প্রতি মাসে কুরআন খতম করা একটি অবহেলিত সুন্নাহ

প্রশ্ন: প্রতি মাসে অন্তত একবার কুরআন কারিম শেষ করা কি সুন্নাহসম্মত?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রতি মাসে অন্তত একবার পুরো কুরআন খতম করা একটি বরকতময় আমল, যার ভিত্তি সহিহ হাদিসে আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.)-এর আগ্ৰহ ও আমলের আধিক্য জানতে পেরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে প্রতি মাসে একবার খতম করার নির্দেশনা দেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اقْرَأِ الْقُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ»، قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «فَاقْرَأْهُ فِي عِشْرِينَ لَيْلَةً»، قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً، قَالَ: «فَاقْرَأْهُ فِي سَبْعٍ وَلَا تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ»
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: “তুমি প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করো।”
আমি বললাম: “আমার এর চেয়ে বেশি পড়ার শক্তি আছে।”
তিনি বললেন: “তাহলে বিশ রাতে খতম করো।”
আমি আবার বললাম: “আমার আরও শক্তি আছে।”
তিনি বললেন: “তাহলে সাত দিনে খতম করো এবং এর বেশি বাড়িয়ো না।” [সুনানে আবু দাউদ, ১৩৮৮, সহিহ]
তবে তিলাওয়াতে তাড়াহুড়ো না করে বোঝার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
«لَا يَفْقَهُ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلَاثٍ»
“যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করে, সে তা বুঝতে পারে না।” [সুনানে আবু দাউদ, ১৩৯০, সহিহ]
▪️ফতওয়ায়ে বিন বায (রাহ.):
শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, প্রতি মাসে কুরআন খতমের রুটিন রাখা কি বিদআত?
তিনি উত্তরে বলেন:
فَخَتْمُ الْقُرْآنِ فِي كُلِّ شَهْرٍ أَمْرٌ مَطْلُوبٌ مَشْرُوعٌ، النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِهِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، كَانَ يَخْتِمُهُ كُلَّ يَوْمٍ فَقَالَ لَهُ: يَخْتِمُهُ فِي كُلِّ شَهْرٍ، يَقْرَؤُهُ فِي كُلِّ شَهْرٍ. فَإِذَا رَتَّبَ الرَّجُلُ أَوِ الْمَرْأَةُ خَتْمَ الْقُرْآنِ فِي كُلِّ شَهْرٍ، فَهُوَ حَسَنٌ وَمَشْرُوعٌ، أَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ. وَإِنْ خَتَمَهُ فِي أَقَلَّ أَوْ فِي أَكْثَرَ فَلَا حَرَجَ، وَلَكِنَّ الْأَفْضَلَ أَلَّا يَنْزِلَ عَنْ سَبْعٍ، إِذَا كَانَ عِنْدَهُ اجْتِهَادٌ وَأَحَبَّ أَنْ يَخْتِمَ فِي سَبْعٍ فَلَا بَأْسَ.
“প্রতি মাসে কুরআন খতম করা একটি কাঙ্ক্ষিত ও শরিয়তসম্মত আমল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) কে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, যিনি প্রতিদিন একবার খতম করতেন। তিনি তাঁকে বললেন, প্রতি মাসে একবার খতম করতে। তাই কোনো পুরুষ বা নারী যদি প্রতি মাসে খতমের রুটিন ঠিক করেন তবে তা উত্তম ও শরিয়তসম্মত, যার নির্দেশ নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) দিয়েছেন। আর কেউ এর চেয়ে কম বা বেশি সময়ে খতম করলেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে উত্তম হলো সাত দিনের কম সময়ে খতম না করা। কারও যদি বেশি পরিশ্রমের আগ্রহ থাকে এবং তিনি সাত দিনে খতম করতে চান, তাতে কোনো বাধা নেই।” [ফতোয়া নূরুন আলাদ দারব, শাইখ বিন বায]
▪️ইমাম নওয়াবি উল্লেখ করেছেন,
أَنَّ الْمُخْتَارَ اخْتِلَافُ ذَلِكَ بِحَالِ النَّاسِ. قَالَ السُّيُوطِيُّ فِي «الْإِتْقَانِ»: أَخْرَجَ ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ: كَانَ أَقْوِيَاءُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ فِي سَبْعٍ، وَبَعْضُهُمْ فِي شَهْرٍ، وَبَعْضُهُمْ فِي شَهْرَيْنِ، وَبَعْضُهُمْ فِي أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ. اهـ
“নির্বাচিত মত হলো, এ বিষয়ে সময়ের পরিমাণ মানুষের অবস্থাভেদে ভিন্ন হয়। ইমাম সুয়ূতি আল-ইতকান গ্রন্থে বলেন: ইবনে আবু দাউদ মাকহূল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবিদের মধ্যে যাঁরা শক্তিশালী ছিলেন, তাঁরা সাত দিনে কুরআন পড়তেন। তাঁদের কেউ কেউ এক মাসে, কেউ কেউ দুই মাসে এবং কেউ কেউ তার চেয়েও বেশি সময়ে পড়তেন।”
▪️ কীভাবে সহজে মাসে একবার খতম করবেন?
প্রতিদিন এক পারা করে তিলাওয়াত করলে ৩০ দিনে ৩০ পারা শেষ হয়। প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর চার পৃষ্ঠা করে পড়লে একদিনে এক পারা (প্রায় ২০ পৃষ্ঠা) সহজেই হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করার এবং তা বোঝার তাওফিক দিন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
Share: