সুদের উপর ঋণ দিয়ে মানুষের উপকার করা এবং বিকাশ ব্যাবসা, ফোন, ফ্যাক্স ইত্যাদির জন্য ঘর ভাড়া দেওয়ার বিধান

প্রশ্ন: অনেক মানুষ আছে যারা ব্যাক্তিগত ভাবে সুদি কারবার করে কোন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান ছাড়াই। যেমন তারা মানুষকে ঋণ দেয় এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বাড়তি নিয়ে নেয়। এদেরকে যদি বলা হয়, এ সব সুদের পর্যায়ে পড়ে এবং এভাবে ইনকাম করাটা হালাল না তখন তারা এ যুক্তি দেখায় যে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা তো এ রকমই। ব্যাংকগুলো সুদের উপর চলে। তারা বৃহৎ পর্যায়ে কাজ করে আমরা ক্ষুদ্র পর্যায়ে। আমরা তো সবাই মানুষের উপকার করছি। এদের কথার উত্তর কিভাবে দিতে পারি? দয়া করে জানাবেন।

রিলেটেড প্রশ্ন: যারা এ রকম ব্যবসা করে পাশাপাশি ফোন, ফ্যাক্স এবং বিকাশ লেনদেনের ব্যবসা আছে তাদের কে কি দোকান ভাড়া দেয়া যাবে?

উত্তর:

বিকাশ (Bkash) মূলত ব্রাক ব্যাংক এর শাখা। আর ব্রাক একটি সুপরিচিত সুদি ব্যাংক। সুতরাং কেউ যদি বিকাশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে তাহলে সে মূলত সুদী ব্যাংকে কাজ করছে বলেই বিবেচিত হবে।
সুতরাং বিকাশ ব্যবসা করা যেমন জায়েজ নেই তেমনি বিকাশ ব্যবসার জন্য কাউকে ঘর ভাড়া দেওয়া জায়েজ নেই। অন্যথায় তা হারাম কাজে সহায়তা শামিল বলে গণ্য হবে। অথচ হারাম কাজে কোন ধরণের সাহায্য-সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ (সূরা মায়েদা: ২)
তবে ফোন ও ফ্যাক্স এর জন্য ঘর ভাড়া দেওয়ায় কোন আপত্তি নেই ইনশাআল্লাহ।

টাকা ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়া সুদের অন্তর্ভুক্ত। এটা হারাম ও কবিরা গুনাহ। কুরআন ও হাদিসে এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত সতর্কবাণী এসেছে। যেমন:
আল্লাহ তাআলা বলেন,
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّـهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ۚ فَمَن جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىٰ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّـهِ ۖ وَمَنْ عَادَ فَأُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

“যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দণ্ডায়মান হবে, যেভাবে দণ্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছে: ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ তা’আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ পছন্দ করেন না কোন অবিশ্বাসী পাপীকে। “আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন।” (বাকারা: ২৭৫ ও ২৭৬)

সুতরাং মুসলিমের জন্য কোনভাবেই সুদি কারবারে জড়িত হওয়ার সুযোগ নাই। চাই ব্যাংকিং খাতে হোক বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে হোক। ব্যাংকগুলোতে সুদি কারবার করে বলে তা ব্যক্তিগতভাবে তা বৈধ হয়ে যাবে না। হারাম হারামই। কে করল না করল তা দেখে আল্লাহ তাআলার এই অলঙ্ঘনীয় বিধান পরিবর্তন হবে না।
আর ‘সুদ লেনদেনের মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয়’ এটাও সুদ হালাল হওয়ার পক্ষে যুক্তি হতে পারে না। কেননা কুরআন বলছে, মদেও কিছু উপকারী দিক রয়েছে। কিন্তু তার ক্ষতিকর দিক বেশি। তাই বলে তো মদ হালাল হবে না। যারা পতিতাবৃত্তি করে তারাও যুক্তি দেখায় যে, তারাও না কি মানুষের উপকার করছে! এভাবে প্রত্যেক অন্যায়কারীর পক্ষেই যুক্তি আছে। কিন্তু যুক্তি দিয়ে হালাল-হারাম নির্ধারিত হয় না।

আমরা মুসলিম। মুসলিম মানে আত্মসমর্পণকারী। আল্লাহর যে কোন বিধানের সামনে বিনা প্রশ্ন আত্মসমর্পন করাই মুসলিমের কাজ। সুতরাং সুদের পক্ষে যুক্তি না খুঁজে আমাদের কতর্ব্য, নির্দ্ধিধায় এই বিধানকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করা এবং সুদি কারবারকে প্রত্যাখান করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হারাম থেকে বাঁচার তওফিক দান করুন। আমিন।
আল্লাহু আলাম।
———————
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার সউদী, আরব