বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমা কতটুকু? [আল্লামা শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আল উসাইমিন (রাহ.)]
প্রশ্ন: বিবাহের প্রস্তাবের পর পাত্রী দেখার শরিয়তসম্মত সীমা কী? তার চুল, মুখ ও হাত দেখা কি জায়েজ?
উত্তর: পাত্রী দেখা জায়েজ। তবে কিছু শর্ত আছে। যেমন:
◈ প্রথম শর্ত: বিয়ের দৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে প্রস্তাব করতে হবে।
◈ দ্বিতীয় শর্ত: মনে প্রবল ধারণা থাকতে হবে যে প্রস্তাব গৃহীত হবে।
◈ তৃতীয় শর্ত: কোনো যৌন আকাঙ্ক্ষার বশে দেখা যাবে না।
◈ চতুর্থ শর্ত: নির্জনে একা দেখা যাবে না।
এই শর্তগুলোর যেকোনো একটি না মানলে দেখা হারাম বলে গণ্য হবে। (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন)।
পাত্রের জন্য পাত্রীর যতটুকু দেখা বিয়ের আগ্রহ জাগায় ততটুকু দেখা জায়েজ — যেমন: মুখ, চুল, গলা, দুই হাত ও পা। কারণ এগুলো দেখে পাত্র সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
❑ প্রশ্ন: ফোনে কথা বলা কি জায়েজ?
উত্তর: না। অনেক পাত্র বিয়ের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর প্রতি রাতে বিয়ের আগেই ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে — এটা হারাম। কারণ এই ধরনের কথোপকথনে যৌন অনুভূতি জেগে ওঠা অনিবার্য। কেউ কেউ বলে, “আমি তার মেধা ও কথা বলার ধরন বোঝার জন্য কথা বলি” — কিন্তু এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ বিয়ের আগে বাগদত্তা মেয়েটি শরিয়তের দৃষ্টিতে পুরোপুরি একজন পরনারী।
❑ প্রশ্ন: পাত্রের সামনে পাত্রী কি মেকআপ করে আসতে পারবে?
উত্তর: না, জায়েজ নেই। কারণ এখনো সে তার স্ত্রী হয়নি। তা ছাড়া মেকআপ করে আসলে পাত্র যদি পরবর্তীতে আসল চেহারা দেখে হতাশ হয় তাহলে সে বলবে “এই মেয়ে ধোঁকা দিয়েছে।” তাই স্বাভাবিক চেহারায় আসাই উচিত।
❑ প্রশ্ন: সুন্দর পোশাক পরে আসা কি জায়েজ?
উত্তর: না। সে এখনো তার স্ত্রী নয়। তাই সাধারণ পোশাকে আসবে ━ কোনো সাজসজ্জা ছাড়া।
❑ প্রশ্ন: সুগন্ধি ব্যবহার করে আসা কি জায়েজ?
উত্তর: না। কারণ শরিয়তের দৃষ্টিতে সে এখনো পরনারী।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।