কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

মাহরাম পুরুষ ছাড়া মহিলাদের উমরা সফর, উমরা সফরে স্ত্রী সহবাস এবং ঋতুস্রাব হলে করণীয়

প্রশ্ন:
ক. আমরা যারা সৌদি আরবি কর্মরত আছি তাদের মাঝে কেউ যদি তার স্ত্রীকে উমরা পালনের উদ্দেশ্যে ১৫/১৬ দিনের জন্য নিয়ে আসে তাহলে আসার পরে তারা স্বামী-স্ত্রী কি সহবাস করতে পারবে? বা কখন করতে পারবে কখন পারবে না?
খ. এই উমরা চলাকালীন সময়ে যদি উক্ত স্ত্রীর হায়েয হয় তাহলে করণীয় কি?

উত্তর:
 উমরার জন্য ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা হারাম। এর আগে বা পারে যে কোন সময় স্ত্রী সহবাস করা বৈধ।
উমরা চলাকালীন সময় কোন মহিলার ঋতুস্রাব হলে কেবল কাবা ঘরের তওয়াফ ও তওয়াফ শেষ দু রাকআত সালাত ছাড়া উমরার অন্যান্য সকল কাজ করা বৈধ। অর্থাৎ ঋতুস্রাব অবস্থায় কাবা ঘরের তওয়াফ ও তওয়াফ শেষ দু রাকআত নামায থেকে বিরত থাকবে কিন্তু সাফা-মারওয়া মাঝে সাঈ, মাথার চুল মুণ্ডন ইত্যাদি সব কাজই স্বাভাবিক নিয়মে করতে পারবে।

 ঋতুস্রাব শেষ হলে উক্ত মহিলাকে সাথে নিয়ে তানঈম (যা বর্তমানে মসজিদে আয়েশা নামে সুপরিচিত) স্থান বা হারাম সীমানার বাইরে নিয়ে যাবেন। সে সেখানে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করার পর ইহরাম বেধে কাবা ঘরের বাকি তওয়াফ সম্পন্ন করবে। তারপর দু রাকআত নামায আদায় করবে।
এ নিয়মে উমরার কার্যাবলী সম্পাদন করলে ইনশাআল্লাহ সঠিক পদ্ধতিতে উমরা আদায় হবে। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।

 স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া কোন মহিলার হ্জ-উমরা বা অন্য কোন ধরণের সফর বৈধ নয়:

ইসলামের দৃষ্টিতে কোন মহিলার জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া কোন ধরণের সফর বৈধ নয়। এমন কি হজ্জ-উমরার সফরও নয়।

এ মর্মে হাদিস হল:

💠 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে নারী আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে জেনে রাখ! তার জন্য অনুমতি নেই যে, সে আপন স্বামী অথবা মাহরাম পুরুষ ছাড়া সফর সমান দূরত্বে একাকী ভ্রমণ করবে। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৩৩৮)

💠 নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কোন নারী নিজ মাহরাম সঙ্গী ছাড়া একাকী সফর করবে না। ”
তখন উপস্থিত এক সাহাবী আরজ করলেন, “আমি তো অমুক জিহাদে যাচ্ছি। আর এ দিকে আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে যাচ্ছে। (আমি কি করবো)? জিহাদে বের হবো, নাকি স্ত্রীর সাথে হজ্বের সফরে বের হব।? কারণ আমি ছাড়া তার অন্য কোন মাহরারম সঙ্গী নেই।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
“তুমি জিহাদে না গিয়ে তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্বের সফরে যাও।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং- ৩০০৬)
বর্তমানে অনেক মহিলাকে দেখা যায়, স্বামী বা মাহরাম ব্যতিরেকে অন্যান্য মহিলাদের সাথে বা উমরা যাত্রীদের গ্রুপের সাথে ট্রাভেলসের মাধ্যমে দেশ থেকে সৌদি আরব উমরা আদায় বা ভিজিট করার উদ্দেশ্যে জন্য আসে আর এ দিকে তার স্বামী সৌদি ইয়ার পোর্ট থেকে তাকে রিসিভ করে! ইসলামের দৃষ্টিতে এ কাজটি বৈধ নয়। কারণ এতে একজন মহিলাকে মাহরাম ছাড়া বহু দূরের পথ পাড়ি দিতে হয়- যা ইসলাম অনুমোদিত নয়।
সুতরাং হয় নিজে দেশ গিয়ে তাকে সাথে করে এনে উমরা আদায় করুন অথবা তার সাথে তার বাবা, শ্বশুর, ভাই ইত্যাদি কোন মাহরাম পুরুষকে আনার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এভাবে মহিলাকে একাকী সফর থেকে বিরত রাখুন। নতুবা নেকির সফর গুনাহের সফরে রূপান্তরিত হবে। আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।
▬▬▬🔹🔸🔹▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব

Share This Post