পশ্চিমা দেশে পর্যটন ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের বিধান

পশ্চিমা দেশে পর্যটন ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের বিধান: বরেণ্য আলেমদের ফতওয়া ও দিকনির্দেশনা:
ইসলামের দৃষ্টিতে অমুসলিম দেশগুলোতে পর্যটন ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের বিধান সম্পর্কে বর্তমান সময়ের বরেণ্য চারজন ফকিহ ও আলেমের গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া নিচে উপস্থাপন করা হলো। এই সংকলনে শায়খ বিন বায, শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানি , শায়খ সালেহ আল ফাওজান, শায়খ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর দিকনির্দেশনা ও শর্তাবলি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
❑ ১. আনন্দ-বিনোদনের উদ্দেশ্যে বিদেশ ভ্রমণের বিধান:
— শায়খুল ইসলাম ইমাম আব্দুল আজিজ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ)
প্রশ্ন ১: কিছু মানুষ ‘পর্যটন’ বলতে বিনোদন ও আনন্দ উপভোগের জন্য বিদেশ ভ্রমণকে বোঝায়— এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?
উত্তর:
هَذَا فِيهِ تَفْصِيلٌ. هَذَا السَّيْرُ فِي الْأَرْضِ، قَالَ تَعَالَى: ﴿أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ﴾ [الرُّومِ: ٩]. إِنْ كَانَ السَّفَرُ لِمَصْلَحَةٍ شَرْعِيَّةٍ، وَدَعْوَةٍ إِلَى اللهِ، وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِ اللهِ، وَتَعْلِيمِ الْعِلْمِ وَالدَّعْوَةِ، مِنْ غَيْرِ وُقُوعٍ فِي الْمَحَارِمِ؛ فَلَا بَأْسَ. أَمَّا إِذَا كَانَتِ السِّيَاحَةُ قَدْ تُفْضِي إِلَى الشَّرِّ وَالْفَسَادِ وَإِضَاعَةِ الدِّينِ؛ فَمَا تَجُوزُ. لَا بُدَّ مِنَ النَّظَرِ لِلْمَقْصُودِ وَقُدْرَتِهِ عَلَيْهِ: فَإِذَا كَانَ الْمَقْصُودُ الدَّعْوَةَ إِلَى اللهِ وَتَعْلِيمَ الْجَاهِلِ وَإِرْشَادَ الضَّالِّ، عِنْدَهُ عِلْمٌ وَعِنْدَهُ بَصِيرَةٌ، يَنْشُرُ دِينَهُ وَلَا يَخْشَى الْفِتْنَةَ؛ فَلَا بَأْسَ، هَذِهِ دَعْوَةٌ إِلَى اللهِ كَالْجِهَادِ، مِنَ الْجِهَادِ. أَمَّا إِذَا كَانَ يَتَّبِعُ الشَّهَوَاتِ أَوْ فِي بِلَادِ الْكُفْرِ؛ فَهَذَا خَطَرٌ عَظِيمٌ، نَسْأَلُ اللهَ الْعَافِيَةَ، مَا يَجُوزُ.
“এটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ বিষয়। পৃথিবীতে ভ্রমণ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি এবং দেখেনি যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি কী হয়েছিল?” [সূরা রূম: ৯]
যদি সফরের উদ্দেশ্য হয় শরিয়তসম্মত কোনো কল্যাণ— যেমন:
– আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া,
– আল্লাহর পথে জিহাদ করা,
– ইলম শেখানো বা ইসলাম প্রচার করা— এবং এতে কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা না থাকে তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি সফর অনিষ্ট, ফাসাদ ও দ্বীন নষ্টের দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে তা জায়েজ নয়। এ বিষয়ে সফরকারীর উদ্দেশ্য এবং সেই উদ্দেশ্য পূরণের সামর্থ্য—উভয়টি বিবেচনা করা জরুরি। যদি উদ্দেশ্য হয়, আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া, অজ্ঞকে শেখানো ও পথহারাকে পথ দেখানো— এবং তার কাছে ইলম আছে, দূরদর্শিতা আছে, সে দ্বীন প্রচার করতে পারে এবং ফিতনার ভয় নেই— তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। এটি আল্লাহর পথে দাওয়াত বরং জিহাদেরই একটি অংশ। কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয়, কেবল প্রবৃত্তির অনুসরণ—বিশেষত কাফেরদের দেশে—তাহলে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। (আল্লাহর কাছে আমরা নিরাপত্তা চাই।) এটা জায়েজ নয়।
– প্রশ্ন: আপনার মত কি এই যে, শুধু ইলমদার ব্যক্তিই কাফেরদের দেশে সফর করবেন?
উত্তর:
إِلَى بِلَادِ الْكُفْرِ لَا شَكَّ، عِنْدَهُ عِلْمٌ وَقُدْرَةٌ عَلَى إِظْهَارِ دِينِهِ
“কাফেরদের দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে—নিঃসন্দেহে—তার কাছে ইলম থাকতে হবে এবং নিজের দ্বীন প্রকাশ করার সামর্থ্য থাকতে হবে।”
– প্রশ্ন : কেউ যদি বিনোদনের জন্য সফর করে কিন্তু তার ইমান মজবুত?
উত্তর:
إِذَا كَانَ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ؛ فَلَا بَأْسَ، فِي بِلَادِ الْمُسْلِمِينَ مَا يَضُرُّ.
“যদি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সফর হয়— তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। মুসলিম দেশে সফরে কোনো ক্ষতি নেই।” [source: binbaz org]
❑ ২. পর্যটন ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে কাফের রাষ্ট্রগুলোতে সফর করা কি জায়েজ?
—আল্লামা মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দিন আলবানি (রহ.)
প্রশ্নকারী: শায়খ, আমার প্রশ্নের একটি সম্পূরক অংশ ছিল—পর্যটনের উদ্দেশ্যে কাফের রাষ্ট্রগুলোতে সফর করা কি এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হবে?
শায়খ উত্তরে বলেন:
إِذَا كَانَ أَوَّلًا الْقَصْدُ كَمَا ذَكَرْتَ لِلسِّيَاحَةِ دُونَ الِاعْتِبَارِ وَالنَّظَرِ كَمَا هُوَ أَدَبُ الْقُرْآنِ، وَتَوْجِيهُ الْقُرْآنِ فَفِيهِ تَعْرِيضٌ لِلسَّائِحِ الْمُسْلِمِ لِيُفْتَتَنَ، وَلِذَلِكَ فَنَحْنُ نَشْتَرِطُ فِيمَنْ ذَهَبَ لِلسِّيَاحَةِ أَوْ لِيَتَعَلَّمَ عِلْمًا هُوَ مِنَ الْعُلُومِ الْكِفَائِيَّةِ: أَنْ يَكُونَ مُحَصَّنًا بِالْمَعْنَيَيْنِ: الْمَادِيِّ وَالْمَعْنَوِيِّ، أَيْ: بِأَخْلَاقِهِ الْإِسْلَامِيَّةِ وَبِزَوْجَتِهِ الْمُسْلِمَةِ الَّتِي يَصُونُ نَفْسَهُ بِهَا وَيَصُونُ نَفْسَهَا أَيْضًا بِهِ، فَإِذَا كَانَ هَكَذَا جَازَ لَهُ أَنْ يَذْهَبَ مِنْ أَجْلِ السِّيَاحَةِ وَالْفُرْجَةِ، أَوْ لِتَعَلُّمِ الْعِلْمِ الْكِفَائِيِّ شَرِيطَةَ أَنْ يَنْوِيَ الْعَوْدَةَ فَوْرَ مَا تَنْتَهِي الْغَايَةُ الَّتِي هُوَ مِنْ أَجْلِهَا سَافَرَ إِلَى تِلْكَ الْبِلَادِ.
“প্রথমত: আপনি যেভাবে উল্লেখ করলেন, উদ্দেশ্য যদি হয় কেবলই পর্যটন বা ঘুরে বেড়ানো এবং সেখানে কুরআনি আদব ও নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণ নেওয়ার বিষয়টি না থাকে তবে এমন ভ্রমণ একজন মুসলিমকে ফিতনায় পড়ার ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। এই কারণেই যারা পর্যটনের উদ্দেশ্যে কিংবা ‘ফরজে কিফায়া’ পর্যায়ের কোনো জ্ঞান অর্জনের জন্য সেখানে যেতে চায় তাদের ক্ষেত্রে আমরা দুটি শর্তারোপ করি: তাকে বস্তুগত এবং চারিত্রিক—উভয় দিক থেকেই ‘সুরক্ষিত’ হতে হবে। অর্থাৎ তিনি যেন ইসলামি আখলাক বা চরিত্রের মাধ্যমে এবং একজন মুসলিম স্ত্রীর মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকেন যার দ্বারা তিনি নিজেকে হেফাজত করবে এবং স্ত্রীও তাঁর মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে। যদি বিষয়টি এমন হয় তবে পর্যটন, ঘোরাঘুরি কিংবা প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর সেখানে যাওয়া জায়েজ। তবে শর্ত হলো—যে উদ্দেশ্যে তিনি সফর করেছেন, সেটি পূরণ হওয়া মাত্রই দ্রুত ফিরে আসার নিয়ত থাকতে হবে।”
❑ ৩. পশ্চিমা দেশে পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের বিধান:
—আল্লামা শায়খ সালেহ আল ফাওজান (হাফিযাহুল্লাহ) (বর্তমান সৌদি প্রধান মুফতি)
প্রশ্ন: হে শায়খ, আমার মনে হয়, স্বল্প সময়ের জন্য পশ্চিমা দেশে পর্যটনে যাওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই— যদি নিষিদ্ধ জায়গাগুলো এড়িয়ে চলা যায় এবং উদ্দেশ্য থাকে কেবল প্রকৃতি, আবহাওয়া ও আল্লাহ প্রদত্ত বৈধ নিয়ামতগুলো উপভোগ করা। এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে?
উত্তর:
نَعَمْ، هَذَا لَا يَجُوزُ.
فَالسَّفَرُ إِلَى بِلَادِ الْكُفَّارِ مِنْ أَجْلِ السِّيَاحَةِ وَالنُّزْهَةِ لَا يَجُوزُ، لِأَنَّ الْمَضَرَّةَ فِيهِ أَكْثَرُ مِنَ الْمَنْفَعَةِ.
وَإِنَّمَا يَجُوزُ السَّفَرُ إِلَيْهَا فِي أَحْوَالٍ مَحْدُودَةٍ، وَهِيَ:
١. السَّفَرُ لِلتِّجَارَةِ، ثُمَّ الرُّجُوعُ.
٢. السَّفَرُ لِلْعِلَاجِ مِمَّا لَا يُوجَدُ فِي بِلَادِ الْمُسْلِمِينَ، ثُمَّ الرُّجُوعُ.
٣. السَّفَرُ لِتَعَلُّمِ تَخَصُّصٍ لَا يُوجَدُ فِي بِلَادِ الْمُسْلِمِينَ وَهُمْ بِحَاجَةٍ إِلَيْهِ، ثُمَّ الرُّجُوعُ.
٤. السَّفَرُ لِلدَّعْوَةِ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ.
فَهَذِهِ أَغْرَاضٌ صَحِيحَةٌ يَجُوزُ السَّفَرُ مِنْ أَجْلِهَا، مَعَ التَّمَسُّكِ بِالدِّينِ، وَالْعِزَّةِ بِهِ، وَالْحَذَرِ الشَّدِيدِ مِنْ مَوَاطِنِ الْفِتَنِ.
أَمَّا السَّفَرُ لِمُجَرَّدِ السِّيَاحَةِ فَالْأَصْلُ فِيهِ التَّحْرِيمُ، لِمَا يَنْطَوِي عَلَيْهِ مِنَ الْفِتْنَةِ وَالشَّرِّ.
وَمَنْ قَالَ: “أَنَا أَضْبِطُ نَفْسِي”، فَلْيَعْلَمْ أَنَّ الْإِنْسَانَ لَا تُؤْمَنُ عَلَيْهِ الْفِتْنَةُ مَا دَامَ حَيًّا، فَلَا تُزَكِّ نَفْسَكَ، وَلَا تُعَرِّضْهَا لِلْفِتَنِ.
“হ্যাঁ, এটা জায়েজ নয়। পর্যটন ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে কাফেরদের দেশে সফর করা বৈধ নয়। কারণ এতে যে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে তা যেকোনো উপকারের চেয়ে অনেক বেশি। তবে সীমিত কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সেখানে সফরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো:
◆ ১. ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে সফর করা। তারপর ফিরে আসা।
◆ ২. এমন চিকিৎসার জন্য সফর করা যা মুসলিম দেশগুলোতে পাওয়া যায় না। তারপর ফিরে আসা।
◆ ৩. এমন বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের জন্য সফর করা যা মুসলিম দেশগুলোতে নেই।অথচ মুসলিম উম্মাহর তা প্রয়োজন— এবং অর্জন শেষে ফিরে আসা।
◆ ৪. আল্লাহর পথে দাওয়াত ও ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সফর করা।
এগুলো সঠিক ও গ্রহণযোগ্য উদ্দেশ্য, যার জন্য সফর জায়েজ। তবে অবশ্যই শর্ত হলো— দ্বীনের উপর দৃঢ় থাকতে হবে, দ্বীন নিয়ে গর্বিত ও অবিচল থাকতে হবে এবং ফিতনার স্থানগুলো থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকতে হবে।
আর যে ব্যক্তি কেবল পর্যটনের নিয়তে সফর করে তার বিষয়ে মূল বিধান হলো হারাম‌। কেননা এতে ফিতনা ও অনিষ্ট লুকিয়ে থাকে। যে বলে, “আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব”— সে যেন জেনে রাখে, মানুষ যতদিন জীবিত থাকে ততদিন সে ফিতনার ব্যাপারে নিরাপদ নয়। তাই নিজের নফসকে অতি পবিত্র ভেবো না আর তাকে ফিতনার সামনে উন্মুক্ত করে দিও না।” [youtube channel]
❑ ৪. বিনোদন ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে বিদেশ সফরের বিধান:
(আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল উসাইমিন (রহ.)-এর ফতোয়া সহ)
প্রশ্ন: বিনোদন ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে দুই থেকে তিন সপ্তাহের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোতে সফর করার বিধান কী?
উত্তর:
الْحَمْدُ لِلَّهِ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، وَبَعْدُ:
السَّفَرُ إِلَى بِلَادِ الْكُفَّارِ لِمُجَرَّدِ النُّزْهَةِ لَا يَجُوزُ عِنْدَ جَمْعٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ؛ لِمَا فِيهِ مِنَ التَّعَرُّضِ لِلْمُنْكَرَاتِ وَالْفِتَنِ، مَعَ عَدَمِ وُجُودِ الضَّرُورَةِ أَوِ الْحَاجَةِ لِذَلِكَ.
قَالَ الشَّيْخُ ابْنُ عُثَيْمِينَ رَحِمَهُ اللَّهُ: “السَّفَرُ إِلَى بِلَادِ الْكُفَّارِ مُحَرَّمٌ إِلَّا بِثَلَاثَةِ شُرُوطٍ:
الْأَوَّلُ: أَنْ يَكُونَ عِنْدَ الْإِنْسَانِ عِلْمٌ يَدْفَعُ بِهِ الشُّبُهَاتِ.
وَالثَّانِي: أَنْ يَكُونَ عِنْدَهُ دِينٌ يَحْمِيهِ مِنَ الشَّهَوَاتِ.
وَالثَّالِثُ: أَنْ يَكُونَ مُحْتَاجًا إِلَى ذَلِكَ… إِمَّا لِعِلْمٍ لَا يُوجَدُ لَهُ نَظِيرٌ فِي الْمَمْلَكَةِ، أَوْ ذَهَبَ لِمَرَضٍ يَتَدَاوَى، أَوْ لِتِجَارَةٍ لَا بُدَّ مِنْهَا، وَأَمَّا إِذَا لَمْ يَكُنْ لَهُ حَاجَةٌ فَلَا يَذْهَبُ، وَكَمْ مِنْ أُنَاسٍ يَذْهَبُونَ إِلَى الْخَارِجِ بِاسْمِ التَّمَشِّي وَالنُّزْهَةِ فَتَفْسُدُ أَخْلَاقُهُمْ وَتَنْحَلُّ عَقَائِدُهُمْ -وَالْعِيَاذُ بِاللَّهِ- وَيَرْجِعُونَ مَمْسُوخِينَ، وَلَا شَكَّ أَنَّ هَذَا لَا يَحِلُّ لِلْمُسْلِمِ أَنْ يَتَعَرَّضَ لَهُ لِمَا فِيهِ مِنَ الشَّرِّ وَالْفَسَادِ.”
“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসূলের উপর। অধিকাংশ আলেমের মতে, শুধু বিনোদনের উদ্দেশ্যে কাফেরদের দেশে সফর করা জায়েজ নয়। কারণ এতে অশ্লীলতা ও ফিতনার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে অথচ এ সফরের কোনো শরিয়তসম্মত প্রয়োজনীয়তাও নেই।
✪ শায়খ ইবনে উসাইমিন (রাহ.) বলেছেন:
“কাফেরদের দেশে সফর করা হারাম। তবে তিনটি শর্ত পূরণ হলে ভিন্ন কথা। যথা:
◈ প্রথম শর্ত: তার কাছে এমন ইলম বাদ দ্বীনের জ্ঞান থাকতে হবে যা দিয়ে সে (ইসলাম সম্পর্কে) সন্দেহ-সংশয় দূর করতে পারবে।
◈দ্বিতীয় শর্ত: তার মধ্যে এমন দ্বীনদারি থাকতে হবে যা তাকে প্রবৃত্তির কামনা থেকে রক্ষা করবে।
◈ তৃতীয় শর্ত: তার সেই সফরের প্রকৃত প্রয়োজন থাকতে হবে— যেমন: এমন কোনো বিদ্যা অর্জনের জন্য যার সমকক্ষ জ্ঞান তার নিজ দেশে পাওয়া যায় না অথবা চিকিৎসার জন্য অথবা অপরিহার্য ব্যবসায়িক কাজে। কিন্তু কোনো প্রয়োজন না থাকলে সে যাবে না। কত মানুষ বিদেশে যায় বেড়ানো ও বিনোদনের নাম করে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাদের চরিত্র নষ্ট হয়ে যায়, আকিদা-বিশ্বাসে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়, (আল্লাহর কাছে আমরা আশ্রয় চাই) এবং তারা বিকৃত বা পরিবর্তন হয়ে ফিরে আসে। নিঃসন্দেহে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। কারণ এতে রয়েছে অনিষ্ট এবং ফিতনা-ফ্যাসাদ।”
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। [মাসিক বৈঠক, নং ৬, islamqa info, প্রশ্ন নং: ১১১৯৩৪]
সারাংশ: আলেমদের এই ফতোয়াগুলোর মূল কথা হলো—অমুসলিম দেশগুলোতে শুধু পর্যটন বা শখের বসে সফর করার ব্যাপারে ইসলাম আমাদের সতর্ক করেছে। কারণ সেখানে পরিবেশ ও অপসংস্কৃতির প্রভাবে নিজের ইমান ও আখলাক প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এসব দেশে না যাওয়াই নিরাপদ। তবে যদি বিশেষ প্রয়োজনে (যেমন: চিকিৎসা, দাওয়াতি কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য বা এমন শিক্ষা গ্রহণ যা মুসলিম দেশে নেই ইত্যাদি) যেতেই হয় তবে অবশ্যই নিজের ইমানি শক্তি মজবুত রাখা, এবং সাথে স্ত্রীকে রাখার চেষ্টা করতে হবে, যেন চারিত্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
মোটকথা, একজন মুমিনের কাছে নিজের ইমান ও আমলকে ফিতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখাটাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত। আল্লাহ আমাদেরকে ইমান-আকিদা ও আখলাককে সব ধরণের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
Share: