মাসুমা কামিল কামেল ও আসিম আসেম নাম রাখার বিধান

‘মাসুমা’, ‘কামিল/কামেল’ ও ‘আসিম/আসেম’ নাম রাখার বিধান এবং নাম পরিবর্তন করা সম্ভব না হলে করণীয়:
প্রশ্ন: ‘মাসুমা’, ‘কামিল/কামেল’ ও ‘আসিম/আসেম’ নাম রাখার শরয়ি বিধান কী? আমি একটি ফতোয়াটি পড়েছি, যেখানে কিছু অপছন্দনীয় ও নিষিদ্ধ নামের আলোচনা আছে। কারও নাম যদি এসব নামের কোনো একটি হয় এবং নাম পরিবর্তন করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়, কারণ নামটি বহু নথিপত্রে নিবন্ধিত এবং আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে তাকে ওই নামেই ডাকা হয় তাহলে তার করণীয় কী? উল্লেখ্য, অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রে ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে তাকে অন্য একটি নামে ডাকা হয়। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবিদের প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর উল্লিখিত নামগুলো রাখায় কোনো অসুবিধা নেই।
বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
❑ ১. মাসুমা:
‘মাসুমা’ শব্দের অর্থ সুরক্ষিত বা সংরক্ষিত ও হেফাজতকৃত। ভাষাবিদগণ বলেছেন, যেমন: আল-জাওহারির আস-সিহাহ গ্রন্থে আছে:
وَالْعِصْمَةُ: الْمَنْعُ، وَالْحِفْظُ، يُقَالُ: عَصَمَهُ الطَّعَامُ، أَيْ مَنَعَهُ مِنَ الْجُوعِ، وَأَبُو عَاصِمٍ: كُنْيَةُ السَّوِيقِ.
“‘ইসমাহ’ (الْعِصْمَةُ) মানে বাধা দেওয়া, রক্ষা করা ও সংরক্ষণ করা। বলা হয় ‘আসামাহুত ত্বআম’ (عَصَمَهُ الطَّعَامُ), অর্থাৎ খাবার তাকে ক্ষুধা থেকে রক্ষা করেছে। ‘আবূ আসিম’ (أَبُو عَاصِمٍ) হলো সাওয়ীক্ব (السَّوِيقِ) (ছাতু তথা ভাজা চাল, যব বা গমের গুঁড়া দিয়ে তৈরি খাদ্য)-এর একটি ডাকনাম। ‘আসিম’ (عاصم) নামটি সালাফে সালেহিনের মধ্যে অর্থাৎ সাহাবিগণ ও তাঁদের পরবর্তী যুগের নেককার ব্যক্তিদের মধ্যে সুপরিচিত ছিল।
❑ ২. কামিল/কামেল:
‘কামিল/কামেল’ শব্দের অর্থ সেই ব্যক্তি, যে অভিজ্ঞতা, বুদ্ধি, সুচিন্তিত মত, সুন্দর আচরণ ও ব্যবস্থাপনায় পরিপক্ব। আরবরা বলত, যার গুণ বেশি এবং দোষ কম, সে-ই ‘কামিল’। আল-বালাযুরির আল-আনসাব গ্রন্থে আছে:
বিশিষ্ট তাবেয়ি আহনাফ ইবনে কায়স (রাহ.) বলেছেন:
الرَّجُلُ الْكَامِلُ مَنْ تَحَفَّظَ هَفَوَاتِهِ.
“কামেল বা পরিপূর্ণ ব্যক্তি সে-ই, যে নিজের ভুলত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক থাকে।”
তাই এসব নাম রাখায় আমরা কোনো বাধা দেখি না। কারণ এগুলোর অর্থ আপেক্ষিক। তবে কেউ যদি এসব নামের মাধ্যমে আত্মপ্রশংসা বা আত্মশুদ্ধতার দাবি বোঝাতে চান অথবা কোনো দেশের প্রচলিত রীতিতে নামগুলোর মধ্যে আত্মপ্রশংসার অর্থ নিহিত থাকে তাহলে এ ধরনের নাম রাখা পরিহার করা উচিত। যাই হোক, আত্মপ্রশংসাসূচক নামের ক্ষেত্রে যে অপছন্দনীয়তা আছে তা মাকরূহে তানযিহি (পরিহার করা উত্তম); হারাম নয়। ইমাম নববি শরহু মুসলিম গ্রন্থে বলেছেন, “আমাদের (শাফিয়ি মাজহাবের) আলিমগণ বলেছেন:
يُكْرَهُ التَّسَمِّي بِالْأَسْمَاءِ الْمَذْكُورَةِ فِي الْحَدِيثِ، وَمَا فِي مَعْنَاهَا، وَهِيَ كَرَاهَةُ تَنْزِيهٍ، لَا تَحْرِيمٍ.
“হাদিসে উল্লিখিত নামগুলো এবং যেসব নামের অর্থ সেগুলোর অনুরূপ, সেসব নামে নাম রাখা অপছন্দনীয়। তবে এই অপছন্দনীয়তা তানযিহি; হারাম নয়।”
অতএব কারও নাম যদি এসব নামের কোনো একটি হয় তাহলে তার নাম পরিবর্তন করা আবশ্যক নয়। আর যদি আমরা নামটিকে মাকরূহ বলেও গণ্য করি তবে নাম পরিবর্তন করা উত্তম হবে (আবশ্যক নয়)।
[মোটকথা: ‘মাসুমা’ শব্দের মূল অর্থ হলো: সুরক্ষিতা বা হেফাজতে রাখা হয়েছে এমন নারী। তাই এই নাম রাখা জায়েজ। একইভাবে ‘কামিল’ শব্দের অর্থ পূর্ণাঙ্গ বা পরিপক্ক; মানুষ হিসেবে যার জ্ঞান-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতা ভালো তাকেও কামিল বলা হয়। ফলে এ নাম রাখার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা নেই। তবে এই নামগুলোতে যদি আত্মপ্রশংসার অর্থ মনে করা হয় তবে না রাখাই উত্তম-যদিও তা হারাম নয়।-অনুবাদ]
◯ কোনো নিষিদ্ধ নাম পরিবর্তন করা সম্ভব না হলে করণীয়:
কোনো নাম যদি নিষিদ্ধ নামের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং নথিপত্রে তা পরিবর্তন করা সম্ভব হয় তাহলে নামটি পরিবর্তন করা আবশ্যক। আর যদি নথিপত্রে পরিবর্তন করা সম্ভব না হয় তাহলে মানুষের সঙ্গে লেনদেনে এবং তারা যে নামে তাকে ডাকে সেখানে সে অন্য নাম ব্যবহার করবে। এরপর নথিতে থাকা নামের কারণে তার কোনো দোষ নেই যতক্ষণ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আল্লাহু আলাম-আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী। [সোর্স: ইসলাম ওয়েব]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: