হোটেল-রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে ওয়েটারকে বখশিশ দেওয়া কি ঘুসের অন্তর্ভুক্ত?

প্রশ্ন: রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে যে ওয়েটা আমাদেরকে আপ্যায়ন করায় তাকে খুশি হয়ে আমরা কিছু বখশিশ দিয়ে থাকি। এটা কি ঘুসের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর:
একজন ওয়েটার (Waiter) হোটেল-রেস্তোরাঁয় কাস্টমারকে অভ্যর্থনার পাশাপাশি খাবারের অর্ডার নেয়া, খাবার পরিবেশন করা ও তাদের সুবিধা-অসুবিধার দিকে খেয়াল রাখার কাজ করেন। আপনি হোটেল-রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে যদি ওয়েটারকে কিছু টাকা বখশিশ দেওয়ার মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বহির্ভূত অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ বা খাবারের বিল কম দেখানো অথবা এমন বাড়তি কিছু সুবিধা গ্রহণ করেন-যা মূলত: অনুমোদিত নয় (অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ বিষয়টা জানলে আপত্তি করবে) তাহলে তাকে বখশিশ দেওয়া এবং ওয়েটারের তা গ্রহণ করা-উভয়টাই অন্যায়। কারণ তা ঘুস। সুতরাং উভয়ের জন্যই তা হারাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

لعَن اللهُ الرَّاشيَ والمُرتشيَ
“ঘুস দাতা ও ঘুস গ্রহীতা উভয়ের উপর আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন।” [ইবনে হিব্বান, সহীহুল জামে হা/৫০৯]
পাশাপাশি এর মাধ্যমে রেস্তোরাঁর মালিককে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। অর্থাৎ এটি অন্যের হক নষ্ট করারও শামিল-যা নি:সন্দেহে কবিরা গুনাহ।

কিন্তু আপনি যদি যথারীতি খাবার গ্রহণের পর ওয়েটারকে খুশি হয়ে স্বেচ্ছায় কিছু টাকা বখশিশ দেন তাহলে তাতে দোষের কিছু নেই। বরং আপনি যদি একজন গরিব মানুষকে খুশি করা বা আর্থিক সহযোগিতা করার নিয়তে তা দেন তাহলে এতে সওয়াবও পাবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হল, সব চেয়ে উত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন,

أفضلُ الأعمالِ أن تُدْخِلَ على أخيكَ المؤمنِ سُروراً أو تقضيَ عنهُ دَيناً ، أو تُطْعِمَهُ خُبزاً

“সবচেয়ে উত্তম আমল হল, তোমার কোন ইমানদার ভাইয়ের অন্তরে আনন্দ সঞ্চার করা বা তার ঋণ পরিশোধ করা বা তাকে একটি রুটি খাওয়ানো।” [সহীহুল জামে, আলবানী, হা/১০৯৬] এমনকি সে যদি অমুসলিমও হয় তারপরও সওয়াব রয়েছে।

এটি আপনার বদান্যতা এবং উত্তম চরিত্রেরও বহিঃপ্রকাশ।

এমনকি এই টাকা পেয়ে পরবর্তীতে যেন সে আপনাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে বা ভালোভাবে সার্ভ করে (যা মূলত: ওয়েটারের দায়িত্ব বরং কর্তৃপক্ষ সাধারণত: তা ওয়েটারদের থেকে প্রত্যাশা করে)-এ উদ্দেশ্য থাকলেও সমস্যা নেই। কিন্তু এ নিয়ত থাকলে দানের সওয়াব পাওয়া যাবে না। কিন্তু অন্যায়ভাবে কোন সুবিধা লাভ করার উদ্দেশ্য হলে এই লেনদেন অবশ্যই বৈধ নয়।

❑ শাইখ বিন বায রহ.:

প্রশ্ন: আমি একজন ডাক কর্মচারী। আমি যখন প্রাপকের নিকট চিঠির খাম বা মানি অর্ডারটি হস্তান্তর করি, তখন তিনি আমাকে কিছু টাকা দেন। এটি কি এমন উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে যা আমার গ্রহণ করার অধিকার আছে? নাকি এটাকে ঘুষ বলে গণ্য হবে?
উত্তরে শাইখ ইবনে বায রাহ. বলেন,
“এতে কোনও সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ এই কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই কথার অন্তর্ভুক্ত:
مَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفاً فَكَافِئُوهُ
“যে তোমাদের উপকার করবে, তোমরা তাকে পুরস্কৃত করো।” [আবু দাউদ, নাসায়ী-সহিহ]

তিনি আরও বলেছেন,
كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَةٌ
“প্রতিটি ভালো কাজ সদকা।” হাদিসটি ইমাম বুখারি তার সহিহ বুখারিতে বর্ণনা করেছেন। (এটি সহিহ মুসলিমেও বর্ণিত হয়েছে)
আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এই সহায়তা ডাক কর্মচারীকে প্রাপকের কাছে যথাসম্ভব দ্রুত তাদের লেনদেন পৌঁছে দিতে উৎসাহিত করবে। আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।” [উৎস: শাইখের অফিসিয়াল ওয়েব সাইট]
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনায়:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।