জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠের সঠিক সময় রাত নাকি দিন

সূরা কাহফ পাঠ করা জুমার দিনের অন্যতম একটি সুন্নাহ সম্মত আমল। তা জুমার রাতে অথবা দিনে সুবিধাজনক যে কোন সময়ে এক বা একাধিক বৈঠকে পড়া যায়। চাই অর্থসহ পড়া হোক কিংবা অর্থ ছাড়া—এতে কোন সমস্যা নেই। কতিপয় আলেম জুমার রাতে নয় বরং দিনে পড়ার কথা বলেছেন। কিন্তু গ্রহণযোগ্য সনদে মাউকুফ হাদিস দ্বারা রাতে পড়ার বিষয়টিও প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া আমরা জানি, চাঁদের হিসেবে জুমার রাত শুরু হয় বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে এবং জুমার দিন শেষ হয় শুক্রবার সূর্যাস্তের মাধ্যমে। অতএব দলিল এবং যুক্তির নিরিখে এটি পাঠের গ্রহণযোগ্য সময়সীমা হলো, বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
🔸 মুহাদ্দিস শাইখ আলবানি (রহ.)-এর বিশিষ্ট ছাত্র মুহাদ্দিস শাইখ মাশহুর ইবনে হাসান আলে সালমান (হাফিযাহুল্লাহ):
প্রশ্ন: শুক্রবারের রাতে সূরা কাহফ পড়া কি শুক্রবার দিনে পড়ার পরিবর্তে যথেষ্ট হবে?
উত্তর: “হ্যাঁ, জুমার দিন সম্পর্কে প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহে কোনো কোনোটিতে “يوم الجمعة” (জুমার দিন) এবং কোনো কোনোটিতে “ليلة الجمعة” (জুমার রাত) উল্লেখ এসেছে।
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাউকুফ আছারে এসেছে:
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا أَبُو هَاشِمٍ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: “مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ”.
“যে ব্যক্তি জুমার রাতে সূরা কাহফ পাঠ করবে তার এবং বাইতুল আতিক (কাবা)-এর মধ্যবর্তী স্থান তার জন্য আলোকিত হয়ে যাবে।” [দারিমি, ৩৪৫০; ইরওয়াউল গালীল, ৩/৯৪]
শাইখ আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) ইরওয়াউল গালিলে বলেন:
قُلْتُ: وَهَذَا سَنَدٌ صَحِيحٌ رِجَالُهُ كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ رِجَالُ الشَّيْخَيْنِ، وَأَبُو النُّعْمَانِ وَإِنْ كَانَ تَغَيَّرَ فِي آخِرِهِ فَقَدْ تَابَعَهُ سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ كَمَا تَقَدَّمَ، ثُمَّ هُوَ وَإِنْ كَانَ مَوْقُوفًا، فَلَهُ حُكْمُ الْمَرْفُوعِ؛ لِأَنَّهُ مِمَّا لَا يُقَالُ بِالرَّأْيِ كَمَا هُوَ ظَاهِرٌ.
“আমি বলছি, এটি একটি সহিহ সনদ। এর সমস্ত বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য এবং ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের (সহীহাইন-এর) বর্ণনাকারী। আবু নু’মান জীবনের শেষভাগে কিছুটা স্মৃতিবিভ্রাটের শিকার হলেও সাঈদ ইবনে মানসুর তার সমর্থনসূচক বর্ণনা (মুতাবায়াত) উপস্থাপন করেছেন, যা পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। এছাড়া, রেওয়ায়াতটি ‘মাওকুফ’ (সাহাবির উক্তি) হিসেবে বর্ণিত হলেও এটি ‘মারফু’ (রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী)-এর হুকুম রাখে। কারণ এটি এমন একটি বিষয় যা কেবল নিজস্ব মতামত বা বুদ্ধিবলে বলা সম্ভব নয়, যেমনটি স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে।” সুতরাং যে ব্যক্তি জুমার দিনে অথবা জুমার রাতে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য তা যথেষ্ট হবে।”
وَاللهُ تَعَالَى أَعْلَمُ
— শাইখ মাশহুর ইবনে হাসান আলে সালমান (হাফিযাহুল্লাহ)
(মাজলিসে ফাতাওয়াল জুমুআহ, ২১ রবিউস সানি, ১৪৪০ হিজরি / ২৮-১২-২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ) [meshoor]
▪️ইমাম মুনাবি (রাহ.) বলেন:
قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي “أَمَالِيهِ”: كَذَا وَقَعَ فِي رِوَايَاتِ “يَوْمِ الْجُمُعَةِ” وَفِي رِوَايَاتِ “لَيْلَةِ الْجُمُعَةِ”، وَيُجْمَعُ بِأَنَّ الْمُرَادَ الْيَوْمُ بِلَيْلَتِهِ وَاللَّيْلَةُ بِيَوْمِهَا.
“হাফিজ ইবনে হাজার তার ‘আমালি’ গ্রন্থে বলেন: এভাবে কিছু বর্ণনায় ‘يوم الجمعة’ (জুমার দিন) এবং কিছু বর্ণনায় ‘ليلة الجمعة’ (জুমার রাত) এসেছে। এর সমন্বয় এভাবে করা হয় যে, দিন বলতে তার রাতসহ এবং রাত বলতে তার দিনসহ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে।” [ফাইদুল কাদির, ৬/১৯৯]
ইমাম মুনাবি (রাহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন:
فَيُنْدَبُ قِرَاءَتُهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَكَذَا لَيْلَتَهَا كَمَا نَصَّ عَلَيْهِ الشَّافِعِيُّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ
“সুতরাং জুমার দিনে এবং তার রাতেও সূরা কাহফ পাঠ করা মুস্তাহাব, যেমনটি ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।” [ফাইদুল কাদির, ৬/১৯৮] [Islamqa info]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ,‌ জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: