কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বিয়েতে নারীর সাজসজ্জা: হালাল-হারাম

প্রশ্ন: একজন মেয়ে বিয়েতে কোন কোন প্রসাধনী সামগ্রী ক্রয় ও ব্যবহার করতে পারবে? যেমন: স্নো, পাউডার, ক্রিম, আই লাইনার, মেকআপ, মাথায় টিপ পরা ইত্যাদি। আর ইসলামে নারীদের সাজগোজের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলো নিষিদ্ধ?
উত্তর:
মেয়েরা সৌন্দর্য অবলম্বনের জন্য যেকোনো ধরণের মেকআপ বা সাজগোজের উপকরণও প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবে। শুধু সেটা নয় যেটাতে হারাম বস্তু (যেমন: শুকর বা হারাম প্রাণীর চর্বি) এর মিশ্রণ আছে বলে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ পাওয়া যাবে। এ্যালকোহল মিশ্রণ থাকলে তা ব্যবহার করা যাবে কি না তা দ্বিমত পূর্ণ। তবে বিকল্প থাকলে ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

সুতরাং বিয়ে-শাদী অথবা যেকোনো হালাল উপলক্ষে তারা যেকোনো ধরণের প্রসাধনী ক্রয় ও ব্যবহার করতে পারবে। তবে শর্ত হল, সেগুলো ব্যবহার করে পর পুরুষের সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করা যাবে না। বরং কেবল স্বামী, নারী অঙ্গন বা মাহরাম পুরুষদের সামনে সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে।

অনুরূপভাবে সৌন্দর্য চর্চা করতে গিয়ে এমন কোনও কিছু করা যাবে না যা ইসলামি শরিয়তে হারাম করা হয়েছে।

ইসলামে নারীদের সাজসজ্জার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় হারাম সেগুলো হল:
১. ভ্রূ প্ল্যাক করা।
২. দাঁত চিকন করা।
৩. পরচুলা ব্যবহার করা।
৪. শরীরে উল্কি অংকন করা।
৫. চুলে কালো কলপ ব্যবহার করা।
৬. বাজনাদার নূপুর পরিধান করা।
৭. পরপুরুষদের নিকট গমনকালে সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করা।
৮. পুরুষদের জন্য নির্ধারিত জামা-কাপড় জুতা ইত্যাদি ব্যবহার করা।
৯. শরীরে উল্কি অঙ্কন করা।
১০. মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক বা হারাম উপাদান থেকে তৈরি কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করা।
১১. পরপুরুষের মাধ্যমে মেকআপ করা।
১২. এমন পাতলা পোশাক পরিধান করা যাতে তার চামড়া বোঝা যায়।
১৩. এমন টাইট-ফিট পোশাক পরিধান করা যাতে শরীরের বিভিন্ন গঠন ও আকৃতি ফুটে উঠে।
১৪. কাফের-ফাসেক নায়িকা বা মডেলদের অনুসরণ করা।
১৫. মাথার উপরে উঁচু করে চুলের খোঁপা বাঁধা
১৬. কৃত্রিম নখ, ভ্রূ, ও চোখে কালার লেন্স ব্যবহার করা।
১৭. হায়েজ না থাকলে এমন মেহেদি বা রং ব্যবহার করা যার ফলে ওজু-গোসলে শরীরে পানি পৌঁছুতে বাধাগ্রস্ত হয় ইত্যাদি। হায়েজ থাকলে এগুলো ব্যবহার করতে কোনও আপত্তি নাই।
আল্লাহু আলাম।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল-

Share This Post