প্রশ্ন: একজন মহিলা গর্ভাবস্থায় জিন ও জাদু দ্বারা আক্রান্ত। জিনের আছরে খুব আগেই আক্রান্ত হয়েছেন। জিনটা তার ওপর খুব জুলুম করে। তিনি খুব দ্রুত রুকইয়াহ করতে চান। তার তিলাওয়াত কিছুটা শুদ্ধ। তিনি কোনও রাক্বির (রুকিয়া বা ঝাড়ফুঁক কারী) কাছে যেতে পারছেন না এবং পরিবারের মানুষের সাহায্যও পাচ্ছেন না। তিনি অনেক বিপদে আছেন। এমতাবস্থায় তিনি কি নিজে নিজে রুকইয়াহ করতে পারবেন? আর সেলফ রুকইয়াহ করার ক্ষেত্রে নিয়ত কেমন হবে?
উত্তর: গর্ভাবস্থায় একজন মহিলার জন্য জাদুর চিকিৎসা বা রুকইয়াহ করা কেবল বৈধই নয় বরং এটি তার এবং গর্ভস্থ সন্তানের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু তিনি কোনও রাকির কাছে যেতে পারছেন না বা পরিবারের সাহায্য পাচ্ছেন না তাই তিনি সেলফ রুকইয়াহ বা নিজের ওপর নিজে রুকইয়াহ অবশ্যই করতে পারবেন। নিচে তার করণীয় ও রুকিয়া করা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হলো:
আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায (রাহ.)-কে নিজের ওপর রুকইয়াহ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
“নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে নির্দেশনা দিয়েছেন মানুষ সেটিই বলবে। তা হলো:
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ
بِاسْمِ اللهِ أَرْقِي نَفْسِي، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِينِي، وَمن شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِينِي
উচ্চারণ: “আল্ল-হুম্মা রব্বান-নাসি আজহিবিল বা’সা, ওয়াশফি আন্তাশ-শাফি, লা শিফায়া ইল্লা শিফাউকা। বিসমিল্লাহি আরক্বী নাফসী, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যীনী, ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীনী।
অর্থ: “আল্লাহর নামে আমি নিজের ওপর ঝাড়ফুঁক করছি এমন প্রতিটি বিষয় থেকে যা আমাকে কষ্ট দেয়; আর প্রতিটি প্রাণীর অনিষ্ট কিংবা হিংসুক চোখের মন্দ দৃষ্টি থেকে। আল্লাহ আমাকে শিফা দান করুন।
হে মানুষের প্রতিপালক! আপনি কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দান করুন। আপনিই আরোগ্য দানকারী, আপনার শিফা ছাড়া আর কোনও শিফা নেই।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন অসুস্থতা অনুভব করতেন তখন ঘুমানোর সময় নিজের দুই হাতের তালুতে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস (তিনবার) পড়ে ফুঁ দিতেন। এরপর উভয় হাত দিয়ে তাঁর মাথা, মুখমণ্ডল এবং শরীরের যতটুকু অংশে সম্ভব হাত বুলিয়ে নিতেন—এভাবে তিনি তিনবার করতেন।” [মাজমু ফাতাওয়া ওয়া মাকালাত শাইখ ইবনে বাজ (৮/৩৪৫)]
আরও কিছু করণীয়:
✪ পাশাপাশি ঘরে নিয়মিত সুরা বাকারা তিলাওয়াত করবেন। নিজে সম্ভব না হলে অন্তত অডিও ছেড়ে রাখবেন। তবে নিজে তেলাওয়াত করা অধিক উত্তম।
✪ রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
“সুরা বাকারা তিলাওয়াত করলে শয়তান সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায়।” [সহিহ মুসলিম: ৭৮০]]
✪ জিন ভয় দেখানোর চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন, আল্লাহর জিকিরের সামনে শয়তানের চক্রান্ত অত্যন্ত দুর্বল। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বোত্তম সুরক্ষা দানকারী।
✪ সবসময় ওজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা এবং সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া।
✪ বাড়ি থেকে বের হওয়ার, বাড়িতে প্রবেশ, টয়লেট, ঘুমানো, স্বামী-স্ত্রী মিলন ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে হাদিস সম্মত দুআ ও জিকিরগুলো পাঠ করা।
✪ বেশি বেশি দরুদ ও ইস্তিগফার পড়া।
✪ ঘরে কোনও প্রাণীর ছবি বা কুসংস্কারমূলক কিছু থাকলে তা সরিয়ে ফেলা। কারণ এগুলো রহমতের ফেরেশতা আসার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
আল্লাহ তাআলা তাকে এবং তার সন্তানকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা এবং নিরাপত্তা দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদ আরব।