কেউ ইসলাম ভঙ্গকারী কোনো কাজের মাধ্যমে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হলে সে কীভাবে পূণরায় ইসলামে ফিরে আসবে

কেউ ইসলাম বা ইমান ভঙ্গকারী (নাওয়াকিজুল ইসলাম) কোনও কাজ করে ফেললে সে কীভাবে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসবে? নিম্নে এ বিষয়ে শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)-এর দেওয়া উত্তর পেশ করা হলো:
শাইখকে প্রশ্ন করা হয়, কেউ যদি ইসলাম ভঙ্গকারী কোনো কাজ (নাওয়াকিদুল ইসলাম) করে ফেলে তবে সে কীভাবে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসবে?
উত্তরে তিনি বলেন,
التَّوْبَةُ، بَابُ التَّوْبَةِ مَفْتُوحٌ، إِذَا وَقَعَ فِي نَاقِضٍ؛ فَعَلَيْهِ أَنْ يَرْجِعَ إِلَى الإِسْلَامِ بِالتَّوْبَةِ، يَنْدَمُ عَلَى الْمَاضِي، وَيَعْزِمُ أَلَّا يَعُودَ، وَيَتْرُكَ هَذَا النَّاقِضَ، فَإِذَا كَانَ كُفْرُهُ بِدُعَاءِ الْأَمْوَاتِ، وَالِاسْتِغَاثَةِ بِالْأَمْوَاتِ وَالْأَصْنَامِ؛ تَرَكَ ذَلِكَ، وَتَابَ إِلَى اللهِ مِنْ ذَلِكَ، وَبِهَذَا يَرْجِعُ إِلَى الإِسْلَامِ، إِلَّا إِذَا كَانَ كُفْرُهُ بِأَنَّهُ جَحَدَ وُجُوبَ الصَّلَاةِ؛ يُقِرُّ، يَقُولُ: لَا، أَنَا غَلْطَانُ، الصَّلَاةُ فَرْضٌ عَلَى الْمُكَلَّفِينَ، وَأَتُوبُ إِلَى اللهِ مِنْ ذَلِكَ، وَيَنْدَمُ، وَيُقْلِعُ، وَيَعْزِمُ أَلَّا يَعُودَ، يَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ، أَوْ كَانَ يَتْرُكُ الصَّلَاةَ لَا يُصَلِّي، فَالتَّوْبَةُ أَنْ يَفْعَلَ الصَّلَاةَ، وَيَنْدَمَ عَلَى الْمَاضِي، وَيَسْتَغْفِرَ مِمَّا مَضَى، وَيَعْزِمَ أَلَّا يَعُودَ فِيهِ، وَهَذِهِ التَّوْبَةُ. كَذَلِكَ إِذَا كَانَ كُفْرُهُ؛ لِأَنَّهُ يَقُولُ: الزِّنَا حَلَالٌ، فَإِذَا تَابَ وَقَالَ: لَا، الزِّنَا حَرَامٌ، وَأَنَا أَتُوبُ إِلَى اللهِ، وَأَسْتَغْفِرُ اللهَ، وَقَدْ أَخْطَأْتُ، وَاللهُ يَعْلَمُ مِنْ قَلْبِهِ أَنَّهُ صَادِقٌ؛ يَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِ، وَهَكَذَا
“তওবা করবে। তওবার দরজা সবসময় খোলা। কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হয় যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় তবে তাকে অবশ্যই তওবার মাধ্যমে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসতে হবে। এর অর্থ হলো:
– অতীতের কাজের জন্য মনে মনে লজ্জিত হওয়া।
– ভবিষ্যতে আর কখনোই এমন কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
– যে কাজটি কুফরির কারণ হয়েছিল তা অবিলম্বে বর্জন করা।
কিছু উদাহরণ:
যদি কেউ মৃত ব্যক্তি বা প্রতিমার কাছে বিপদ-আপদে সাহায্য প্রার্থনা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হয় তবে তাকে তা ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। এভাবে সে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসবে।
যদি তার কুফরি এমন হয় যে, সে নামাজের ফরজ হওয়াকে অস্বীকার করেছিল তবে তাকে স্বীকার করতে হবে যে—‘না, আমার ভুল হয়েছে। নামাজ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর ফরজ এবং আমি এর জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করছি।’ এভাবে লজ্জিত হয়ে, নামাজ শুরু করার মাধ্যমে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো অস্বীকার না করার সংকল্প করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
একইভাবে কেউ যদি নামাজ ত্যাগ করে থাকে তবে তার তওবা হলো—অবিলম্বে নামাজ আদায় শুরু করা, অতীতের গাফিলতির জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
আর যদি কেউ এমন কথা বলে যে—‘ব্যভিচার (জিনা) হালাল’ তবে তাকে অবশ্যই বলতে হবে—‘না, ব্যভিচার হারাম। আমি আমার ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করছি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ আল্লাহ যদি তার অন্তরে সততা দেখেন তবে তিনি অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেবেন। [সূত্র: মাজমু ফাতাওয়া, শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ.)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত]
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
Share: