পুরুষ শিক্ষক কর্তৃক মেয়েদের (অনলাইনে কিংবা অফলাইনে) পাঠদান করার বিধান। সৌদি আরবের দাওয়াহ, গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি।
প্রশ্ন: সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির ফতওয়ায় বলা হয়েছে: “কোনো পুরুষের জন্য মেয়েদেরকে সরাসরি (সামনাসামনি) পাঠদান করা বৈধ নয়। কারণ এতে রয়েছে বিশাল বিপদ ও ভয়াবহ পরিণতি।” [ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ, ১২/১৮২] এই লেখাটা বা এমন কিছু লেখা কিছু বোন অনলাইনে প্রচার করছে। এই কথার প্রকৃত অর্থ কী? মেয়েরা কি কোনো পুরুষ আলেমের কাছে ইলম নিতে পারবে যদি পর্দার ব্যবস্থা থাকে বা ফেতনার আশঙ্কা না করে? দয়া করে এর সঠিক ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়ে সবাইকে উপকৃত করবেন।
উত্তর: সৌদি আরবের সৌদি আরবের দাওয়াহ, গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ)-এর উপরোক্ত ফতওয়াটির মর্মার্থ পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝা যায় তাদের বিস্তারিত ফতওয়ায়।
তাই এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ ফতওয়াটি প্রদান করা হলো:
ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ-তে এসেছে:
لَا يَجُوزُ لِلرَّجُلِ تَدْرِيسُ الْبَنَاتِ مُبَاشَرَةً؛ لِمَا فِي ذَلِكَ مِنَ الْخَطَرِ الْعَظِيمِ وَالْعَوَاقِبِ الْوَخِيمَةِ
“কোনো পুরুষের জন্য মেয়েদেরকে সরাসরি পাঠদান করা জায়েজ নয়। কেননা এতে রয়েছে বিরাট বিপদ ও ভয়াবহ পরিণতি।” [ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা: ১২/১৪۹]
◈ أَوَّلًا: الِاخْتِلَاطُ بَيْنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ فِي الْمَدَارِسِ أَوْ غَيْرِهَا مِنَ الْمُنْكَرَاتِ الْعَظِيمَةِ، وَالْمَفَاسِدِ الْكَبِيرَةِ فِي الدِّينِ وَالدُّنْيَا، فَلَا يَجُوزُ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تُدَرِّسَ أَوْ تَعْمَلَ فِي مَكَانٍ مُخْتَلَطٍ بِالرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ، وَلَا يَجُوزُ لِوَلِيِّهَا أَنْ يَأْذَنَ لَهَا بِذَلِكَ.
◈ ثَانِيًا: لَا يَجُوزُ لِلرَّجُلِ أَنْ يُعَلِّمَ الْمَرْأَةَ وَهِيَ لَيْسَتْ مُتَحَجِّبَةً، وَلَا يَجُوزُ أَنْ يُعَلِّمَهَا خَالِيًا بِهَا وَلَوْ كَانَتْ بِحِجَابٍ شَرْعِيٍّ، وَالْمَرْأَةُ عِنْدَ الرَّجُلِ الْأَجْنَبِيِّ عَنْهَا كُلُّهَا عَوْرَةٌ، أَمَّا سَتْرُ الرَّأْسِ وَإِظْهَارُ الْوَجْهِ فَلَيْسَ بِحِجَابٍ كَامِلٍ.
◈ ثَالِثًا: لَا حَرَجَ فِي تَعْلِيمِ الرَّجُلِ الْمَرْأَةَ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ فِي مَدَارِسَ خَاصَّةٍ بِالنِّسَاءِ، لَا اخْتِلَاطَ فِيهَا بَيْنَ الطُّلَّابِ وَالطَّالِبَاتِ، وَلَا الْمُعَلِّمِ وَالْمُتَعَلِّمَاتِ. وَإِنِ احْتَجْنَ لِلتَّفَاهُمِ مَعَهُ؛ فَيَكُونُ عَبْرَ شَبَكَاتِ الِاتِّصَالِ الْمُغْلَقَةِ، وَهِيَ مَعْرُوفَةٌ وَمُتَيَسِّرَةٌ، أَوْ عَبْرَ الْهَاتِفِ، لَكِنْ يَجِبُ أَنْ يُحَذَّرَ الطَّالِبَاتُ مِنَ الْخُضُوعِ بِالْقَوْلِ بِتَحْسِينِ الْكَلَامِ وَتَلْيِينِهِ.
❑ উপরোক্ত ফতওয়ার সারাংশ হল:
১. আড়াল বা পর্দা ছাড়া পুরুষ শিক্ষক কর্তৃক মেয়েদের সরাসরি পাঠদান করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের অবাধ মিশ্রণ শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। এমনকি পূর্ণাঙ্গ শরয়ী পর্দা থাকা সত্ত্বেও কোনো নারীর সাথে একান্তে বা নির্জনে অবস্থান করে পড়ানো জায়েজ নয়।
২. শুধু নারীরা আছে এমন পরিবেশে পর্দার আড়াল থেকে কিংবা ইন্টারকম ও ফোনে (বর্তমান যুগে বিভিন্ন মেসেজিং প্লাটফর্ম) পুরুষ শিক্ষক পাঠদান করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে ছাত্রীদের কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর কোমল বা আকর্ষণীয় করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কেবল প্রয়োজন সাপেক্ষেই যোগাযোগ করা যাবে। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।