অটোরিকশা, থ্রি-হুইলার, টুকটুক ইত্যাদির লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার শরয়ি ও আইনগত বিধান
প্রশ্ন: যারা লাইসেন্সের ব্যবসা করে অর্থাৎ অটোরিকশার লাইসেন্স ভাড়া দেয়। এটি কি হালাল ব্যবসা?
উত্তর: অটোরিকশা, থ্রি-হুইলার, টুকটুক ইত্যাদি মটরযানের লাইসেন্স ভাড়া দেওয়া ইসলামি শরিয়ত এবং দেশের প্রচলিত আইন উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিষিদ্ধ। সঙ্গত কারণে এর মাধ্যমে অর্জিত অর্থও হারাম। কারণ লাইসেন্স হলো একটি ব্যক্তিগত অনুমতিপত্র বা সনদ যা কোনো ভাড়া দেওয়ার মতো বাণিজ্যিক পণ্য নয়। অর্থের বিনিময়ে এটি অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া প্রতারণা ও আইনগত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
কেন হারাম তার কয়েকটি কারণ—
✪ ১. লাইসেন্স নেওয়ার সময় সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তা ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়। অথচ ইসলামে চুক্তি ও অঙ্গীকার রক্ষা করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ
“হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো।” [সূরা মায়িদাহ: ১]
✪ ২. লাইসেন্স মূলত নির্দিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে ইস্যু করা হয়। এটি অন্য কেউ ব্যবহার করলে তা ধোঁকাবাজির শামিল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا
“যে আমাদের সাথে ধোঁকাবাজি করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” [সহীহ মুসলিম: ১০১]
✪ ৩. অযোগ্য বা লাইসেন্সহীন কোনো চালক অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে গাড়ি চালালে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ হুমকির মুখে পড়ে। ইসলামে অন্যকে ক্ষতি বা বিপদে ফেলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
لاَ ضَرَر وَلاَ ضِرَارَ
“কারো ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও যাবে না।” [সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৪০]
❑ উপার্জনের সঠিক পদ্ধতি:
গাড়ি বা অটো থেকে আয় করতে চাইলে নিজের নামে ইস্যুকৃত মটরযানটি কোনো দক্ষ ও বিশ্বস্ত চালকের কাছে নির্ধারিত দৈনিক বা মাসিক ভাড়ায় চুক্তি অনুযায়ী দেওয়া যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে চালকের অবশ্যই নিজস্ব বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। প্রাইভেট কার, মাইক্রো বাস, হায়েস, পিকআপ, বাস, মাইক্রো বাস, মিনিবাস, ট্রাক ইত্যাদি সকল প্রকার মটরযানের ক্ষেত্রেই একই বিধান প্রযোজ্য।
❑ প্রচলিত আইনগত বিধান:
বাংলাদেশের ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এবং মোটরযান বিধিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্স হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।
◆ ড্রাইভিং লাইসেন্স একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দলিল। এর মালিক কোনোভাবেই এটি অন্য কাউকে হস্তান্তর বা ভাড়া দিতে পারেন না।
◆ ভাড়া দেওয়া লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো অবস্থায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মূল লাইসেন্সধারী ব্যক্তিও অপরাধের সহযোগী হিসেবে গণ্য হবেন এবং তাঁর লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হতে পারে।
◆ অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে গাড়ি চালালে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সুতরাং হালাল পন্থায় জীবিকা অর্জনে, সুনাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলা এবং আইনগত জটিলতা এড়াতে লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।