অনেক সময় কিছু ইমাম (আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত করুন) সিররি বা নিচুস্বরে কিরাত পড়ার সালাতে এত দ্রুত সূরা ফাতিহা পাঠ করে রুকুতে চলে যান যে, পেছনে যে সব মুক্তাদি সূরা ফাতিহা পাঠ করে তারা তা শেষ করতে পারে না। এমতবস্থায় সে মুক্তাদি কী করবে?
— সে কি একা একা সূরা ফাতিহা পাঠ করে তারপর রুকুতে যাবে ইমাম রুকু থেকে উঠে গেলেও? অতঃপর পরে সে রাকাতটা ইমামের সালাম ফেরানোর পর একাকী উঠে কাজা পড়ে নিবে? (যেহেতু অধিক বিশুদ্ধ মতে ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পড়া সালাতের রোকন। তা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হবে না।)
— নাকি যতটুকু পড়া হয়েছে ততটুকু পড়েই ইমামের সাথে রুকুতে শরিক হবে?
— আর এমনটি করলে কি তার ঐ রাকাতটি শুদ্ধ বলে গণ্য হবে নাকি হবে না?
এসব বিষয়ে অনেক মুসল্লি দ্বিধান্বিত থাকে। তাই এই বহুল জিজ্ঞাসিত সমস্যার সঠিক সমাধান উপস্থাপন করা হলো, যুগের তিন শ্রেষ্ঠ আলেম তথা শাইখ উসাইমিন (রাহ.), শাইখ বিন বায (রাহ.) এবং শাইখ আলবানি (রাহ.)-এর দলিল ভিত্তিক ফতওয়ার আলোকে:
তার আগে আমাদের জানা কর্তব্য যে, সূরা ফাতিহা পাঠ করা ইমাম, মুক্তাদি ও একাকী সালাত আদায়কারী—প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই প্রতি রাকাতেই একটি রোকন (অপরিহার্য অংশ)। ফকিহগণের নিকট এটিই সর্বাধিক অগ্রগণ্য মত। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো, নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিম্নোক্ত হাদিসটি:
“مَنْ صَلَّى صَلَاةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ -ثَلَاثًا- غَيْرُ تَمَامٍ”
“যে ব্যক্তি এমন সালাত আদায় করল যাতে সে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করল না তার সেই সালাত ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ—অসম্পূর্ণ।” [সহিহ মুসলিম: ৩৯৫, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত]
এ ছাড়াও এ মর্মে আরও বহু হাদিস রয়েছে। তবে এই বিধান থেকে কেবল একটি ক্ষেত্র ব্যতিক্রম আর তা হলো ‘মাসবুক’ (দেরিতে জামাতে আসা মুক্তাদি), যদি সে ইমামকে রুকু অবস্থায় পায়।
❒ শাইখ ইবনে উসাইমিন (রাহ.) বলেন:
«هَذَا الَّذِي ذَكَرْنَاهُ ـ وَهُوَ أَنَّ قِرَاءَةَ الْفَاتِحَةِ رُكْنٌ فِي حَقِّ كُلِّ مُصَلٍّ: الْإِمَامِ، وَالْمَأْمُومِ، وَالْمُنْفَرِدِ. وَلَا يُسْتَثْنَى مِنْهَا إِلَّا مَسْأَلَةٌ وَاحِدَةٌ، وَهِيَ الْمَسْبُوقُ إِذَا أَدْرَكَ إِمَامَهُ رَاكِعاً، أَوْ قَائِماً وَلَمْ يَتَمَكَّنْ مِنْ قِرَاءَةِ الْفَاتِحَةِ ـ هَذَا هُوَ الَّذِي دَلَّتْ عَلَيْهِ الْأَدِلَّةُ الشَّرْعِيَّةُ.
فَإِذَا قَالَ قَائِلٌ: مَا الدَّلِيلُ عَلَى اسْتِثْنَاءِ هَذِهِ الصُّورَةِ؟
فَالْجَوَابُ: الدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ حَدِيثُ أَبِي بَكْرَةَ الثَّابِتُ فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ حَيْثُ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ رَاكِعٌ، فَأَسْرَعَ وَرَكَعَ قَبْلَ أَنْ يَصِلَ إِلَى الصَّفِّ، ثُمَّ دَخَلَ فِي الصَّفِّ، فَلَمَّا انْصَرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الصَّلَاةِ سَأَلَ مَنِ الْفَاعِلُ؟ فَقَالَ أَبُو بَكْرَةَ: أَنَا، فَقَالَ: زَادَكَ اللَّهُ حِرْصاً وَلَا تَعُدْ، وَلَمْ يَأْمُرْهُ بِقَضَاءِ الرَّكْعَةِ الَّتِي أَدْرَكَ رُكُوعَهَا، دُونَ قِرَاءَتِهَا، وَلَوْ كَانَ لَمْ يُدْرِكْهَا لَكَانَتْ قَدْ فَاتَتْهُ، وَلَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَضَائِهَا، كَمَا أَمَرَ الْمُسِيءَ فِي صَلَاتِهِ أَنْ يُعِيدَهَا، فَلَمَّا لَمْ يَأْمُرْهُ بِقَضَائِهَا عُلِمَ أَنَّهُ قَدْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ، وَسَقَطَتْ عَنْهُ قِرَاءَةُ الْفَاتِحَةِ، فَهَذَا دَلِيلٌ مِنَ النَّصِّ.
وَالْمَعْنَى يَقْتَضِي ذَلِكَ: لِأَنَّ هَذَا الْمَأْمُومَ لَمْ يُدْرِكِ الْقِيَامَ الَّذِي هُوَ مَحَلُّ الْقِرَاءَةِ، فَإِذَا سَقَطَ الْقِيَامُ سَقَطَ الذِّكْرُ الْوَاجِبُ فِيهِ وَهُوَ الْقِرَاءَةُ» انْتَهَى مِنْ “الشَّرْحِ الْمُمْتِعِ” (٣/ ٢٩٨).
“আমরা যা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ সূরা ফাতিহা পাঠ করা ইমাম, মুক্তাদি ও একাকী সালাত আদায়কারী প্রতিটি মুসল্লির জন্যই একটি রোকন। এ নিয়ম থেকে কেবল একটি মাসআলাই ব্যতিক্রম। তা হলো, মাসবুক ব্যক্তি যদি ইমামকে রুকু অবস্থায় পায় কিংবা এমন অবস্থায় পায় যে ফাতিহা পড়ার সুযোগ পায়নি। (অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহা না পড়লেও সালাত শুদ্ধ হবে) শরয়ি দলিলগুলো মূলত এই বিধানটিই নির্দেশ করে।
কেউ যদি প্রশ্ন করেন: এই ব্যতিক্রমী বিধানের দলিল কী?
এর উত্তর হলো: এর দলিল হলো সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আবু বাকরা (রা.)-এর প্রসিদ্ধ হাদিস। তিনি এসে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রুকু অবস্থায় পেয়েছিলেন। তাই তিনি তাড়াহুড়ো করে নামাজের কাতারে পৌঁছার আগেই রুকু করে ফেলেন এবং পরে কাতারে গিয়ে শামিল হন।
সালাত শেষে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, ‘কে এমন করেছ?’
আবু বাকরা (রা.) বললেন, ‘আমি।’
তখন তিনি বললেন:
«زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا، وَلَا تَعُدْ»
“আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিন। তবে আর এমন করো না।”
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে সেই রাকাতটি পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দেননি। অথচ তিনি কেবল রুকু পেয়েছিলেন; ফাতিহা পড়ার সুযোগ পাননি। যদি তিনি সেই রাকাত না পেতেন তবে তা তাঁর ছুটে যেত এবং নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তা কাজা করার নির্দেশ দিতেন—যেমন সালাতে ভুল কারী ব্যক্তিকে (মুসিউস সালাত) তিনি সালাত পুনরায় পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি তাঁকে কাজা করার নির্দেশ দেননি তাই প্রমাণিত হলো যে, তিনি রাকাতটি পেয়ে গেছেন এবং তাঁর ওপর থেকে সূরা ফাতিহা মাফ হয়ে গেছে। এটি একটি স্পষ্ট নস বা শরয়ি দলিল।
আর অর্থের দিক থেকেও বিষয়টি যৌক্তিক। কারণ এই মুক্তাদি কিয়াম বা দাঁড়ানোর অবস্থাটাই পায়নি, যা মূলত কিরাত বা পাঠ করার মূল স্থান। সুতরাং যখন কিয়ামই রহিত হয়ে গেল তখন তার সাথে সম্পৃক্ত ওয়াজিব জিকির তথা কিরাতও রহিত হয়ে গেল।” — সমাপ্ত, “আশ শারহুল মুমতি” (৩/২৯৮) থেকে সংগৃহীত [Islamqa info]
শাইখকে আরও প্রশ্ন করা হয়—
এক ব্যক্তি জামাতে এমন সময় শরিক হলো, যখন ইমাম তাকবিরে তাহরিমা শেষ করে সূরা ফাতিহা পাঠ সম্পন্ন করেছেন। এরপর সে নিজে ফাতিহা পড়া শুরু করল। কিন্তু মাঝপথে ইমাম রুকুতে চলে গেলেন—তাহলে এই মুক্তাদি কি ইমামের সাথে রুকুতে চলে যাবে, নাকি নিজের মতো করে ফাতিহা পাঠ শেষ করবে?
উত্তরে তিনি বলেন, কোনও মুক্তাদি যখন জামাতে এমন সময় প্রবেশ করল যখন ইমাম রুকুতে যাওয়ার উপক্রম করেছেন, আর ওই মুক্তাদি তখনও পূর্ণ ফাতিহা পড়ার সুযোগ পায়নি—তখন দেখতে হবে যে তার কতটুকু বাকি আছে। যদি মাত্র এক বা দুই আয়াত বাকি থাকে, যা দ্রুত পড়ে নিয়ে ইমামকে রুকুতে ধরে ফেলা সম্ভব তবে সে তা-ই করবে (অর্থাৎ ফাতিহা শেষ করে রুকুতে যাবে)।
আর যদি এর চেয়ে বেশি অংশ বাকি থাকে, যা পড়তে গেলে ইমামকে রুকুতে পাওয়া যাবে না তবে সে ফাতিহা অসমাপ্ত রেখেই ইমামের সাথে রুকুতে শরিক হয়ে যাবে। [al-eman]
❒ আল্লামা শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায (রাহ.):
ইমাম রুকুতে চলে গেছেন অথচ মুসল্লি সূরা ফাতিহা শেষ করতে পারেননি—এখন মুক্তাদির কী করণীয়?
প্রশ্ন: আমাদের এক ভাই জানতে চেয়েছেন: ইমাম রুকুতে চলে গেলেন অথচ আমি তখনও সূরা ফাতিহা সম্পূর্ণ করতে পারিনি। এই অবস্থায় আমি কি ইমামের সাথে রুকুতে চলে যাব, নাকি ফাতিহা শেষ করব? আর মুক্তাদির ওপর থেকে কখন সূরা ফাতিহা মাফ হয়ে যায়?
উত্তর:
إِذَا كَانَ لَمْ يَبْقَ إِلَّا شَيْءٌ يَسِيرٌ، كَالْآيَةِ وَالْآيَتَيْنِ يُكْمِلُ، وَإِذَا كُنْتَ تَخْشَى أَنْ يَرْفَعَ؛ فَارْكَعْ، وَيَسْقُطْ عَنْكَ مَا بَقِيَ، كَمَا لَوْ جِئْتَ وَالْإِمَامُ قَدْ رَكَعَ؛ تَرْكَعُ وَتَسْقُطُ عَنْكَ الْفَاتِحَةُ، لَوْ جَاءَ الْمَأْمُومُ وَالْإِمَامُ رَاكِعٌ؛ رَكَعَ مَعَهُ، وَأَجْزَأَهُ، أَجْزَأَتْهُ الرَّكْعَةُ كَمَا فِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ جَاءَ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاكِعٌ؛ فَرَكَعَ دُونَ الصَّفِّ، ثُمَّ دَخَلَ فِي الصَّفِّ، فَلَمَّا سَلَّمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: «زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا، وَلَا تَعُدْ» وَلَمْ يَأْمُرْهُ بِقَضَاءِ الرَّكْعَةِ.
وَهَذَا قَوْلُ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ جَمِيعًا، أَنَّ مَنْ أَدْرَكَ الْإِمَامَ رَاكِعًا أَجْزَأَتْهُ الرَّكْعَةُ، وَسَقَطَتْ عَنْهُ الْفَاتِحَةُ، فَهَكَذَا إِذَا قَرَأَ أَوَّلَهَا، ثُمَّ خَافَ مِنْ فَوَاتِ الرَّكْعَةِ؛ يَرْكَعُ، وَلَا يَضُرُّهُ ذَلِكَ، وَهَكَذَا لَوْ نَسِيَهَا الْمَأْمُومُ، أَوْ كَانَ جَاهِلًا؛ سَقَطَتْ عَنْهُ، وَأَجْزَأَتْهُ صَلَاتُهُ مَعَ الْإِمَامِ.
بِخِلَافِ الْمُفْرِدِ وَالْإِمَامِ فَإِنَّهَا لَا تُجْزِئُهُ، لَوْ سَهَا عَنْهَا، أَوْ جَهِلَهَا؛ لَابُدَّ مِنْ قِرَاءَتِهَا؛ لِأَنَّهَا رُكْنُ صَلَاتِهِ، أَمَّا الْمَأْمُومُ فَهِيَ فِي حَقِّهِ وَاجِبَةٌ مَعَ الذِّكْرِ، وَمَعَ الْعِلْمِ، بِدَلِيلِ أَنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَأْمُرْ أَبَا بَكْرَةَ الثَّقَفِيَّ بِالْإِعَادَةِ لَمَّا جَاءَ وَالْإِمَامُ رَاكِعٌ، نَعَمْ
“সূরা ফাতিহা থেকে যদি মাত্র এক বা দুই আয়াত বাকি থাকে তবে তা পড়ে নেওয়া ভালো। তবে যদি আশঙ্কা হয় যে, ইমাম রুকু থেকে মাথা তুলে ফেলবেন তবে দেরি না করে সাথে সাথে রুকুতে চলে যাবে; বাকি অংশটুকু মাফ হয়ে যাবে। যেমন—কোনও মুসল্লি মসজিদে এসে পেলেন যে ইমাম রুকুতে চলে গেছেন। তখন তিনি ইমামের সাথেই রুকুতে শরিক হয়ে যাবেন এবং তাঁর ওপর থেকে ফাতিহা মাফ হয়ে যাবে। এর পক্ষে দলিল রয়েছে সহিহ বুখারিতে বর্ণিত আবু বাকরা (রা.)-এর ঘটনা। তিনি এসে দেখলেন যে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন রুকুতে আছেন তখন তিনি কাতারে পৌঁছানোর আগেই পেছনের দিকে রুকু করে ফেলেন। এরপর কাতারে গিয়ে যোগ দেন। সালাত শেষে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন,
«زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا، وَلَا تَعُدْ»
“আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিন, তবে আর এমন করো না।” [সহিহ বুখারি] নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে সেই রাকাত পুনরায় পড়ার নির্দেশ দেননি। চার মাজহাবের ইমামগণের সর্বসম্মত অভিমত হলো:
—যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেল তার ওই রাকাত আদায় হয়ে গেল এবং তার থেকে সূরা ফাতিহা মাফ হয়ে গেল।
– ঠিক তেমনিভাবে, কেউ যদি ফাতিহার কিঞ্চিৎ অংশ পড়ার পর রাকাত ছুটে যাওয়ার ভয়ে রুকুতে চলে যায় তাতে তার কোনও সমস্যা নেই।
– একইভাবে কোনও মুক্তাদি যদি ভুলবশত ফাতিহা না পড়ে অথবা এ বিধান না জানার কারণে না পড়ে তবে তার থেকেও তা মাফ হয়ে যাবে এবং ইমামের সাথে তার সালাত শুদ্ধ হয়ে যাবে।
➧ তবে একা সালাত আদায়কারী (মুনফারিদ) এবং ইমামের হুকুম ভিন্ন। তারা যদি ভুলে যান কিংবা না জেনে ছেড়ে দেন তবুও তাঁদের জন্য ফাতিহা পড়া জরুরি। কারণ এটি তাঁদের সালাতের রোকন (অপরিহার্য অংশ)। পক্ষান্তরে মুক্তাদির ক্ষেত্রে তা স্মরণ থাকা ও জানার শর্তে ওয়াজিব। এর বড় প্রমাণ তো সেটাই, যেখানে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বাকরা সাকাফি (রা.)-কে রাকাত পুনরায় পড়ার হুকুম দেননি। অথচ তিনি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেয়েছিলেন।”
ফতওয়া প্রদানে: আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায (রাহ.)।
সাবেক প্রধান মুফতি এবং সভাপতি, সিনিয়র স্কলার পরিষদ, সৌদি আরব।
❒ আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন আলবানি (রাহ.):
আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন আলবানি রাহ.-এর ফতওয়ার সারাংশ নিম্নরূপ:
কোনও মুক্তাদির যদি প্রবল ধারণা হয় যে, একটু দ্রুত পড়লে সে সূরা ফাতিহা সম্পূর্ণ করতে পারবে এবং ইমাম রুকু থেকে ওঠার আগেই তাকে রুকুতে গিয়ে ধরে ফেলতে পারবে তবে সে ফাতিহা শেষ করেই রুকুতে যাবে।
আর যদি তার প্রবল ধারণা হয় যে, ফাতিহা সম্পূর্ণ করতে গেলে ইমামের রুকু ছুটে যাবে তবে সে আর অপেক্ষা করবে না; যতটুকু পড়তে পেরেছে ততটুকুই থামিয়ে দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইমামের সাথে রুকুতে শরিক হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ফাতিহা অসম্পূর্ণ থাকলেও তার সালাতে কোনও সমস্যা হবে না। শাইখ আলবানি (রাহ.) এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন যে, সালাতে রুকু পাওয়া নিয়ে সকল মুসলিম আলেম একমত যে এটি সালাতের একটি অপরিহার্য রোকন; রুকু না করলে রাকাতই আদায় হবে না। এর বিপরীতে, মুক্তাদির ওপর সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব কি না—এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে বেশ মতভেদ রয়েছে। যেমন—হানাফি মাজহাবের মতে, মুক্তাদি ইমামের পেছনে চুপ থাকবে এবং কোনও কিছুই (না ফাতিহা, না অন্য কিছু) পড়বে না। যদিও শাইখ আলবানি হানাফিদের এই মতটিকে দুর্বল (মারজুহ) মনে করেন এবং “যে ব্যক্তি ফাতিহা পড়েনি তার সালাত হয়নি”—এই হাদিসটিকেই সঠিক মনে করেন তবুও তিনি মনে করেন এই হাদিসটি একেবারে ব্যতিক্রমহীন নয়। কারণ একাধিক সাহাবি থেকে প্রমাণিত আছে যে, দেরিতে জামাতে আসা মুক্তাদি (মাসবুক) যদি ইমামকে রুকু অবস্থায় পায় তবে সে ফাতিহা পড়তে না পারলেও ওই রাকাত তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই এই হাদিসটিকে “আম মাখসুস” العامِّ المخصوص বা এমন একটি সাধারণ হুকুম বলা হয় যার নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রয়েছে। অর্থাৎ নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস—”যে ব্যক্তি ফাতিহা পড়েনি, তার সালাত হয়নি”—এটি মূলত সাধারণ একটি নিয়ম। তবে মাসবুক বা দেরিতে আসা ব্যক্তি যখন ইমামকে রুকুতে পান তখন তিনি ফাতিহা পড়ার সুযোগ না পেলেও তাঁর রাকাত আদায় হয়ে যায়। সাহাবিদের আমল দ্বারা প্রমাণিত এই ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ নিয়মের ভেতর এটি একটি নির্দিষ্ট ছাড়। তাই আপনার যদি মনে হয় যে ফাতিহা শেষ করতে গেলে ইমাম রুকু থেকে মাথা তুলে ফেলবেন, তবে আর দেরি না করে সাথে সাথে রুকুতে চলে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে; অসম্পূর্ণ ফাতিহা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।