প্রশ্ন: নিজের জন্মদিনে রোজা রাখা কি জায়েজ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণে? আমি বোঝাতে চাচ্ছি, সপ্তাহের হিসেবে আমার জন্মদিনের কথা — যেমন: আমি রবিবার জন্মগ্রহণ করেছি। তাই প্রতি সপ্তাহে রবিবার রোজা রাখি এই কারণে যে, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোমবার রোজা রাখতেন (কারণ তিনি সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন)?
উত্তর:
الحمد لله والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن والاه، أما بعد:
শুধুমাত্র রবিবার আপনার জন্মবার হওয়ার কারণে এই দিনটিকে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করা আপনার জন্য জায়েজ নয়। নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে সোমবার রোজা রাখতেন — এই যুক্তিটি আপনি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তা শরিয়তের নিরিখে আপনার পক্ষে যায় না। কারণ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোমবার রোজা রাখতেন এই জন্য যে, তিনি সেদিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং সেদিনই তাঁর উপর ওহি নাজিল হয়েছিল। যেমন: সহিহ মুসলিমে এসেছে — তাঁকে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
ذَاكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ، وَيَوْمٌ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَيَّ فِيهِ
“এটি সেই দিন, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমি নবি হিসেবে প্রেরিত হয়েছি অথবা আমার উপর ওহি নাজিল করা হয়েছে।” [সহিহ মুসলিম]
নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোমবার রোজা রাখার আরেকটি কারণ হলো — এই দিনে বান্দার আমলসমূহ আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। যেমন: সুনানে তিরমিজিতে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে,
تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ، فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ
“সোমবার ও বৃহস্পতিবারে (আল্লাহর দরবারে বান্দার) আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, যখন আমার আমল পেশ করা হবে তখন যেন আমি রোজাদার অবস্থায় থাকি।” [সুনানে তিরমিজি]
এছাড়াও তিনি এই দিনে রোজা রাখতেন এ কারণে যে, এটি গুনাহ মাফের একটি দিন। যেমন: সুনানে ইবনে মাজাহতে (আলবানি রহ. একে সহিহ বলেছেন) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত — নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রসুল, আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখেন কেন? তিনি বললেন,
إِنَّ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ يَغْفِرُ اللَّهُ فِيهِمَا لِكُلِّ مُسْلِمٍ إِلَّا مُتَهَاجِرَيْنِ، يَقُولُ: دَعُوهُمَا حَتَّى يَصْطَلِحَا
“সোমবার ও বৃহস্পতিবারে আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন। তবে যারা পরস্পর সম্পর্কচ্ছেদ করে আছে তাদের ব্যতীত। তিনি (আল্লাহ) বলেন — এ দু’জনকে ছেড়ে দাও (বাদ দাও) যতক্ষণ না তারা আপস-মীমাংসা করে নেয়।” (অর্থাৎ পরস্পরে বিবাদমান ব্যক্তিদেরকে এই দুইদিন সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনা হবে না যতক্ষণ না তারা নিজেরা মিটমাট করে নেয়)।” [সুনানে ইবনে মাজাহ]
আর সোমবার সম্পর্কে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী — “এটি সেই দিন, যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি” — এর অর্থ এই নয় যে, যে ব্যক্তি যে বারে জন্মগ্রহণ করেছে, সে প্রতি সপ্তাহে সেদিন রোজা রাখবে। বরং এতে মূলত সোমবার দিনটির বিশেষ মর্যাদা ফুটে উঠেছে। কেননা এই মহান দিনটিতেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। কোনো ব্যক্তির নিজ জন্মবারে রোজা রাখা যদি শরিয়তসম্মত হতো তবে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতেন এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তা আমল করতেন। কারণ দ্বীনের কল্যাণকর কাজে তাঁরাই ছিলেন সবচেয়ে অগ্রগামী।
والله أعلم আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন। [Source: Islam Web]
▪️আল্লামা শাইখ সালেহ আল ফাউজান (হাফিযাহুল্লাহ) সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি কোনো ব্যক্তির জন্য নিজের জন্মদিনে রোজা রাখা শরিয়তসম্মত নয়।
প্রশ্ন: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। সম্মানীয় শায়খের কাছে প্রশ্ন: বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একসাথে মিলিয়ে রোজা রাখা, কিংবা নিয়মিত নয় বরং মাঝে মাঝে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে শুক্রবার রোজা রাখার বিধান কী—যদি দিনটি আমার জন্মদিন হয়? উল্লেখ্য, আমি মাঝে মাঝে সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রেখে থাকি।
উত্তর:
أَمَّا الصِّيَامُ عَنِ الْوِلَادَةِ، فَهَذَا غَيْرُ مَشْرُوعٍ، وَهَذَا بِدْعَةٌ، وَلَا يَجُوزُ أَنْ تَعْمَلَ فِي يَوْمِ وِلَادَتِكَ أَيَّ عَمَلٍ خَاصٍّ مِنْ عِبَادَةٍ أَوْ غَيْرِهَا، لِأَنَّ هَذَا مِنِ اتِّخَاذِهِ عِيدًا، وَقَدْ جَاءَ النَّهْيُ الصَّرِيحُ فِي التَّشَبُّهِ بِالْكُفَّارِ، وَهَذَا مِنَ التَّشَبُّهِ بِالْكُفَّارِ، هُمُ الَّذِينَ يَحْتَفِلُونَ بِأَيَّامِ مَوَالِيدِهِمْ وَمَوَالِيدِ أَنْبِيَائِهِمْ وَعُظَمَائِهِمْ، فَهَذَا مِنَ التَّشَبُّهِ بِهِمْ. وَقَدْ قَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ». وَلَيْسَ لِلْمُسْلِمِينَ إِلَّا عِيدَانِ: عِيدُ الْفِطْرِ وَعِيدُ الْأَضْحَى. فَلَا يَجُوزُ لَكَ أَنْ تَحْتَفِلَ بِيَوْمِ وِلَادَتِكَ.
وَأَمَّا الصِّيَامُ، فَيُكْرَهُ إِفْرَادُ صِيَامِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ لِمَا جَاءَ فِي النَّهْيِ عَنْهُ.
“জন্মদিন উপলক্ষে রোজা রাখার বিষয়ে বলব, এটি শরিয়তসম্মত নয় বরং একটি বিদআত। নিজের জন্মদিনে ইবাদত-বন্দেগি কিংবা অন্য কোনো বিশেষ আয়োজন করা জায়েজ নয়। কারণ এতে দিনটিকে ঈদ বা উৎসবে রূপ দেওয়া হয়। অথচ অমুসলিমদের অনুকরণ বা সাদৃশ্য অবলম্বনের ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর এটি মূলত তাদেরই অন্ধ অনুকরণ। কেননা তারাই নিজেদের, নিজেদের নবিদের এবং স্মরণীয় ব্যক্তিত্বদের জন্মদিন পালন করে থাকে। তাই এমনটা করা তাদের সাদৃশ্য গ্রহণেরই শামিল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
“যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” [সুনানে আবু দাউদ] আর মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত উৎসব কেবল দুটিই: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। সুতরাং আপনার জন্য নিজের জন্মদিন উদযাপনের সুযোগ নেই। আর শুক্রবারের রোজার বিষয়টি হলো, শুধুমাত্র এই একটি দিনকে এককভাবে রোজার জন্য নির্দিষ্ট করা মাকরুহ। হাদিসে এর নিষেধাজ্ঞা আসায় কেবল শুক্রবারে রোজা রাখা অপছন্দনীয়।
উৎস: YouTube channel@dralfawzann
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।