কুরআনে ভুলবশত পা লাগলে কী করণীয়? এবং ইচ্ছাকৃত কুরআন অবমাননাকারীর পরিণতি ও শাস্তি

প্রশ্ন: কুরআনে ভুলবশত পা লাগলে কী করণীয়? এবং ইচ্ছাকৃত কুরআন অবমাননাকারীর পরিণতি ও শাস্তি
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
উত্তর:
কুরআন আল্লাহ সম্মানিত বাণী সমষ্টি ও দুনিয়ার সবচেয়ে সম্মানিত গ্রন্থ। সুতরাং প্রতিটি মুসলিমের জন্য তার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রাখা অপরিহার্য। কোনোভাবে যেন তার মানহানি না হয় সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সর্তকতা অবলম্বন করা জরুরি। এমন স্থানে রাখবে না যাতে তা পদদলিত হওয়ার অথবা তাতে মানুষের পায়ের স্পর্শ লাগার অথবা কোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বরং উঁচু, পবিত্র ও নিরাপদ স্থানে রাখবে।

🔶 হঠাৎ বেখেয়ালে কুরআন পদদলিত হলে বা তাতে পায়ের স্পর্শ লাগলে কি করণীয়?

যদি কখনো অসতর্কতাবশত হঠাৎ কুরআনে পায়ের স্পর্শ লেগে যায় বা বেখেয়ালে তা পদদলিত হয় তাহলে করণীয় হল, তৎক্ষণাৎ লজ্জিত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। (আসতাগফিরুল্লাহ-আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি) পাঠ করা) তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলার ক্ষমা করে দিবেন। কারণ অনিচ্ছা বশত: কোন ভুল বা অন্যায় আচরণ করে ফেললে দয়াময় আল্লাহ তার গুনাহ লিখেন না।
সুতরাং এখানেও তিনি গুনাহ লিখবেন না বলে আশা করা যায়। তারপরও এই অনিচ্ছাবশত: ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত ভাবে ক্ষমা চেয়ে নেয়া নি:সন্দেহে উত্তম।

❂ মহান আল্লাহ বলেন,

وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُم

“ভুলক্রমে তোমরা যা করে ফেল সে সম্পর্কে তোমাদের কোনও গুনাহ নেই। কিন্তু তোমাদের অন্তর যার ইচ্ছা করে তার কথা ভিন্ন।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫]

❂ তিনি আরও বলেন,

رَبَّنا لا تُؤاخِذنا إِن نَسينا أَو أَخطَأناّ

“হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা হঠাৎ অনিচ্ছাবশত: কোন ভুল করে ফেলি তবে আমাদেরকে ধরিও না।” [সূরা বাকারা: ২৮৬]

❂ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

«إِنَّ اللَّهَ قَدْ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ ، وَالنِّسْيَانَ ، وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ»

“আমার উম্মতের হঠাৎ ঘটে যাওয়া ভুল, স্মরণ না থাকার কারণে ঘটে যাওয়া অন্যায় এবং জোরজবরদস্তি করে কৃত অপরাধকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।” [ইবনে মাজাহ: ২০৪৩; সহীহ ইবনে হিব্বান: ৭১৭৫, বায়হাকি-হাসান]

আর আগামীতে আমাদের চলাফেরার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি যেন, কোনোভাবেই আল্লাহর কালামের প্রতি অসম্মান প্রদর্শিত না হয়।
🔶কুরআন পায়ে লাগলে তাকে ‘সালাম’ করা বা কপালেও চোখেমুখে ইত্যাদিতে লাগানোর বিধান:

অনেককে দেখা যায়, এই ক্ষেত্রে কুরআনে ‘সালাম’ করে বা কুরআনকে কপাল ও চোখে-মুখে লাগায়, চুমু খায়, বুকে জড়িয়ে ধরে। মূলত শরিয়তে এমন কোনও নির্দেশনা আসেনি। তাই এগুলো না করাই ভালো। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি হঠাৎ আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কিছু করে তাতে ইনশাআল্লাহ গুনাহ হবে না। তবে এটিকে সুন্নত মনে করা কিংবা প্রতিবারই এমন করাকে নিয়মে পরিণত করা যাবে না।

🔶 ইচ্ছাকৃতভাবে কোরআন অবমাননা করলে তার শাস্তি:

যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে কুরআনকে পদদলিত বা পদাঘাত করে, টয়লেট কিংবা নোংরা স্থানে নিক্ষেপ করে, প্রচণ্ড আক্রোশে ছিঁড়ে ফেলে (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) ইত্যাদি তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে বা মুরতাদ বলে পরিগণিত হবে। ইসলামি আইনে কুরআন অবমাননাকারীর শাস্তি হল, মৃত্যুদণ্ড-বিজ্ঞ আলেমদের মাঝে এ বিষয়ে কোনও দ্বিমত নাই। তবে সে যদি এ অন্যায় কর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে খাঁটি ভাবে তওবা করে ইসলামে ফিরে আসে তাহলে ইসলামি আদালতে সে সাজা থেকে অব্যাহতি পাবে। এবং দয়াময় আল্লাহও তাকে ক্ষমা করবেন বলে আশা করা যায়। নিশ্চয় আল্লাহ পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল।

🔶 কুরআন অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা:

কুরআন অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাধারণ মানুষ কর্তৃক গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা অথবা হত্যা করা অথবা কোন অঙ্গহানি বা ভয়ানক শাস্তি দেয়া মারাত্মক অন্যায় ও ইসলামী আইন বিরুদ্ধ কাজ। কেননা এগুলো মূলত আদালতের কাজ। আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যাপারে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত সাপেক্ষে এবং সে মানসিকভাবে সুস্থ কিনা ইত্যাদি দেখে-শুনে তারপর যথাযোগ্য শাস্তি দিবে। আদালত যদি তা না করে বা না করার সম্ভাবনা না থাকে তারপরও জনগণ নিজেরা আইন তুলে নেবে না।

কারণ ইসলামে এ দায়িত্ব কখনোই সাধারণ জনগণের ওপর ন্যস্ত করেনি। সুতরাং তারা অতি আবেগী হয়ে কখনোই এমন কাজে জড়াবে না যা তাদেরকে দায়িত্ব নয়। অন্যথায় এতে ইসলামের বদনাম এবং সমাজে রক্তপাত, হানাহানি, রক্তপাত ও নানা‌ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। (আল্লাহ হেফাজত করুন)
▬▬▬◍❂◍▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।

Share: