কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

অমাবস্যা ও পূর্ণিমার রাতে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস করার বিধান কি

প্রশ্ন: অমাবস্যা ও পূর্ণিমার রাতে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস করতে চাইলে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক কোন বিধি-নিষেধ আছে কি? এবং এতে বাচ্চা জন্ম হলে কি তার উপর কোন প্রভাব পড়বে?

উত্তর:

ইসলামের দৃষ্টিতে অমাবস্যা, পূর্ণিমা অথবা অন্য যে কোন দিন, যে কোনও সময় স্ত্রী সহবাস করা জায়েজ। কুরআন-হাদিসে স্বামী-স্ত্রীর মিলনের জন্য (রমজানের দিনের বেলা/রোজা অবস্থা ছাড়া) বিশেষ কোন দিন বা রাতের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আসে নি। এতে সন্তানের উপর কোনও কুপ্রভাব পড়ে না এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও এ কথার কোনও সত্যতা নেই।

এটি সম্পূর্ণ কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। ইসলামের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। হিন্দুয়ানী বিশ্বাস থেকে ভারত উপমহাদেশের অজ্ঞ মুসলিমদের মধ্যে এ কুসংস্কার প্রবেশ করেছে। কেননা হিন্দু ধর্মমতে এ দু রাতে স্ত্রী সহবাস করলে সন্তানের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
তাদের ধর্মে বলা হয়েছে:
“অমাবস্যা, পূর্ণিমা, চতুর্দশী, অষ্টমী ও সংক্রান্তির দিনগুলিতে সহবাস করবেন না। কারণ এই দিনগুলি পুরুষ ও স্ত্রীর শুক্র ও শনি দুষ্ট থাকে।” (আনন্দবাজার পত্রিকা, জ্যোতিষকথা, তাং ২৮/২/২০১৯)

আরও বলা হয়েছে:

“অমাবস্যা, পূর্ণিমায় সহবাসে উৎপন্ন সন্তান আসুরিক কিংবা রাক্ষস মনোভাব নিয়ে জন্ম নেয়। সেই সন্তান দ্বারা সমাজ, সংসার, রাষ্ট্র, পিতা- মাতা, আত্মীয় স্বজন সর্বদা উদ্বেগ প্রাপ্ত হবেন।” (উৎস: ফেসবুক পেইজ: HINDU হিন্দু, তাং ২৭/৬/২০১৯-সংক্ষেপিত)

মুসলিমদের জন্য এসব কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভ্রান্ত ও বাতিল কথায় বিশ্বাস করা হারাম।
আল্লাহু আলাম
———————–
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার সঊদি আরব।

Share This Post