আরবি ভাষা শেখার সহজ কৌশল: শব্দার্থ ও মাসদার মুখস্থের উপায়
প্রশ্ন: কীভাবে পড়াশোনা করে আরবি ভাষা আয়ত্ত করা সহজ হবে? আমার কাছে শব্দার্থ মুখস্থ করা আর ফেলের মাসদার মুখস্থ করা অনেক কঠিন লাগছে। কিছু পরামর্শ দিবেন ইনশা আল্লাহ। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
উত্তর: আরবি ভাষা শেখার শুরুতে শব্দার্থ এবং ফেলের মাসদার (ক্রিয়ামূল) মুখস্থ করা কঠিন মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে কৌশল পরিবর্তন করলে এই কঠিন বিষয়টি অনেক সহজ এবং আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে আশা করি ইনশাআল্লাহ। আরবি ভাষা শিক্ষাকে সহজ করার জন্য নিচে কিছু কার্যকরী পরামর্শ দেওয়া হলো:
❑ ১. মুখস্থ না করে ‘ব্যবহার’ ও ‘প্রয়োগ’ শিখুন:
✪ শব্দার্থ মুখস্থ করার চেয়ে শব্দের ব্যবহার শেখা বেশি কার্যকর।
✪ একটি একক শব্দ (যেমন: কিতাব) বা মাসদার মুখস্থ না করে সেটি দিয়ে ছোট একটি বাক্য তৈরি করুন। যেমন: هَذَا كِتَابٌ جَدِيدٌ (হাযা কিতাবুন জাদীদুন) “এটি একটি নতুন বই”।
✪ বাস্তব জীবনের সাথে মেলান। ঘরের ভেতরের জিনিসপত্র, আপনার প্রতিদিনের কাজ ইত্যাদিকে আরবি শব্দের সাথে মিলিয়ে মনে রাখার চেষ্টা করুন।
❑ ২. মাসদার এবং ফে’ল শেখার সহজ কৌশল:
আরবি ভাষার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এর মিজান (প্যাটার্ন বা ওজন)। আপনি যদি একটি মূল প্যাটার্ন ধরে ফেলেন তবে শত শত শব্দ নিজে থেকেই বুঝতে পারবেন।
✪ সুতরাং ফে’লটির ওজন (Pattern) বুঝুন। যেমন: فَاعِلٌ (ফাইলুন, কর্তা) বা مَفْعُولٌ (মাফউলুন, যাকে করা হয়েছে) এই প্যাটার্নগুলো আয়ত্ত করুন।
আপনি যদি ‘নাসারা’ (সে সাহায্য করেছে) জানেন তবে এই প্যাটার্ন দিয়ে ‘নাসিরুন’ (সাহায্যকারী) এবং ‘মানসুরুন’ (সাহায্যপ্রাপ্ত) সহজেই বের করতে পারবেন।
✪ প্রতিদিন ১০টি ভিন্ন ভিন্ন মাসদার মুখস্থ না করে একই ওজনের বা একই বাবের (Group) কয়েকটি ফে’ল একসাথে পড়ুন। এতে মস্তিষ্কের জন্য মনে রাখা সহজ হয়।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মাদ্রাসার পাঠ্য বইগুলোর মধ্যে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি বই হল, ‘সফওয়াতুল মাসাদির।’ এ বইটির বাংলা ভার্সন কিনতে পারেন।
❑ ৩. আধুনিক অ্যাপের ব্যবহার:
ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্য নিলে পড়া অনেক দ্রুত মুখস্থ হয়।
আরবি শেখার জন্য এই দুটি অ্যাপ যথেষ্ট কার্যকর:
১. Anki
২ Quizlet
এই অ্যাপগুলোতে ‘স্পেসড রেপিটিশন’ (Spaced Repetition) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যে শব্দগুলো আপনার কঠিন লাগে অ্যাপটি আপনাকে সেগুলো বারবার দেখাবে। আর সহজগুলো কম দেখাবে।
✪ কাগজের ছোট টুকরোর একপাশে আরবি শব্দ বা মাসদার এবং অপর পাশে তার অর্থ লিখে রাখতে পারেন। পকেটে বা ভ্যানিটি ব্যাগে নিয়ে ঘুরলে অবসরে সহজেই চোখ বুলিয়ে নেওয়া যায়।
❑ ৪. প্রতিদিন অল্প করে পড়া এবং ‘মুরাজাআহ’ (রিভিশন):
একদিন অনেক বেশি পড়ার চেয়ে প্রতিদিন অল্প কিন্তু নিয়মিত পড়া বেশি কার্যকর।
✪ প্রতিদিন মাত্র ৫টি শব্দ বা ২টি মাসদার শিখুন। তবে আপনার স্মৃতিশক্তি বা আগ্রহের উপরে ভিত্তি করে কম-বেশি করতে পারেন। তবে একসাথে খুব বেশি না করাই ভালো।
✪ নতুন শব্দ শেখার আগে আগের দিনের পড়া অন্তত একবার রিভিশন দিন।
সপ্তাহে একদিন শুধু রিভিশনের জন্য রাখুন।
❑ ৫. শোনা এবং পড়ার অভ্যাস:
ভাষার সাথে যত বেশি যুক্ত থাকবেন শব্দগুলো তত দ্রুত মাথায় গেঁথে যাবে।
✪ শিশুদের জন্য লেখা সহজ আরবি গল্পের বই বা ‘কাসাসুন নাবিয়্যিন’-এর মতো সহজ কিতাব পড়তে পারেন। সেখানে একই শব্দ ও মাসদার বারবার ঘুরেফিরে আসে, যা নিজে থেকেই মুখস্থ হয়ে যায়।
✪ ভালো কোনো আরবি শিক্ষকের লেকচার বা সহজ আরবি অডিও শুনুন।
সর্বোপরি ধৈর্য হারাবেন না। ভাষা শেখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
উল্লেখ্য যে, আরবি ভাষায় ব্যুৎপত্তি থাকা ভালো। কিন্তু ভাষা চর্চা করতে গিয়ে যেন শরিয়তের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান, যেমন: বিশুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষা, কুরআন মুখস্থ ও তাফসির পাঠ, তাওহিদ বা আকিদা, ফিকহ, সিরাত, হাদিস ইত্যাদি বিষয় গুরুত্বহীন না হয়ে যায়। বরং আমি মনে করি, একজন সাধারণ জেনারেল শিক্ষিত ব্যক্তির জন্য আরবি ভাষা চর্চার থেকে শরিয়তের জ্ঞান অর্জন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তায়ালা আপনার জন্য দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আরবি ভাষা শেখা সহজ ও বরকতময় করে দিন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।