জুমার দিনের আমলগুলোর মধ্যে অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ ও সুন্নাহ সম্মত আমল হল, সূরা কাহফ তেলাওয়াত করা। হাদিসে জুমার রাত এবং দিন—উভয় সময়েই এই সূরা পড়ার বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
প্রখ্যাত সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنِ الْبَيْتِ الْعَتِيقِ
“যে ব্যক্তি জুমার রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) সূরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য তার এবং বায়তুল আতিকের (কাবা ঘর) মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত নূর বা আলো প্রজ্বলিত হবে।” [সহিহ আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৭৩৬, শাইখ আলবানি]
“আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ مَا بَيْنِ الْجُمُعَتَيْنِ
“যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোকবর্তিকা থাকবে।” [সহিহুল জামে: ৬৪৭, শাইখ আলবানি]
এ বিষয়ে আরো একাধিক হাদিস রয়েছে।
এই নুর বা আলো হল, দুনিয়াতে অন্তরে হেদায়েত বা ইমানের আলো যা তাকে আল্লাহর পথে টিকে থাকতে এবং পাপাচার থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে এবং আখিরাতে হাশরের ময়দানের গাঢ় অন্ধকারে বিশেষ আলো যা তাকে পুলসিরাত পার হতে ও জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছতে সাহায্য করবে।
জুমার দিন নাকি রাতে? কতিপয় আলেম শুধু দিনের বেলায় পড়ার কথা বললেও বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে জুমার রাতে কিংবা দিনে যে কোন সময় পড়লে এই মর্যাদা লাভ করা যাবে বলে প্রতিয়মান হয়। এবং এটাই অধিক বিশুদ্ধ মত ইনশাআল্লাহ। ইমাম মুনাভি রাহ. [মৃত্যু ১০৩১ হিজরি] বলেন,
قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ حَجَرٍ فِي “أَمَالِيهِ”: كَذَا وَقَعَ فِي رِوَايَاتٍ “يَوْمَ الْجُمُعَةِ” وَفِي رِوَايَاتٍ “لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ”، وَيُجْمَعُ بِأَنَّ الْمُرَادَ الْيَوْمُ بِـلَيْلَتِهِ وَاللَّيْلَةُ بِـيَوْمِهَا.
“হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহ. [মৃত্যু ৮৫২ হিজরি] তাঁর ‘আমালি’ গ্রন্থে বলেছেন: কোনো কোনো বর্ণনায় ‘জুমার দিন’ এসেছে। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় ‘জুমার রাত’ শব্দটিও এসেছে। এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় হলো—উভয় বর্ণনার উদ্দেশ্য মূলত পুরো ২৪ ঘণ্টা (অর্থাৎ রাতসহ দিন এবং দিনসহ রাত)।” [ফয়জুল কাদির: ৬/১৯৯]
মোটকথা, ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী সূর্যাস্তের মাধ্যমেই পরবর্তী দিনের গণনা শুরু হয়। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকেই জুমার রাত শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুরো সময়টাই সূরা কাহফ পড়ার উপযুক্ত সময়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় এক বা একাধিক বৈঠকে বসে অর্থসহ কিংবা অর্থ ছাড়া সূরাটি তিলাওয়াত করলে ইনশাআল্লাহ এই বিশেষ মর্যাদা লাভ করা যাবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে এই সুন্নাহটি নিয়মিত পালন করার তৌফিক দান করুন। আমিন। আল্লাহু আলাম। মহান আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।