কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বেহুশ অবস্থায় ছুটে যাওয়া সালাত কি কাযা করতে হবে?

প্রশ্নঃ আমার আম্মা গত রবিবার ২৬.১১.১৭ ইং ফজরের সালাত আদায় করার পর আসুস্থ হওয়ার পর এই ৭/৮ দিন পর্যন্ত কোন সালাত আদায় করতে পারে নি।
উল্লেখ্য যে, হঠাৎ আমার আম্মার মুখের আওয়াজ বন্দ হয়ে যাওয়াতে আম্মাকে ১ম দুই দিন ICU তে রাখা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের কেবিনে আছে। কোন হুশ নেই বললেই চলে। বাম হাত-পায়ের কোন নড়া-চড়া নেই। নাকের ভেতর পাইপ দিয়ে খাবার অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে।

এই অবস্থায় আম্মা কিভাবে সালাত আদায় করবে?
যদি এই অবস্থায় সালাত আদায় করতে না পারে তাহলে আম্মার গুনাহ হবে কি না?

উত্তর:
দুআ করি, আল্লাহ আপনার আম্মাকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন। আমীন।
অত:পর-
এ ধরণের পরিস্থিতির শিকার ব্যক্তির সালাতের বিধান হল, বেহুশ অবস্থায় ছুটে যাওয়া সালাত কাজা করতে হবে না। কেননা, নামায ফরজ ঐ ব্যক্তির জন্য যার হুশ-বুদ্ধি ঠিক আছে। কিন্তু বেহুশ, পাগল বা মস্তিস্ক বিকৃত ব্যক্তির উপর নামায ফরজ নয়।
সুতরাং এ অবস্থায় ছুটে যাওয়া নামায কাজা করতে হবে না।

সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমগণকে কোন এক ব্যক্তি কর্তৃক প্রশ্ন করা হয়েছিল:
*আমি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলাম। এর ফলে তিনমাস হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ছিলাম। এ সময়ে আমার হুঁশ ছিল না। এ পুরো সময়ে আমি কোন সালাত আদায় করি নি। আমি কি এ সালাতগুলো কাযা করা থেকে অব্যাহতি পাব? নাকি আমাকে এ সালাতগুলো কাযা করতে হবে?*

তাঁরা উত্তরে বলেন:
“উল্লেখিত সময়ের সালাত কাযা করা থেকে আপনি অব্যাহতি পাবেন। কারণ তখন তো আপনার কোন হুঁশ ছিল না।” [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]

তাঁদেরকে আরো প্রশ্ন করা হয়েছিল:
*যদি কেউ এক মাস অজ্ঞান অবস্থায় থাকে এবং এ পুরো সময়টাতে কোন সালাত আদায় না করে, তবে তিনি ছুটে যাওয়া সালাত কী পদ্ধতিতে আদায় করবেন?*

তাঁরা উত্তরে বলেন:

“এ সময়ে যে সালাতসমূহ বাদ গিয়েছে তা কাযা করতে হবে না। কারণ উল্লেখিত অবস্থায় তিনি বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির হুকুমের মধ্যে পড়েন। বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির উপর থেকে তো (শরয়ি বিধান আরোপের) কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।” [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]

[গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতোয়া সমগ্র (৬/২১)]

যদিও এ ব্যাপারে ভিন্ন মত আছে। কোন কোন আলেমের মতে (যেমন শায়খ আব্দুল্লাহ বিন বায রহ.) তিন দিন পর্যন্ত বেহুশ থাকলে সে সময়ের ছুটে যাওয়া নামাজ গুলো কাযা করতে হবে। তার চেয়ে বেশি সময় বেহুশ থাকলে কাযা করার দরকার নাই। এ ব্যাপারে আম্মার রা. থেকে একটি বর্ণনা উল্লেখ করা হয় যে,‌ তিনি তিন দিন পর্যন্ত বেহুশ থাকার পরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে অজু করে তিনদিনের ছুটে যাওয়া নামাজগুলো কাযা করেছেন।

কিন্তু হাদীস বিশারদদের মতে, এই বর্ণনাটি সনদগতভাবে যঈফ। আল্লাহ আলাম।
——————–
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

Share This Post