মূল: শাইখ ড. সুলতান ইবনে আবদুর রহমান আল উমাইরি।
(ডক্টরেট: উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, মক্কা মুকাররামা, সৌদি আরব)।
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
সম্ভবত সাহাবি মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)হলেন ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম একজন ব্যক্তিত্ব, যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে। তাঁকে নিয়ে মতামত ভিন্ন হয়েছে, তাঁর মূল্যায়ন নিয়ে তীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চলেছে। দুটি চরম পক্ষ তৈরি হয়েছে। একটি পক্ষ তাঁর প্রতি ভালোবাসায় ও সমর্থনে বাড়াবাড়ি করেছে। অন্য পক্ষ তাঁর প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষে বাড়াবাড়ি করেছে। এমনকি তাঁকে কাফির ও মুনাফিক পর্যন্ত বলেছে! এই দুটি চরমপন্থী পক্ষ ইসলামি ইতিহাসের একেবারে প্রথম যুগ থেকেই বিদ্যমান ছিল। ইতিহাসবিদ ইমাম জাহাবি শান্ত ও বিচক্ষণভাবে এই দ্বন্দ্বের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে বলেন:
“وخلْفَ مُعاويةَ خَلْقٌ كثيرٌ يُحبِّونَه ويَتغالَوْن فيه ويُفضِّلونه، إمَّا قد ملَكَهم بالكَرَمِ والحِلمِ والعَطاءِ، وإمَّا قد وُلِدوا في الشَّامِ على حُبِّه، وتَربَّى أولادُهم على ذلك. وفيهم جَماعةٌ يَسيرةٌ من الصحابةِ، وعدَدٌ كثيرٌ من التابعين والفُضَلاءِ، وحارَبوا معه أهلَ العِراقِ، ونَشَؤوا على النَّصْبِ، نعوذُ باللهِ من الهَوى، كما قد نشَأَ جيشُ عليٍّ رضيَ اللهُ عنه ورعِيَّتُه -إلا الخَوارجَ منهم- على حُبِّه والقيامِ معه، وبُغضِ مَن بغى عليه والتبرِّي منهم، وغَلا خلقٌ منهم في التشيُّعِ”
“মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পেছনেও এক বিশাল জনসমষ্টি ছিল যারা তাঁকে ভালোবাসত, তাঁর প্রতি গভীর ভক্তি রাখত এবং তাঁকে অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিত। এর কারণ ছিল, হয় তিনি তাঁর অসীম উদারতা, সহনশীলতা ও দানশীলতা দিয়ে তাদের মন জয় করেছিলেন অথবা তারা সিরিয়াতে তাঁর শাসনের ছায়াতলে তাঁর প্রতি ভালোবাসা নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছিল এবং তাদের সন্তানরাও সেভাবেই বড় হয়েছিল। তাদের মধ্যে অল্প কিছু সাহাবি এবং বিপুল সংখ্যক তাবেয়ি ও পুণ্যবান ব্যক্তি ছিলেন। তাঁরা মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষে থেকে ইরাকবাসীদের (আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর পক্ষ) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তাদের মধ্যে একদল মানুষ ‘নাসবি’ [আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী] হিসেবে গড়ে উঠেছিল। (আমরা প্রবৃত্তি বা আবেগের তাড়না থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই।) ঠিক একইভাবে আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাহিনী এবং তাঁর অনুসারীরাও—একমাত্র খারেজিরা ছাড়া—তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গড়ে উঠেছিল। যারা তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল তাঁদের প্রতি ঘৃণা ও সম্পর্কহীনতা ছিল তাঁদের বৈশিষ্ট্য। তবে তাঁদের মধ্য থেকে একদল মানুষ চরমপন্থী শিয়া (ভক্তি ও আনুগত্যে সীমা লঙ্ঘনকারী) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।” [সিয়ারু আলামিন নুবালা, ইমাম যাহাবী, ৩/১২৮-১২৯] মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে অতিভক্তিতে লিপ্ত পক্ষগুলোর অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, প্রতিটি পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে জাল হাদিস তৈরির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এই নিকৃষ্ট অপকৌশল হাদিস বিশারদগণের চোখ এড়াতে পারেনি। তাঁরা এ বিষয়ে সচেতন ছিলেন এবং অন্যদের সতর্ক করেছেন। তাঁরা মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শানে বর্ণিত হাদিসগুলোর সত্যতা যাচাই করে সহিহ ও জইফ (দুর্বল) বর্ণনাগুলোকে পৃথক করে দিয়েছেন।
এই বিষয়ে সতর্ক করে ইবনুল জাওজি (রাহ.) বলেন:
“قد تعصَّبَ قومٌ ممَّن يَدَّعي السُّنَّةَ، فوضَعوا في فضلِه أحاديثَ ليُغضِبوا الرافضةَ، وتعصَّبَ قومٌ من الرافضةِ، فوضَعوا في ذَمِّه أحاديثَ، وكِلَا الفريقينِ على الخطَأِ القبيحِ”
“সুন্নাহর অনুসারী দাবিদার একদল লোক গোঁড়ামিতে লিপ্ত হয়ে তাঁর (মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রশংসায় কিছু হাদিস জাল করেছে, যাতে শিয়া-রাফেজিদের (চরমপন্থী শিয়া) ক্রোধান্বিত করা যায়। অন্যদিকে শিয়া-রাফেজিদের একটি দল তাঁর নিন্দায় কিছু হাদিস জাল করেছে। অথচ এই উভয় পক্ষই জঘন্য ভুলের ওপর রয়েছে।” [কিতাবুল মাওযুআত, ইবনুল জাওযী (২/২৪)] মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) সংক্রান্ত এই মিথ্যার জাল ও বিকৃতি কেবল হাদিসের কিতাবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং তা ইতিহাস, প্রাচীন নিদর্শন, গল্প এবং সাহিত্যের কিতাবগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে একজন পাঠক যখন এসব কিতাব পড়েন তখন তিনি মুয়াবিয়া (রা.) সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ পরস্পরবিরোধী তথ্যের সম্মুখীন হন। এর একদিকে রয়েছে তাঁর অতিভক্তদের তৈরি করা অতিরঞ্জিত প্রশংসা, আর অন্যদিকে রয়েছে তাঁর চরম বিদ্বেষীদের উদ্ভাবিত নিন্দা ও কুৎসা।
❑ এ ধরনের পরিস্থিতিতে করণীয়:
একজন গবেষকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চরম সতর্কতার সাথে গবেষণায় নামা। এই মানসিকতা তাকে এমনভাবে তৈরি করবে যেন কোনো তথ্যই তিনি যাচাই না করে গ্রহণ করবেন না এবং সেই তথ্যের প্রাসঙ্গিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হবেন-যাতে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি একটি স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন। কোনো গবেষকের পক্ষেই সতর্কতা অবলম্বন না করে এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো অবস্থান নেওয়া বুদ্ধিবৃত্তিক বা পদ্ধতিগত কোনোভাবেই সঠিক নয়। এই নীতি শুধু মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় বরং এটি একটি সার্বজনীন বৈজ্ঞানিক নীতি যা অমুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অ্যারিস্টটল—যাঁকে নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে বা মার্টিন লুথার—যাঁকে নিয়েও তীব্র মতভেদ রয়েছে—তাঁদের সম্পর্কে মতামত দেওয়ার আগেও একজন গবেষকের জন্য গবেষণায় সতর্ক থাকা, বর্ণনার সত্যতা ও সকল তথ্যের সঠিক অর্থ নিশ্চিত করা আবশ্যক—যাতে একটি ন্যায্য অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হয়।
যদিও এই নিয়মটি সবার জন্যই প্রযোজ্য তবে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। কারণ, তাঁদের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মান এবং তাঁরা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্য ও সান্নিধ্য পেয়েছেন। এমন অনেক নসুস (দলিল), বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ এবং ঐতিহাসিক দলিল রয়েছে যা প্রমাণ করে যে—তাঁদের মূল বৈশিষ্ট্যই ছিল ন্যায়পরায়ণতা, সত্যবাদিতা, আমানতদারি এবং দৃঢ় বিশ্বাস। আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি আমার একটি গবেষণাপত্রে, যা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে “সাহাবি প্রজন্মের ইতিহাস পর্যালোচনার পদ্ধতিগত রূপরেখা” (المَدخلُ المنهجيُّ للتعاملِ مع جيلِ الصحابةِ) শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।” এসব শরয়ি প্রশংসা এবং যৌক্তিক ও ঐতিহাসিক এসব তথ্যের কারণেই মুমিনদের হৃদয়ে সাহাবায়ে কেরামের প্রতি এক বিশাল মর্যাদা রয়েছে। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান অত্যন্ত গভীর। মুসলিম উম্মাহ সবসময় তাঁদের ব্যাপারে সুধারণা পোষণ এবং তাঁদের যাবতীয় ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র রাখার নীতি অনুসরণ করে থাকে—যতক্ষণ না এর বিপরীতে অত্যন্ত জোরালো ও অকাট্য কোনো দলিল পাওয়া যায়। এই কারণেই সাহাবিগণের জীবন ও তাঁদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একজন মুসলিমের জন্য জ্ঞান, ইনসাফ, সতর্কতা, নিশ্চিত যাচাই-বাছাই এবং পরিষ্কার হৃদয় ছাড়া এই বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য বা আলোচনায় লিপ্ত হওয়া মোটেও বৈধ নয়। এই তথ্য ও উপাত্তগুলোই হলো সেই মূল ভিত্তি, যার ওপর ভিত্তি করে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের উলামায়ে কেরাম সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)এর মধ্যকার পারস্পরিক মতভেদ ও বিবাদ নিয়ে নীরবতা অবলম্বন করার (অর্থাৎ সমালোচনা না করার) মত প্রদান করেছেন। তাঁদের এই রায় কেবল যুক্তিহীন কোনো দাবি নয় বরং এটি শরয়ি, ঐতিহাসিক এবং যৌক্তিক দলিলের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ—যা সাহাবিগণের মর্যাদা, তাঁদের সুউচ্চ স্থান এবং তাঁদের অন্তরের পরিচ্ছন্নতা ও সততার প্রমাণ দেয়। পূর্বের আলোচনা এটিই নিশ্চিত করে যে, মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.)-এর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন এবং তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি আরও জোরালো ও উচ্চতর হওয়া উচিত।
◈ এর প্রথম কারণ হলো—তিনি একজন সাহাবি (রা.)।
◈ দ্বিতীয়ত কারণ—তাঁকে নিয়ে বিতর্কের মাত্রা অত্যন্ত তীব্র।
এই পরিস্থিতিই তাঁর ক্ষেত্রে সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি ও কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করাকে অপরিহার্য করে তোলে। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে, যারা সাহাবি মুয়াবিয়া (রা.)-এর ব্যাপারে সেই ‘চরম সতর্কতা’র নিয়মটি মেনে চলেনি। তাঁরা হয় তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখিয়েছে অথবা অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে ভুল করেছে। তাঁরা মুয়াবিয়া (রা.)-এর কুৎসা সম্বলিত বিভিন্ন গল্প ও সংবাদের ওপর নির্ভর করেছে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে তাঁর ব্যাপারে অন্যায্য ও জুলুমপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এর উদাহরণ হিসেবে বলা যায়: উসমান (রা.)-এর যুগে মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)ভারতে মূর্তি বিক্রি করতেন কিংবা তিনি মদ্যপান করতেন—এই জাতীয় বিভিন্ন অভিযোগ। এসব ক্ষেত্রে যুক্তি দেওয়া হয় যে, অনেক আলেম তাঁদের হাদিস বা ইতিহাসের কিতাবে এসব বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। অথচ আমরা সবাই জানি, ইতিহাস বা সংবাদের কিতাবে যা কিছু উল্লেখ করা হয় তার সবই সহিহ বা গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তাতে প্রচুর দুর্বল ও ভিত্তিহীন বর্ণনা রয়েছে। [এই সংবাদগুলোর দুর্বলতা প্রমাণের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেখুন: ‘সাল্লুস সিনান ফিয যাব্বি আন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান’ (মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সপক্ষে বর্শা চালনা বা প্রতিরক্ষা” [অর্থাৎ তাঁর সম্মান রক্ষায় লেখনীর মাধ্যমে জোরালো প্রতিবাদ]। লেখক: সাদ আস সুবাইয়ী (পৃষ্ঠা: ১৯৭-ডিজিটাল সংস্করণ] এর বাইরেও আমরা যদি মুয়াবিয়া (রা.)-এর নিন্দায় বর্ণিত সংবাদগুলো পরীক্ষা করি তবে দেখতে পাব যে, এগুলোর সনদ বা সূত্রগুলো বাতিল এবং এগুলোতে এমন সব ‘ইলাল’ বা হাদিসতাত্ত্বিক ত্রুটি রয়েছে যা এগুলোর অসারতা প্রমাণ করে। উপরন্তু এই বর্ণনাগুলো মুয়াবিয়া (রা.)-এর ফজিলত বা মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণিত সহিহ হাদিসগুলোর বিরোধী এবং সেইসব যৌক্তিক প্রমাণেরও পরিপন্থী যা এই গবেষণার সামনে আসবে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই শিথিলতা আমাদের এমন সব ভুল পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে যা বৈজ্ঞানিক বা তাত্ত্বিক পদ্ধতির বিরোধী। কারণ, এই শিথিলতা একদিকে যেমন মুয়াবিয়া (রা.)-এর ব্যাপারে অতি ভক্তি পোষণকারীদের সামনে দুর্বল বর্ণনার মাধ্যমে এমন সব ফজিলত প্রমাণের পথ খুলে দেবে যা প্রকৃতপক্ষে প্রমাণিত নয়—যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির দোষ প্রমাণের ক্ষেত্রে যেমন শিথিলতা দেখানো সঠিক নয়। তেমনি তাঁর ফজিলত প্রমাণের ক্ষেত্রেও শিথিলতা দেখানো জায়েজ নয়।
অন্যদিকে, এটি আলি বিন আবু তালিব (রা.)বা অন্যান্য সাহাবিদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীদের জন্যও সুযোগ করে দেবে, যাতে তারা অনির্ভরযোগ্য ও অপ্রমাণিত বর্ণনা দিয়ে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবিদের নামে কুৎসা রটাতে পারে। সঠিক ও পদ্ধতিগত পথ হলো—সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি বিষয়ে ‘চরম সতর্কতা’র নীতি বজায় রাখা, বিশেষ করে যাঁদের নিয়ে বিতর্ক বা মতভেদ রয়েছে। আমরা তাঁদের জন্য এমন কোনো ফজিলত প্রমাণ করব না যা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত নয়। আবার তাঁদের প্রতি এমন কোনো নিন্দাও আরোপ করব না যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত নয়। এসব বিষয় এটাই প্রমাণ করে যে, মুয়াবিয়া (রা.)-এর নিন্দায় যারা শিথিলতা দেখায় বা বাড়াবাড়ি করে, তাদের মূল সমস্যা বিক্ষিপ্ত কোনো উদাহরণ বা তথ্যের মধ্যে নয়; বরং সমস্যাটি তাদের চিন্তাধারা ও ত্রুটিপূর্ণ গবেষণা পদ্ধতির মূলে। তাই মুয়াবিয়া (রা.)-এর ইতিহাস পর্যালোচনায় আমাদের কেবল তথ্যের পাহাড় জমানোর প্রয়োজন নেই বরং প্রয়োজন হলো কোনো বিষয়ে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক মানদণ্ড বজায় রাখা। সেই সাথে যে ভুল পথগুলো মানুষকে ইতিহাস ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ভুল সিদ্ধান্ত, বিশৃঙ্খলা ও অন্যায়ের দিকে পরিচালিত করে, সেগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা।