালানো বৈধ?
তিনি বললেন, মহিলারা গাধা চালাতে পারলে গাড়িও চালাতে পারবে।
প্রশ্নকারী বলল: গাধা ও গাড়ির মধ্যে তো পার্থক্য আছে।
তিনি বললেন: কোনটা পর্দার জন্য বেশি উপযোগী? গাধায় ওঠা না কি গাড়িতে ওঠা?”
[উৎস: সিলসিলাতুল নূর ওয়াল হুদা, ক্যাসেট নং ৫৫৪, ৪৭তম মিনিট]
অর্থাৎ শাইখ বলতে চাইলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলা সাহাবিগণ উট, গাধা, ঘোড়া ইত্যাদি হাঁকাতে পারলে বর্তমান যুগে মহিলারা গাড়ি হাঁকাতে পারবে না কেন? বরং গাধা-ঘোড়ার চেয়ে বর্তমান যুগে গাড়ি তার পর্দার জন্য আরও বেশি উপযোগী।

যাহোক, বাইক/গাড়ি চালানো বা গণপরিবহণে উঠার ক্ষেত্রে আত্মমর্যাবান ঈমানদার মহিলাদের জন্য কতিপয় শর্ত ও নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। যেমন:

◈ ১. বাড়ি থেকে বের হওয়ার পূর্বে পরিপূর্ণভাবে হিজাব পরিধান করবে। কোনভাবেই নিজের শরীর, চাকচিক্যময় পোশাক, সাজগোজ বা অলঙ্কারাদি পরপুরুষের সামনে প্রদর্শন করা জায়েজ নয়।
◈ ২. বাইরে যাওয়ার সময় আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম।
◈ ৩. পাবলিক বাসে উঠার সময় দুষ্ট লোকদের অযাচিত স্পর্শ থেকে সাবধান থাকবে।
◈ ৪. একাকী যাত্রীশুণ্য বাহনে উঠবে না।
◈ ৫. রাত্রী কালীন যাতায়াত অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যথাসম্ভব দিনে দিনে কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হবে।
◈ ৬. পরপুরুষদের সাথে নিস্প্রয়োজনীয় কথাবার্তা, হাসি-কৌতুক ও অশালীন আচার-আচরণ ইত্যাদি থেকে সর্বাত্মক দূরে অবস্থান করবে।
◈ ৭. ফিতনা হতে পারে এমন সব কার্যক্রম ও ফিতনা সঙ্কুল স্থান থেকে নিজেকে হেফাজতে রাখবে।
◈ ৮. সফরের দূরত্বে যেতে হলে স্বামী অথবা বাবা, ভাই, দাদা, চাচা, ভাতিজা, ভাগিনা ইত্যাদি মাহরাম পুরুষ সাথে থাকা আবশ্যক।
◈ ৯. পথিমধ্যে কোথাও অনিরাপত্তা বা বিপদ অনুভব করলে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্থানীয় লোকজনের সাহায্য প্রার্থনা করবে। অর্থাৎ নিজের নিরাপত্তার প্রতি খুব সচেতন থাকবে।

মোটকথা, একজন নারী ইসলামি অনুশাসন মেনে একান্ত জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াত করতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে তার জন্য সুবিধাজনক ও তুলনা মূলক নিরাপদ যে কোন জানবাহন ব্যবহার রতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, যদি কোন মহিলার স্বামী কিংবা মাহরাম ব্যক্তি থাকে যে তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে অথবা একান্ত জরুরি পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয় তাহলে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকাই তার জন্য অধিক নিরাপদ ও পবিত্রতার কারণ-এতে কোন সন্দেহ নাই।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।