জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ফজিলত এবং কুরবানি ও ঈদের বিধি-বিধান:
فَضْلُ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ وَأَحْكَامُ الْأُضْحِيَةِ وَعِيدِ الْأَضْحَى الْمُبَارَكِ
( بِاللُّغَةِ الْبَنْغَالِيَّةِ )
প্রণয়নে: অনুবাদ বিভাগ
আস সুলাই ইসলামি দাওয়াহ সেন্টার, রিয়াদ, সৌদি আরব।
প্রথম কথা:
اَلْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى أَشْرَفِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِيْنَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الدِّيْنِ أَمَّا بَعْدُ.
প্রশংসা বলতে যা কিছু সব টুকুই বিশ্বজগতের মহান প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার পাওনা। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল — আমাদের নবী মুহাম্মাদ +সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের উপরও অগণিত শান্তির ধারা বর্ষিত হোক। এরপর কথা হলো, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে বিভিন্ন সময় নানাবিধ ভালো কাজের সুব্যবস্থা দিয়ে করুণা করে থাকেন। যাতে তারা ঐ সময়ের মধ্যে ভালো কাজ করে কল্যাণময় জীবনের পুঁজিভাগ বৃদ্ধি করতে পারে। এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা মানুষের জীবনে বারবার আসলেও তন্মধ্যে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ব্যাপারটা অন্যরকম। কেননা এ দিনগুলিতে নানা রকমের ভালো কাজের সমাবেশ ঘটেছে। এ দিনগুলির ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে ভূরি ভূরি প্রমাণ বিদ্যমান। তন্মধ্যে দুচারটি নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. মহান আল্লাহর বাণী:
وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ
“কসম ভোরবেলার, আরও শপথ দশ রাতের” [সুরা ফাজর: ১-২]। ইবনে কাসির (রাহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “এখানে দশ রাত বলতে জিলহজের প্রথম দশককে বোঝানো হয়েছে”।
২. মহান আল্লাহর বাণী:
وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِيْ أَيَّامٍ مَّعْلُوْمَاتٍ
“আর যাতে তারা মহান আল্লাহকে নির্দিষ্ট দিনগুলিতে বিশেষভাবে স্মরণ করে” [সুরা হজ: ২৮]। হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাজিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, “এখানে নির্দিষ্ট দিনগুলি বলতে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনই ইঙ্গিত করা হয়েছে”।
৩. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন; রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ ফরমান:
«مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ قَالَ: «وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ، إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ»
“কোনো আমলই এ দশ দিনের আমলের সমকক্ষ নয়”। জিহাদও নয়? বলে সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দিলেন: “না, জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ যে ব্যক্তি জান-মাল নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে যাওয়ার পর তার কোনো কিছুই আর ফেরত আসেনি” (অর্থাৎ তিনি যুদ্ধের ময়দানে শহিদ হয়ে গেছেন। ঐ ব্যক্তির জিহাদ এ দশ দিনের আমলের সমকক্ষ হতে পারে) [বুখারি]।
৪. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ ফরমান:
«مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ سُبْحَانَهُ وَلَا أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الْأَيَّامِ الْعَشْرِ، فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ»
“মহাপবিত্র মহান আল্লাহর নিকটে এই দশ দিনের নেক কাজের তুলনায় মহৎ ও প্রিয় কোনো কাজ নেই। সুতরাং তাতে তাকবির ধ্বনি, মহান আল্লাহর প্রশংসা বাণী ও তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা করতে থাক” [ইমাম তাবরানি (রাহ.) মুজামুল কাবির গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন]।
৫. হজরত সাঈদ বিন জুবায়র (রাহেমাহুল্লাহ) (যিনি হজরত ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত পূর্বোল্লিখিত হাদিসের বর্ণনাকারী) জিলহজ মাসের প্রথম দশকে চূড়ান্ত পর্যায়ে ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত থাকতেন। (ইমাম দারেমি (রাহ.) হাসান সনদে গ্রহণযোগ্য সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন)।
৬. হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (রাহ.) স্বীয় ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন: “জিলহজ মাসের প্রথম দশকে সালাত (নামাজ), সিয়াম (রোজা), সদকা, হজ ইত্যাদি মৌলিক ইবাদতসমূহ একত্রিত হয়ে থাকে, যা অন্য কোনো সময় হয় না। বোধহয় এ কারণেই উহাকে এত মর্যাদাবান করা হয়েছে”।
৭. মুহাদ্দিক-গবেষণাকারী আলেমগণ বলেন: ‘দিন হিসাবে উত্তম দিন হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন আর রাত হিসাবে উত্তম রাত হলো রমজান মাসের শেষ দশ রাত’।
১. সালাত (নামাজ): ফরজ নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া আর নফলসমূহ বেশি বেশি আদায় করা। কেননা উহা মহান মালিকের নৈকট্য লাভের অতি উত্তম পন্থা। হজরত সাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি:
«عَلَيْكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ لِلهِ، فَإِنَّكَ لَا تَسْجُدُ لِلهِ سَجْدَةً إِلَّا رَفَعَكَ اللهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْكَ بِهَا خَطِيئَةً»
“তোমার উচিত মহান আল্লাহর জন্যে বেশি বেশি সিজদায় লুটিয়ে পড়া। কেননা তুমি সিজদা করামাত্রই উহার বিনিময়ে মহান আল্লাহ তোমার এক স্তর মর্যাদা বৃদ্ধি করেন আর একটি করে পাপ মাফ করেন” [মুসলিম]। বলাবাহুল্য এ সুযোগ সব সময়ের জন্যেই।
২. সিয়াম: হুনায়দাহ বিন খালেদ স্বীয় স্ত্রীর মাধ্যমে কোনো কোনো নবি-সহধর্মিণী হতে বর্ণনা করেন। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন:
«كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ»
“রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, আশুরার দিন আর প্রত্যেক চাঁদে (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) তিন দিন রোজা পালন করতেন” [আহমাদ, আবু দাউদ ও নাসাঈ]।
ইমাম নাওয়াভি (রাহেমাহুল্লাহ) এ দশ দিনের মধ্যে রোজা পালন করা সম্পর্কে বলেন: ‘উহা অত্যন্ত ভালো কাজ’।
৩. তাকবির: (মহান আল্লাহর মহত্ব ধ্বনি), তাহলিল (তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা) আর তাহমিদ (তাঁর প্রশংসা বাণী) পাঠ করা যা পূর্বোল্লিখিত ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
সুতরাং ‘ঐ দিনগুলিতে বেশি বেশি তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ পাঠ করতে থাকবে’। ইমাম বুখারি (রাহেমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এ দিনগুলিতে বাজারে বের হয়ে তাকবির দিলে উপস্থিত জনতা তাদের দেখাদেখি তাকবির দিতেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মিনায় স্বীয় তাঁবুতে তাকবির দিলে তা শুনে মসজিদে অবস্থানরত জনতাও তাকবির দিতেন। যার ফলে বাজারের লোকেরাও তাকবির দিতেন। অবশেষে পুরো মিনা তাকবির ধ্বনিতে কেঁপে উঠত।’ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এ দিনগুলিতে মিনায় তাকবির দিতেন; প্রত্যেক নামাজান্তে, স্বীয় বিছানায়, তাঁবুতে, বৈঠকখানায় ও চলার পথে।
হজরত উমর, তাঁর ছেলে এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ফরজ তাকবির পাঠ করতেন বিদায় হজের পুণ্যময় মুহূর্ত বা স্থানগুলোতে। আমরা মুসলিম। আমাদের উচিত, আজকে এই পরিত্যক্ত সুন্নাতকে জীবিত করা; যা প্রায় ভুলতেই বসেছে মুসলিম মিল্লাতের অধিকাংশ জনতা।
৪. আরাফার দিনে রোজা পালন করা: হজ পালনের উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দানে অবস্থানরত ব্যক্তি ছাড়া সকল মুসলমানকে ঐ দিন রোজা রাখার প্রতি বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কেননা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ফজিলত সম্পর্কে বলেন:
«صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ»
“আমি আশা করি যে, উহা বিগত ও আগত বর্ষদ্বয়ের (ছোট) গুনাহসমূহের কাফফারাস্বরূপ” [মুসলিম]।
৫. কুরবানির দিনের ফজিলত: এ মহান দিবসের ফজিলত সম্পর্কে অনেক মুসলমান উদাসীন রয়েছেন। অথচ কিছুসংখ্যক ইসলামি বিদ্বান এ দিনকে সারা বছরের সকল দিনগুলির উপর প্রাধান্য দিয়েছেন। এমনকি আরাফার দিনের উপরেও। ইমাম ইবনে কাইয়্যেম (রাহ.) বলেন, ‘মহান আল্লাহর নিকটে উত্তম দিন হলো কুরবানির দিন আর ওটাই হলো (হজে আকবার) অর্থাৎ মহান হজের দিন’। সুনানে আবু দাউদে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ মর্মে হাদিস এসেছে — “মহান আল্লাহর নিকটে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো কুরবানির দিন। তারপর (আল কার) অর্থাৎ মিনায় অবস্থানের দিন। আর সেটা হলো একাদশ তারিখ”। কেউ কেউ বলেন, ‘আরাফার দিন এ দিনের চেয়ে উত্তম। কেননা ঐ দিনের রোজা দুই বছরের গুনাহ মোচনকারী এবং মহান আল্লাহ ঐ দিন অধিক পরিমাণ মানুষকে মুক্তি দান করে থাকেন।’ তবে প্রথম মতই যে বিশুদ্ধ এতে কোনো সন্দেহ নেই।
একমাত্র পাপ-পঙ্কিলতাই হলো মহান আল্লাহর দয়া-মায়া ও বদান্যতা লাভের অন্যতম অসহায় বাধা এবং তার ও মহান মালিকের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টিকারী। সুতরাং মুসলমানদের উচিত সকল প্রকার পাপ-পঙ্কিলতাকে ঝেড়ে ফেলে খালেস তওবা করতঃ মহান আল্লাহর দিকে ফেরত আসার মাধ্যমে কল্যাণময় মওসুমগুলিকে অভ্যর্থনা জানানো। মহান আল্লাহ বলেন,
وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
“আর যারা আমার রাস্তায় জিহাদ করে আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার বিভিন্নমুখি পথের সন্ধান দিয়ে থাকি” [সুরা আনকাবুত: ৬৯]।
তিনি আরও বলেন,
وَسَارِعُوْا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِيْنَ
“তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও যার প্রশস্ততা আসমানসমূহ ও জমিন। যা তৈরি করা হয়েছে পরহেজগারদের জন্যে” [সুরা আলে ইমরান: ১৩৩]।
সুতরাং ওহে আমার মুসলিম ভাই! চলমান এ সুবর্ণ সুযোগ চলে যাওয়ার আগেই তাকে কাজে লাগান।
মহান মালিক তাঁর এ বাণীতে উল্লেখ করেছেন:
إِنَّهُمْ كَانُوْا يُسَارِعُوْنَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُوْنَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوْا لَنَا خَاشِعِيْنَ
“নিশ্চয় তারা ভালো ভালো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ত আর আমাকে ডাকত আশা ও ভীতি সহকারে এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত” [সুরা আম্বিয়া: ৯০]।
মহান আল্লাহ নিম্নলিখিত আয়াতে কুরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
“হে নবি! আপনি আপনার প্রভুর জন্যে নামাজ আদায় করুন আর কুরবানি করুন” [সুরা কাওসার: ২]। তিনি আরও বলেন,
وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِّنْ شَعَائِرِ اللهِ لَكُمْ فِيْهَا خَيْرٌ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ
“উটকে আমি তোমাদের জন্যে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্যে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে বাঁধা অবস্থায় তাদের জবেহ করার সময়ে তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর” [সুরা হজ: ৩৬]।
কুরবানি করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও উহা পরিত্যাগ করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। কেননা সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত, হজরত আনাস (রাজিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে,
«ضَحَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ، ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ وَسَمَّى وَكَبَّرَ»
“নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঁচু শিং বিশিষ্ট দুটি ধূসর বর্ণের দুম্বা কুরবানি করেছিলেন। তিনি ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে উহা নিজ হস্তেই জবেহ করেছিলেন”।
উট, গরু-মহিষ ও ছাগল জাতীয় পশু ছাড়া অন্য কোনো পশুতে কুরবানি বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন:
لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِّنْ بَهِيْمَةِ الْأَنْعَامِ
“আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানি নির্ধারণ করেছি যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময়ে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে” [সুরা হজ: ৩৪]।
কুরবানির পশু দোষমুক্ত হওয়া শর্ত। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«أَرْبَعٌ لَا تَجُوزُ فِي الْأَضَاحِيِّ: الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا، وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا، وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا، وَالْعَجْفَاءُ الَّتِي لَا تُنْقِي»
চার প্রকার পশু কুরবানির অযোগ্য: স্পষ্ট অন্ধ, স্পষ্ট রোগাক্রান্ত, স্পষ্ট খোঁড়া এবং অত্যন্ত দুর্বল জীর্ণশীর্ণ ও বোধশক্তিহীন [তিরমিজি]।
ঈদের নামাজের পর হতে ১৩ তারিখ সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত কুরবানির পশু জবেহ করার শরিয়তসম্মত সময়। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
«مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلَاةِ فَإِنَّمَا يَذْبَحُ لِنَفْسِهِ، وَمَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلَاةِ وَالْخُطْبَتَيْنِ فَقَدْ تَمَّ نُسُكُهُ وَأَصَابَ سُنَّةَ الْمُسْلِمِينَ»
“যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে যে জানোয়ার জবেহ করল সে কেবল তার নিজের নফসের খাতিরে জবেহ করল। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাজ ও খুতবাদ্বয়ের পরে জানোয়ার জবেহ করল সে তার কুরবানি পূর্ণ করল এবং সুন্নাতের অনুসরণ করল” [বুখারি ও মুসলিম]।
তিনি আরও বলেন:
«كُلُّ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ ذَبْحٌ»
“তাশরিকের দিনগুলিতেও কুরবানির পশু জবেহ করা যায়” [সিলসিলা সহিহা: ২৪৭৩]। পারলে নিজের কুরবানি নিজ হাতে ‘বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহুম্মা হাযা আন…….’ বলে জবেহ করা সুন্নাত।
কুরবানির গোশত নিজে খাওয়া, পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবকে হাদিয়া দেওয়া এবং ফকির-মিসকিনকে দান করা সুন্নাত। মহান আল্লাহ বলেন,
فَكُلُوْا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيْرَ
“অতঃপর উহা হতে তোমরা আহার কর এবং দুঃস্থ ফকিরদেরকে আহার করাও” [সুরা হজ: ২৮]।
তিনি আরও বলেন,
فَكُلُوْا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ
“— তখন উহা হতে তোমরা নিজেরা আহার কর এবং আহার করাও তাদেরকে যারা চায় না এবং তাদেরকেও যারা চায়” [সুরা হজ: ৩৬]। এ জন্যেই তো সালাফে সালেহিনের কতক মহামনীষী উহা তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজেদের জন্যে রাখতেন, এক ভাগ ধনী বন্ধুদের উপঢৌকন দিতেন, আর এক ভাগ গরিব-মিসকিনদেরকে দান করতেন। উল্লেখ্য যে, গোশত বানানোর মজুরি হিসাবে কসাইকে কুরবানির গোশত দেওয়া বৈধ নয়।
কুরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর হতে কুরবানি জবেহ করার আগ পর্যন্ত নিজের পশম, নখ, চামড়া ও মাথার চুল না কাটা ভালো। কেননা হজরত উম্মে সালামা (রাজিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসে আছে যে, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ ফরমান:
«إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلَا مِنْ بَشَرِهِ شَيْئًا»
“জিলহজ মাস শুরু হলে তোমাদের মধ্যকার কুরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যেন তার চুল ও নখ না কাটে” [আহমাদ ও মুসলিম]। অন্য বর্ণনায় এসেছে: “কুরবানি না করা পর্যন্ত নিজের চুল এবং চামড়া কাটবে না” কুরবানিদাতার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপর এ সব বিধি-নিষেধ প্রযোজ্য নয়।
প্রিয় মুসলিম ভাই! মহান আল্লাহ আমাদেরকে এবারের ঈদেও বাঁচিয়ে রেখে বেশ ভালো ভালো কাজের সুযোগ করে দিয়ে পারলৌকিক জীবনের পাথেয় সংগ্রহ করার সময়সীমা বাড়িয়ে দিলেন সে জন্যে রিমঝিম ও সজল প্রশংসার হকদার তিনিই। এই তো সেদিনের কথা! গত ঈদ যারা আমাদের সাথে পালন করেছেন তাদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই, আর আসবেনও না কোনো দিন। আজকের দিনের কিছুক্ষণ আগেও তো কত মানুষ চলে গেলেন, তারা এখন কোথায় আছেন কে জানে? সুতরাং হে ভাই আর দেরি নয়। অবহেলাও নয়। হেলায়-খেলায় সময় নষ্ট না করে ঈদের গুরুত্ব উপলব্ধি করি। প্রিয় ভাই!
ঈদের দিন মুসলমানদের অবৈধ কাজে সময় নষ্ট করার দিন নয় বরং উহা ইসলামের প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহের অন্যতম, মুসলিম মিল্লাতের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বলেন,
ذَلِكَ وَمَنْ يُّعَظِّمْ شَعَائِرَ اللهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوْبِ
“অর্থাৎ এটা শুনে রাখ যে, কেউ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি সম্মান দেখালে তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতির প্রসূত” [সুরা হজ: ৩২]। প্রিয় পাঠক/পাঠিকা! সংক্ষিপ্তাকারে আপনাদের সামনে ঈদের বিধানগুলি অর্থাৎ করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. তাকবির: কুরবানির দিনের আগের দিন ফজর হতে তের তারিখ আসর পর্যন্ত তাকবির পাঠ করা সুন্নাত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন:
وَاذْكُرُوا اللهَ فِيْ أَيَّامٍ مَّعْدُوْدَاتٍ
“নির্দিষ্ট কতক দিনে আল্লাহকে বিশেষভাবে স্মরণ কর” [সুরা বাকারা: ২০৩]।
তাকবিরের বাক্যগুলি নিম্নরূপ:
اَللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ، وَلِلهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”।
মহান আল্লাহর মহত্ব ঘোষণা এবং তাঁর ইবাদত ও শুকরিয়া প্রকাশার্থে পুরুষদের জন্যে হাটে-বাজারে, মসজিদে-বাড়িতে বিশেষ করে প্রত্যেক নামাজ শেষে উচ্চস্বরে এ তাকবির পড়া সুন্নাত।
২. গোসল করা এবং অপব্যয় না করে সম্ভাব্য ভালো পোশাক পরিধান করা:
পুরুষগণ পায়ের টাখনু থেকে কাপড় পরবেন না, দাড়ি কাটবেন না এবং স্বর্ণালংকার ব্যবহার করবেন না। কেননা এগুলি তাদের জন্যে হারাম। তারা সুগন্ধি ব্যবহার করবেন। কিন্তু মেহেদি লাগাবেন না। পক্ষান্তরে মহিলাগণ মেহেদি লাগাবেন, সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না। তারা পর্দা ও শালীনতার সাথে ঈদগাহে যাবেন। যাদের নামাজ নেই তারা একটু ফাঁকে বসে দোয়া-দরুদ পড়তে থাকবেন।
৩. সম্ভব হলে ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া: ঈদের নামাজ ঈদগাহে আদায় করা সুন্নাত। বৃষ্টি বা ঐ জাতীয় শরিয়তসম্মত কোনো ওজর থাকলে মসজিদে আদায় করা যাবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করেছেন। তাকবির পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত।
৪. দুই ঈদের নামাজ:
মুসলমানদের সাথে জামাআতে আদায় করা জরুরি: নামাজ শেষে খুতবা শোনা যুক্ত। শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহেমাহুল্লাহ) সহ কুরআন ও হাদিস বিশ্লেষণকারীগণের অধিকতর বিশুদ্ধ মত হিসাবে উল্লিখিত। শরিয়তসম্মত ওজর ছাড়া উহা পরিত্যাজ্য নয়। কেননা মহান আল্লাহ বলেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
“অতএব হে নবি! আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানি করুন” [সুরা কাওসার: ২]। মহিলাগণও মুসলিম মিল্লাতের ঈদগাহে হাজির হবেন। এমনকি অত্যন্ত পর্দানশিন যুবতী কুমারী ও ঋতুবতী মহিলারাও যাতে শরিক হবেন। ঋতুবতীগণ নামাজ না পড়ে একটু ফাঁকে বসে দোয়া-দরুদ পড়তে থাকবেন।
৫. দুই ঈদের নামাজ সম্পর্কে কিছু জরুরি কথা:
(ক) ঈদের নামাজের কোনো আজান-ইকামত নেই।
(খ) ঈদের নামাজের আগে ও পরে কোনো নফল ও সুন্নাত নামাজ নেই।
(গ) ঈদের নামাজের প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা ছাড়াও অতিরিক্ত আরও ৭টি আর দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে কেরাআতের আগে ৫টি অর্থাৎ সর্বমোট ১২টি অতিরিক্ত তাকবির দিতে হবে।
(ঘ) সূর্য দুই বল্লম পরিমাণ ওঠার পরে ঈদুল ফিতরের নামাজ আর এক বল্লম পরিমাণ ওঠার পরে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা সুন্নাত।
৬. রাস্তা পরিবর্তন করা: ঈদগাহে যাওয়ার জন্য যে পথ ব্যবহার করা হয়েছে ফেরত আসার সময় ঐ পথে না এসে অন্য পথে ফেরত আসা মুস্তাহাব। কেননা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরূপ করেছেন।
৭. কুরবানির পশু জবেহ করা:
কুরবানির পশু ঈদের নামাজের পরে জবেহ করতে হবে। যারা নামাজের আগেই জবেহ করে ফেলেছে তাদেরকে পুনরায় কুরবানি করতে হবে। কেননা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
«مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيُعِدْ مَكَانَهَا أُخْرَى»
“যে ব্যক্তি ঈদের নামাজ পড়ার আগেই জবেহ করল সে যেন এটার পরিবর্তে পুনরায় কুরবানি করে” [বুখারি ও মুসলিম]।
৮. ঈদের দিন কুরবানিকৃত পশুর গোশত দিয়ে নাশতা করা: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন বেজোড় খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যেতেন। আর ঈদুল আজহার দিন কিছু না খেয়ে ঈদগাহে গিয়ে সকাল সকাল নামাজ আদায় করে ঘরে ফিরে এসে কুরবানি করে উহার গোশত দিয়ে নাশতা করতেন।
৯. ঈদের মুবারকবাদ: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম সালেহাল আমাল’ অর্থাৎ ‘মহান আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন’ বলে পরস্পরের মুবারকবাদ দেওয়া ভালো।
প্রিয় ভাই! অন্যান্যদের মতো আপনিও যেন অবৈধ কাজে জড়িয়ে না পড়েন সে জন্যে সতর্ক হোন:
অন্যের সাথে তাল মিলিয়ে দল বেঁধে তাকবির বলা, নামাজ শেষে কবর জিয়ারত করা এবং দীর্ঘদিন সাক্ষাৎ না হওয়া ব্যক্তি ও সফর থেকে প্রত্যাগত ব্যক্তি ছাড়া অন্যান্যদের সাথে কোলাকুলি করা বিদআত।
সুতরাং তা পরিহার করা দরকার। হারাম খেলাধুলা, গান-বাজনা শোনা, অশ্লীল ছবি দেখা এবং বেগানা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইত্যাদি কাজ পরিহার করা উচিত। চাঁদ ওঠার পর হতে কুরবানি জবেহ করা পর্যন্ত কুরবানিদাতা নিজের চুল, নখ ইত্যাদি কাটবে না। ছাগল-ভেড়া না পেয়ে গরুতে আকিকা দেওয়া বৈধ হলেও তাতে ভাগাভাগি চলবে না। অতএব আকিকা ও কুরবানি এক গরুতে ভাগে দেওয়া সুস্পষ্ট বিদআত।
পরিশেষে প্রিয় মুসলিম ভাই! সকল প্রকার পাপ-পঙ্কিলতা ছেড়ে দিয়ে খালেস তওবা করে ভালো কাজের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করুন। সেই সাথে সংকীর্ণতা ও হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে ঈদের ছুটিতেই আত্মীয়-স্বজন সবার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে আত্মীয়তার বন্ধনকে সুদৃঢ় করুন। মনের গভীর ভালোবাসা নিয়ে অভাবগ্রস্ত ফকির-মিসকিন ও ইয়াতিমদেরকে সাহায্য করে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন। মহান আল্লাহ আপনাদের এবং আমাদেরকে তাঁর পছন্দসই কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
নবি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গী-সাথীদের উপর অনাবিল শান্তির ধারা বর্ষিত হোক।
إِعْدَادُ قِسْمِ الْجَالِيَاتِ, مَكْتَبُ الدَّعْوَةِ بِالسُّلَيِّ, الرياض، المملكة العربية السعودية
অনুবাদ: শায়েখ আমানুল্লাহ (পাবনা)।
সম্পাদনায়: শায়েখ আবুল কালাম আজাদ।
উপস্থাপনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।