সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমোজি বা স্টিকার ব্যবহারের শরয়ি বিধান

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমোজি বা স্টিকার ব্যবহারের শরয়ি বিধান, শিষ্টাচার এবং কিছু ইমোজির ব্যাপারে বিশেষ সতর্কবার্তা:
প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি বা পোস্টে বিভিন্ন ধরনের ইমোজি ব্যবহার করার শরয়ি হুকুম কী?
উত্তর: সোশ্যাল মিডিয়ায় (যেমন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার) লেখালেখি বা চ্যাটিংয়ের সময় ইমোজি ব্যবহারের বৈধতা মূলত এর ধরন ও ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে।
ইমোজি ব্যবহারের হুকুমকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
❑ ১. সাধারণ বা প্রতীকী ইমোজি:
যেসব ইমোজিতে মানুষের স্পষ্ট বা পূর্ণাঙ্গ চেহারা থাকে না বরং কেবল কিছু রেখা বা চিহ্নের মাধ্যমে হাসিমুখ, কান্নামুখ বা অন্যান্য অনুভূতি প্রকাশ করা হয় (যেমন ☺️, 😉, 😭, 👍), সেগুলো ব্যবহারের সাধারণ অনুমতি রয়েছে। কারণ ইসলামে প্রাণীর ছবি বা ভাস্কর্য তৈরি ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ হলেও ফকিহদের মতে এই প্রতীকী ইমোজিগুলো কোনো বাস্তবসম্মত প্রাণীর ছবি বা পূর্ণাঙ্গ অবয়বের অন্তর্ভুক্ত নয়। এগুলো মূলত মানুষের মনের ভাব প্রকাশের সংক্ষিপ্ত আধুনিক রূপ বা সংকেতমাত্র। সমসাময়িক অনেক আলেমের মতে, এগুলো ডিজিটাল চিহ্ন হওয়ায় নিষিদ্ধ ছবির অন্তর্ভুক্ত হবে না। অনুরূপভাবে যেসব ইমোজিতে অশ্লীলতার ইঙ্গিত, বিধর্মীদের ধর্মীয় প্রতীক বা ইসলামের নৈতিকতা ও যেগুলো মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক নয় সেগুলো ব্যবহারে কোনও বাধা নেই ইনশাআল্লাহ।
❑ ২. স্পষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ অবয়ববিশিষ্ট ইমোজি:
যেসব ইমোজি বা স্টিকারে মানুষের পূর্ণাঙ্গ শরীর, হাত-পা বা জীবন্ত কোনো প্রাণীর স্পষ্ট ছবি ফুটিয়ে তোলা হয় (যেমন মানুষের নাচ বা দৌড়ানোর স্টিকার, বিড়াল, কুকুর বা অন্যান্য জীবন্ত প্রাণীর ইমোজি), সেগুলো বর্জন করা জরুরি। কেননা হাদিসে স্পষ্ট চেহারা বা অবয়ববিশিষ্ট প্রাণীর ছবি আঁকা বা প্রদর্শনের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
إِنَّ أَشَدَّ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمُصَوِّرُونَ
“কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে ছবি প্রস্তুতকারীরা।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৫২]
অন্য হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ تَصَاوِيرُ
“ফেরেশতারা সেই ঘরে প্রবেশ করেন না, যে ঘরে কোনো কুকুর বা (প্রাণীর) ছবি থাকে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২২৫)
❑ ৩. ভিন্ন ধর্মের প্রতীক, অশ্লীল বা নিষিদ্ধ বিষয়ের ইমোজি:
দৈনন্দিন যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইমোজি বহুল ব্যবহৃত হলেও এমন কিছু ইমোজি রয়েছে, যেগুলো সরাসরি শিরক, কুফর, হারাম বস্তু কিংবা অকল্যাণকর বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো ব্যবহার করা হারাম।
ক. শিরক ও অন্য ধর্মের উপাসনা বা উপাস্য সম্পর্কিত ইমোজি:
যেসব প্রতীক অন্য ধর্মের উপাস্য, তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি বা পৌত্তলিক বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে সেগুলো ব্যবহার জায়েজ নেই। যেমন:
● ওম (🕉️): হিন্দু ধর্মের পবিত্র ও প্রধান প্রতীক, যা তাদের উপাসনার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
● অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক (☸️, ☯️, 🕎, 🔯, ⛩️): বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মচক্র, তাওবাদের ইয়িন-ইয়াং, ইহুদি ধর্মের মেনোরাহ বা স্টার অব ডেভিড এবং শিন্তো ধর্মের তোরি তোরণ। এসব ইমোজি ভিন্ন ধর্মের স্থান বা বিশ্বাসের রূপক সুতরাং মুসলিম হিসেবে এগুলো ব্যবহার থেকে দূরে থাকা অপরিহার্য।
● প্রতিমা বা মূর্তিসদৃশ প্রতীক (🗿): প্রাচীন পৌত্তলিক মোয়াই মূর্তি, যা মূর্তিপূজার প্রতীকী রূপ তুলে ধরে।
খ. ভাগ্যগণনা, জ্যোতিষশাস্ত্র ও গায়েবি বিশ্বাসের ইমোজি:
ইসলামে হাত দেখা, রাশিফল বা ভবিষ্যৎ গণনার মতো বিষয় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন,
«مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ، لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً»
“যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গেল এবং তাকে কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল তার চল্লিশ দিন তার সালাত কবুল হবে না।” [সহিহ মুসলিম: ২২৩]
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেন,
«مَنْ أَتَى كَاهِنًا، أَوْ عَرَّافًا، فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
“যে ব্যক্তি কোনো গণক বা ভবিষ্যৎবক্তার কাছে গেল এবং সে যা বলে তা সত্য বলে বিশ্বাস করল, সে যেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে, তার সঙ্গে কুফরি করল।” [মুসনাদে আহমাদ: ৯৫৩৬]
● রাশিচক্রের প্রতীকসমূহ (♈, ♉, ♊, ♋, ♌, ♍, ♎, ♏, 🏹, ♑, ♒, ♓): বারোটি রাশিফল ও জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্বাস প্রকাশ করে, যা ইসলামি আকিদা পরিপন্থী।
● জাদুকরি ও ভাগ্যগণনার সরঞ্জাম (🔮): স্ফটিক বল বা ক্রিস্টাল বল, যা জাদুটোনা, গায়েবি খবর জানার দাবি ও ভবিষ্যৎ গণনায় ব্যবহৃত হয়।
গ. হারাম পানীয়, খাদ্য ও নিষিদ্ধ বস্তু:
যেসব বস্তু ইসলামে স্পষ্টভাবে হারাম সেগুলোর কোনো রূপক ব্যবহার বা প্রচার করা জায়েজ নাই। যেমন:
● মদের বোতল ও ককটেল (🍾, 🍷, 🍸, 🍹): যেকোনো ধরনের মদ বা নেশাজাতীয় পানীয়ের প্রতীক।
● শূকর বা শূকরের মুখ (🐖, 🐷, 🥓): শূকর ও শূকরের গোশত (বেকন) সংক্রান্ত প্রতীক।
◈ ঘ. গায়েব, জাদু ও অশুভ লোকবিশ্বাস সম্পর্কিত ইমোজি:
● জাদুকরি ক্ষমতার প্রতীক (🧙, 🧙‍♂️, 🧙‍♀️): জাদুবিদ্যা ও জাদুকর সম্পর্কিত ইমোজি, যা ইসলামি আকিদার পরিপন্থী।
● অশুভ চোখ বা বদনজর থেকে বাঁচার প্রতীক নজর তাবিজ (🧿): ইসলামে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে ক্ষতি থেকে বাঁচার বিশ্বাস করা বা এ জাতীয় কুসংস্কারমূলক জিনিস ব্যবহার নিষিদ্ধ।
ঙ. অনৈতিক ও শালীনতাবিরোধী আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি:
● মধ্যমা আঙুল বা অশালীন হাত (🖕): অশ্লীল ও অনৈতিক অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনকারী প্রতীক।
● সমকামিতা বা সমকামী সম্পর্কের প্রতীক (🏳️‍🌈, 🏳️‍⚧️, 👨‍❤️‍👨, 👩‍❤️‍👩): ইসলামে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ও কবিরা গুনাহ হিসেবে ঘোষিত আচার-আচরণ ও জীবনরীতির প্রতিনিধিত্বকারী পতাকা ও প্রতীকসমূহের ইমোজি ব্যবহার জায়েজ নেই। মুসলিম হিসেবে নিজের কথা, বার্তা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা আবশ্যক, যাতে অজান্তেও কোনো শিরকি, হারাম বা অশালীন বিষয় ব্যবহার না করি।
◈ চ. জুয়া, অনৈতিক ইঙ্গিত ও অশ্লীলতাসূচক ইমোজি।
কিছু উদাহরণ:
১. জুয়া ও হারাম কাজের প্রচারমূলক ইমোজি। অনলাইন ক্যাসিনো, বেটিং বা জুয়ার বিজ্ঞাপনে সাধারণত এই ইমোজিগুলো দেখা যায়:
🎰 ক্যাসিনো/স্লট মেশিন: জুয়া বা স্লট গেম বোঝাতে সর্বাধিক ব্যবহৃত।
🎲 পাশা/ডাইস: যেকোনো ধরনের বাজি বা ভাগ্যের খেলার প্রচারণায় ব্যবহৃত।
🃏 জোকার/তাসের কার্ড: তাস খেলা বা জুয়ার বোর্ড গেমের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত।
🎴 ফ্লাওয়ার কার্ড: জাপানি বা এশীয় ঐতিহ্যবাহী বেটিং গেমে দেখা যায়।
💸 / 🤑 / 💰 উড়ন্ত টাকা বা টাকার থলি: সহজে অর্থ আয় বা জুয়ায় জয়ের লোভ দেখানোর প্রতীক।
২. অশ্লীল ইশারা বা অঙ্গভঙ্গিসূচক ইমোজি সরাসরি অভদ্র বা অশালীন ইঙ্গিত দিতে ডিজিটাল যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়:
🖕 মধ্যমা অঙ্গুলি: সরাসরি অভদ্র ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির প্রতীক।
🍑 পিচ/ফল: নিতম্ব নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত।
🍆 বেগুন: পুরুষের যৌনাঙ্গ বোঝাতে অশালীন ইঙ্গিতে ব্যবহৃত।
🍌 কলা: অনৈতিক বা সস্তা ইঙ্গিতে ব্যবহৃত আরেকটি ফলভিত্তিক ইমোজি।
💦 পানির ফোঁটা: শারীরিক সম্পর্কের অশালীন ইঙ্গিত প্রকাশে ব্যবহৃত।
এগুলো হারাম উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা জায়েজ নয়।
৩. অশালীন অনুভূতি প্রকাশক ইমোজির সংমিশ্রণ একক ইমোজির পাশাপাশি একাধিক ইমোজি একত্রে ব্যবহার করেও অশালীন বার্তা বা প্ররোচনা প্রকাশ করা হয়:
🍆💦 — অশালীন শারীরিক ইঙ্গিত বোঝাতে।
👈👌 — অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কের সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত অশালীন হাতের ইঙ্গিত।
🍑👋 — অশালীন অঙ্গভঙ্গি বা অনৈতিক আচরণের প্রকাশ।
🎰💸 — “জুয়া খেলে কোটিপতি হওয়া যায়” জাতীয় লোভনীয় বিজ্ঞাপনী বার্তা।
এ জাতীয় যেকোনো অশ্লীল ইশারা বা অশালীন অনুভূতিসূচক ইমোজি এড়িয়ে চলা কর্তব্য।
❑ ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জরুরি শিষ্টাচার ও সতর্কতা:
জায়েজ ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একজন মুসলিমকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে:
১) কাউকে অপমান, উপহাস বা হেয় করার উদ্দেশ্যে ইমোজি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ; যেমন কারও গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট বা যৌক্তিক মন্তব্যে অবজ্ঞাসূচক হাসির ইমোজি দেওয়া।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে কাউকে উপহাস করতে নিষেধ করেছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ
“হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর কোনো পুরুষকে উপহাস না করে…।” [সুরা হুজুরাত: ১১]
২) ফিতনা এড়াতে গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের পারস্পরিক চ্যাটিং বা মন্তব্যের ঘরে আবেগঘন বা ভালোবাসাসূচক ইমোজি (যেমন: ❤️, 😘, 😍) ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে ফিতনা ও অনৈতিকতার পথ সুগম হয়।
৩) অকারণে অতিরিক্ত ইমোজি ব্যবহার করা অনুচিত; একজন মুমিনের কথাবার্তা ও লেখায় গাম্ভীর্য ও শালীনতা বজায় থাকা বাঞ্ছনীয়।
সারকথা, যেসব ইমোজিতে ফিতনা, অশ্লীলতা, অন্য ধর্মের প্রতীক বা মানুষের স্পষ্ট অবয়ব নেই সাধারণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সেসব প্রতীকী ইমোজি ব্যবহার করা জায়েজ। তবে তাকওয়ার খাতিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমোজি বা স্টিকারের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলাই উত্তম। আল্লাহু আলাম।
◯ শাইখ আব্দুল আজিজ ফারহান:
হোয়াটসঅ্যাপের ইমোজি ও ফেরেশতা নির্দেশক প্রতীকের ব্যবহার সংক্রান্ত বিধান:
প্রশ্ন: হোয়াটসঅ্যাপে যেসব ইমোজি বা প্রতীক ব্যবহার করা হয় যেমন বিভিন্ন ধরণের মুখাবয়ব, কিংবা ফেরেশতা বোঝাতে ডানাওয়ালা কোনো মেয়ের ছবি…এগুলো আদান-প্রদান করার বিষয়ে শরিয়তের বিধান কী?
উত্তর: প্রিয় বোন, বারাকাল্লাহ ফীক (আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন)। হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসেজ কিংবা অনুভূতির ভাব প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ ইমোজি বা প্রতীকী মুখাবয়ব পাঠাতে কোনো সমস্যা নেই। যদিও কিছু আলেম এটিকে নিষিদ্ধ মনে করেন তবে অধিকতর স্পষ্ট ও সঠিক মত হলো, এটি ব্যবহারে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ এসব ইমোজি কোনো প্রাণী বা মানুষের প্রকৃত ছবি বা প্রতিচ্ছবি নয়। এগুলো মূলত কয়েকটি সাধারণ রেখা ও বিন্দুর সমষ্টি, যার মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে চোখ, নাক বা মুখের ইঙ্গিত করা হয় মাত্র। বাস্তবে মানুষের চেহারা যেভাবে গঠিত হয়, এটি মোটেও সেরকম নয়। তাই সাধারণ অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ইমোজি ব্যবহারে কোনো বাধা নেই। তবে ফেরেশতাদের প্রসঙ্গ বোঝাতে দুই ডানাওয়ালা কোনো মেয়ের ছবি বা ইমোজি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ।
ফেরেশতাদেরকে নারী রূপ দেওয়া বা আল্লাহর কন্যা মনে করা মুশরিকদের ভ্রান্ত আকিদা। কাফের-মুশরিকদের এই অসত্য ধারণাকে সমর্থন করে ফেরেশতা বোঝাতে ডানাওয়ালা নারীর ছবি ব্যবহার করা কোনো মুসলিমের জন্য জায়েজ হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ সেইসব মুশরিকদের চরম নিন্দা করেছেন, যারা ফেরেশতাদেরকে নারী হিসেবে গণ্য করত এবং আল্লাহর সাথে কন্যাসন্তান সম্পর্কিত করত।
তাছাড়া ফেরেশতাদের প্রকৃত গঠন আমাদের অজানা নয়। আল্লাহ তাআলা তাদের দুই, তিন, চার বা ততোধিক ডানা দান করেছেন; এমনকি হযরত জিবরিল (আলাইহিস সালাম)-এর ছয়শত ডানা রয়েছে। কাজেই কাল্পনিক কোনো নারীর ছবি দিয়ে ফেরেশতা রূপায়ন করা একাধারে মিথ্যাচার ও আকিদাগত অপরাধ। তাই সাধারণ ইমোজি ব্যবহারে শিথিলতা থাকলেও, ফেরেশতাদের প্রতীক হিসেবে ডানাওয়ালা নারীর ছবি ব্যবহার করা থেকে সম্পূর্ণ সতর্ক ও বিরত থাকা আবশ্যক।” [সোর্স: ইউটিউব চ্যানেল: قناة منهج الحق]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: