টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখার বিধান কী

প্রশ্ন: নারীদের জন্য টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখা কি জায়েজ?
উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ-সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। টেলিভিশনে ফুটবল খেলা দেখার মধ্যে শরিয়তের দৃষ্টিতে বেশ কিছু আপত্তিকর বিষয় রয়েছে।
– প্রথমত: প্রায় সব খেলাতেই কোনো না কোনোভাবে হারাম বাজি বা জুয়ার সম্পর্ক থাকে।
– দ্বিতীয়ত: এসব খেলায় সতর ঢাকা থাকে না।
আরো থাকে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং গান বাজনা বা মিউজিকের উপস্থিতি। এর বাইরেও এসব খেলা দেখে অনর্থক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
একজন বুদ্ধিমান মানুষের উচিত, তার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য উপকারী বিষয়ে সময় দেওয়া। তাই কোনো মুসলিম পুরুষ বা নারীর জন্য এই ধরনের খেলায় মগ্ন হওয়া ঠিক নয়। বরং দুনিয়া ও আখেরাতে উপকার দেবে এমন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।
🔸ফুটবল বিশ্বকাপ বা এই জাতীয় খেলাধুলার টুর্নামেন্ট (প্রতিযোগিতা) দেখার বিষয়ে সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান:
“مباريات كرة القدم التي على مال أو نحوه من جوائز حرام؛ لكون ذلك قمارًا؛ لأنه لا يجوز أخذ السَّبَق وهو العوض إلا فيما أذن فيه الشرع، وهو المسابقة على الخيل والإبل والرماية، وعلى هذا فحضور المباريات حرام، ومشاهدتها كذلك، لمن علم أنها على عوض؛ لأن في حضوره لها إقرارًا لها. أما إذا كانت المباراة على غير عوض، ولم تشغل عما أوجب الله من الصلاة وغيرها، ولم تشتمل على محظور: ككشف العورات، أو اختلاط النساء بالرجال، أو وجود آلات لهو – فلا حرج فيها ولا في مشاهدتها”
“যেসব ফুটবল খেলায় টাকা-পয়সা বা পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকে সেগুলো হারাম। কারণ তা জুয়ার মধ্যে পড়ে। শরিয়তে শুধু ঘোড়দৌড়, উটের দৌড় এবং তীরন্দাজি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার নেওয়ার অনুমতি আছে। তাই যে খেলায় পুরস্কারের লেনদেন থাকে, তা জানা থাকলে সেখানে উপস্থিত হওয়া বা খেলা দেখা — দুই-ই হারাম। কারণ সেখানে যাওয়া মানেই হলো বিষয়টিকে সমর্থন করা। তবে খেলায় যদি কোনো পুরস্কারের শর্ত না থাকে, নামাজসহ আল্লাহর ফরজ করা কাজগুলো থেকে দূরে না রাখে, এবং সতর খুলে ফেলা, নারী-পুরুষের মেলামেশা বা গান-বাজনার মতো কোনো নিষিদ্ধ বিষয় না থাকে তাহলে খেলা দেখা বা অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”
[ফাতাওয়া আল লাজনাহ আদ দায়িমাহ, ১৫/২৩৮]
🔸বিনোদন ও কোনো দলকে সাপোর্ট করার জন্য নারীদের এই খেলা দেখা যাবে কি না এ বিষয়ে শাইখ ইবনে জিবরিন (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
“لا يجوز مشاهدة المباريات، حيث إن اللاعبين رجال متجردون غالبًا عن اللباس الساتر، وقد يبدو بعض الفخذ، وقد تتمثل العورة وراء اللباس، وذلك فتنة للنساء، ولو كان القصد التسلية ففي الإمكان التسلي بالذكر والقرآن وكتب الحديث والفقه والأحكام”
“এসব খেলা দেখা জায়েজ নয়। কারণ খেলোয়াড়রা সাধারণত পুরো শরীর ঢাকা পোশাক পরে না। অনেক সময় তাদের উরু দেখা যায়। আবার টাইট কাপড়ের কারণেও শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি নারীদের মনকে নষ্ট করার বা ফিতনার কারণ হতে পারে। আর মন ভালো করার বা বিনোদনের যদি দরকার হয় তবে জিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং হাদিস, ফিকহ ও ইসলামের বিধিবিধানের বইপত্র পড়েও আনন্দ পাওয়া সম্ভব।”
[শাইখ ইবনে জিবরিনের ওয়েবসাইট]
🔸টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটবল খেলা দেখার সার্বিক বিধান নিয়ে শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.) কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
“الذي أرى أن مشاهدة الألعاب التي تعرض في التلفاز أو في غيره من المشاهدات أنها مضيعة للوقت, وأن الإنسان العاقل الحازم لا يضيع وقته بمثل هذه الأمور التي لا تعود عليه بفائدة إطلاقًا. هذا إن سلمت من شر آخر, فإن اقترن بها شر آخر بحيث يقوم في قلب المتفرج تعظيم اللاعب الكافر مثلًا, فإن هذا حرام بلا شك, لأنه لا يجوز لنا أن نعظم الكفار أبدًا مهما حصل لهم من التقدم. أو كانت هذه المباراة قد ظهرت فيها أفخاذ شباب يحصل بها فتنة, فإن الراجح عندي أنه لا يجوز للشباب حين لعبهم بالكرة أن يخرجوا أفخاذهم; لما في ذلك من الفتنة, حتى على القول بأن الفخذ ليس بعورة. فلا أرى أن الشاب يخرج فخذه أبدًا. أما إذا قلنا بأن الفخذ عورة كما هو المشهور من مذهب الإمام أحمد, فالأمر في هذا واضح: أنه لا يجوز على كل حال. فالذي أنصح به إخواننا أن يحرصوا على أوقاتهم فإن الأوقات أغلى من الأموال”
“আমার মতে, টেলিভিশন বা অন্য কোনো মাধ্যমে এই ধরনের খেলাধুলা দেখা স্রেফ সময়ের অপচয়। একজন বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল মানুষ এমন কাজে সময় নষ্ট করতে পারে না যা তার কোনো কাজে আসে না। এটা তো ওই সময়ের কথা যখন খেলায় অন্য কোনো মন্দ দিক না থাকে। কিন্তু যদি এর সাথে আরও খারাপ কিছু যোগ হয়—যেমন: দর্শকের মনে কোনো অমুসলিম খেলোয়াড়ের প্রতি ভক্তি বা সম্মান তৈরি হওয়া—তবে তা নিঃসন্দেহে হারাম। কারণ অমুসলিমরা দুনিয়ার কাজে যতই এগিয়ে যাক না কেন তাদের মনে স্থান দেওয়া আমাদের জন্য জায়েজ নেই। অথবা খেলায় যদি যুবকদের উরু দেখা যায় যা মানুষের মনে খারাপ চিন্তা তৈরি করে তবে আমার মতে—খেলার সময় যুবকদের উরু বের করে রাখা জায়েজ নয়। এমনকি উরুকে যারা সতর মনে করেন না, তাদের মত অনুযায়ীও যুবকদের উরু উন্মুক্ত করা ঠিক নয়। আর ইমাম আহমদের মাজহাবের বিখ্যাত মত অনুযায়ী উরু যদি সতর হয় তাহলে তো বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার যে,কোনোভাবেই এটি দেখা জায়েজ নয়। তাই আমি আমার ভাইদের বলব, সময়ের যত্ন নিন। কারণ সময় টাকা-পয়সার চেয়েও অনেক বেশি দামি।” [আল মিশকাত ফোরাম]
وَاللَّهُ أَعْلَمُ
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
তারিখ: ১৮ রবিউস সানি ১৪৩১ হি. / ০৩ এপ্রিল ২০১০ খ্রি.
প্রশ্ন নং: ১৪৬৮৪৪
সূত্র: Islamqa info
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
Share: