জানাজার ক্ষেত্রে নারীর জন্য যা করা জায়েজ আর যা করা জায়েজ নয়

প্রশ্ন: ইরাকের বাগদাদ থেকে এক নারীর প্রশ্ন। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
لَيْسَ لِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ فِي الْجِنَازَةِ
“জানাজায় নারীদের কোনও অংশ নেই।” তাহলে জানাজার ক্ষেত্রে নারী কোন কোন বিষয় থেকে বিরত থাকবে?
উত্তর:
هَذَا الْحَدِيثُ الَّذِي ذَكَرَتْهُ السَّائِلَةُ: «لَيْسَ لِلْمَرْأَةِ نَصِيبٌ فِي الْجِنَازَةِ» لَا نَعْلَمُ لَهُ أَصْلًا، وَلَا نَعْلَمُ أَحَدًا أَخْرَجَهُ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَإِنَّمَا الْوَارِدُ عَنِ الرَّسُولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا: أَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ زَائِرَاتِ الْقُبُورِ وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدَ وَالسُّرُجَ، وَلَعَنَ أُنَاسًا آخَرِينَ كَالْبِنَاءِ عَلَى الْمَسَاجِدِ كَبِنَاءِ مَسْجِدٍ عَلَى الْقُبُورِ وَنَحْوِ ذَلِكَ، وَنَهَى عَنِ اتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ لِلنِّسَاءِ مِنْ دُونِ لَعْنٍ، بَلْ نَهَى عَنِ اتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ، قَالَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: «نُهِينَا عَنِ اتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ، وَلَمْ يُعْزَمْ عَلَيْنَا» يَعْنِي: لَمْ يُؤَكَّدْ عَلَيْنَا، فَدَلَّ ذَلِكَ عَلَى أَنَّهَا لَا تَتْبَعُ الْجِنَازَةَ إِلَى الْمَقْبَرَةِ، وَلَا تَزُورُ الْقُبُورَ، وَإِنَّمَا هَذَا مِنْ خَصَائِصِ الرِّجَالِ، لَكِنَّهَا تُصَلِّي عَلَى الْجِنَازَةِ، إِذَا صُلِّيَ عَلَيْهَا فِي الْبَيْتِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ تُصَلِّي الْمَرْأَةُ مَعَ الرِّجَالِ عَلَى الْجَنَائِزِ، كَمَا صَلَّتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَلَى جِنَازَةِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
فَالْحَاصِلُ أَنَّ الْمَرْأَةُ تُصَلِّي عَلَى الْجَنَائِزِ مَعَ الرِّجَالِ لَا بَأْسَ، أَمَّا ذَهَابُهَا مَعَ الْجِنَازَةِ إِلَى الْمَقْبَرَةِ أَوْ زِيَارَةُ الْقُبُورِ فَهَذَا هُوَ الَّذِي نُهِيَ عَنْهُ فَلَا يَجُوزُ لَهَا ذَلِكَ، نَعَمْ.
প্রশ্নকারিণী যে হাদিসটির উল্লেখ করেছেন,
لَيْسَ لِلْمَرْأَةِ نَصِيبٌ فِي الْجِنَازَةِ
“জানাজায় নারীর কোনও অংশ নেই” —এর কোনও ভিত্তি আমাদের জানা নেই এবং কোনও আহলে ইলম এটি বর্ণনা করেছেন বলেও আমাদের জানা নেই।
এ বিষয়ে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো—তিনি কবর জিয়ারতকারিণী নারীদের এবং যারা কবরের উপর মসজিদ ও বাতি স্থাপন করে তাদের অভিশাপ দিয়েছেন।
এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে তিনি অভিশাপ দিয়েছেন, যেমন: কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ। তবে জানাজার সাথে (কবরস্থান পর্যন্ত) যাওয়ার ব্যাপারে নারীদের তিনি অভিশাপ ছাড়া নিষেধ করেছেন; বরং সাধারণভাবে জানাজার সাথে যাওয়া থেকেই নিষেধ করেছেন।
উম্মে আতিয়া (রা.) বলেন,
نُهِينَا عَنِ اتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ، وَلَمْ يُعْزَمْ عَلَيْنَا
“আমাদেরকে জানাজার সাথে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে তা সে ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ করা হয়নি।” [সহিহ বুখারি ও মুসলিম] অর্থাৎ জানাজায় সাথে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের উপর জোরালো ভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নারী জানাজার সাথে কবরস্থান পর্যন্ত যাবে না এবং কবর জিয়ারতও করবে না। এটি পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।
তবে জানাজার নামাজ নারী পড়তে পারে। যদি বাড়িতে বা মসজিদে জানাজার নামাজ পড়া হয় তাহলে নারী পুরুষদের সাথে জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করতে পারবে, যেমনটি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদে সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর জানাজার নামাজ পড়েছিলেন।
সারকথা হলো, নারী পুরুষদের সাথে জানাজার নামাজ পড়তে পারবে। এতে কোনও অসুবিধা নেই। তবে জানাজার সাথে কবরস্থান পর্যন্ত যাওয়া কিংবা কবর জিয়ারত করা—এ বিষয় থেকেই নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং নারীর জন্য তা করা জায়েজ নয়।
আল্লাহু আলাম-আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
ফতওয়া প্রদানে: আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায (রাহ.)
সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি এবং প্রধান, হাইয়াতু কিবারিল উলামা (সিনিয়র ওলামা পরিষদ) সৌদি আরব। [উৎস: binbaz org]
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: