শিক্ষা অর্জনের জন্য অমুসলিম দেশে সফর ও অবস্থানের বিধান

অমুসলিম দেশগুলোতে শিক্ষা অর্জন করা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ছাড়া জায়েজ নয়। যেমন—কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি যদি মুসলিম দেশগুলোতে পড়ার সুযোগ না থাকে এবং শিক্ষার্থীর যদি এমন পর্যাপ্ত ইলম বা জ্ঞান থাকে যা দিয়ে সে সংশয় (শুবুহাত) কাটাতে পারে এবং এমন চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকে যা দিয়ে সে কুপ্রবৃত্তি (শাহওয়াত) থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।
✪ সৌদি আরবের ফাতাওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফতওয়ায় এসেছে:
«فَلَا يَجُوزُ لَكَ السَّفَرُ إِلَى الدُّوَلِ الْكَافِرَةِ لِلدِّرَاسَةِ بِهَا، إِلَّا فِيمَا لَا يَتَيَسَّرُ لَكَ دِرَاسَتُهُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ فِي الْبِلَادِ الْإِسْلَامِيَّةِ مِنَ الْعُلُومِ الدُّنْيَوِيَّةِ كَالطِّبِّ، وَالْهَنْدَسَةِ، وَنَحْوِهِمَا… وَكُنْتَ فِي نَفْسِكَ مُحَصَّنًا فِي دِينِكَ بِالثَّقَافَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ، لَا يُخْشَى عَلَيْكَ مِنَ الْفِتَنِ أَيَّامَ دِرَاسَتِكَ فِي بِلَادِ الْكُفَّارِ… فَيَجُوزُ لَكَ حِينَئِذٍ أَنْ تُسَافِرَ لِلدِّرَاسَةِ فِي بِلَادِ الْكُفَّارِ»
“তোমার জন্য পড়াশোনার উদ্দেশ্যে অমুসলিম দেশে সফর করা জায়েজ নেই। তবে যদি এমন কোনো পার্থিব জ্ঞান যেমন—চিকিৎসা বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং বা এই জাতীয় বিষয় হয় যা মুসলিম দেশগুলোতে পড়ার সুযোগ নেই… এবং আপনি যদি ইসলামি সংস্কৃতি ও জ্ঞান দ্বারা দ্বীনের ওপর অটল থাকতে পারো এবং সেখানে অবস্থানের সময় ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা না থাকে তবেই তোমার জন্য পড়াশোনার উদ্দেশ্যে অমুসলিম দেশে সফর করা জায়েজ।”
✪ শায়খ ইবনে বায (রাহ.) বলেছেন:
وَقَالَ الشَّيْخُ ابْنُ بَازٍ: «السَّفَرُ إِلَى بِلَادِهِمْ مَعَ قِلَّةِ الْعِلْمِ وَقِلَّةِ الْبَصِيرَةِ فِيهِ ضَرَرٌ كَبِيرٌ وَخَطَرٌ عَظِيمٌ… فَالْوَاجِبُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَنْ يَكُونَ عِنْدَهُمْ نُفُورٌ مِنْ أَعْدَاءِ اللهِ وَحَذَرٌ مِنْ مَكَائِدِهِمْ أَيْنَمَا كَانُوا»
“পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সঠিক বুঝ ছাড়া তাদের (অমুসলিমদের) দেশে সফর করা অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বিপজ্জনক… তাই মুসলমানদের উচিত আল্লাহর শত্রুদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এবং তারা যেখানেই থাকুক তাদের চক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকা।”
✪ শায়খ ইবনে উসাইমিন (রাহ.) কে অমুসলিম দেশে সফরের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,
فَقَالَ: «السَّفَرُ إِلَى بِلَادِ الْكُفَّارِ لَا يَجُوزُ إِلَّا بِثَلَاثَةِ شُرُوطٍ: الشَّرْطُ الْأَوَّلُ: أَنْ يَكُونَ عِنْدَ الْإِنْسَانِ عِلْمٌ يَدْفَعُ بِهِ الشُّبُهَاتِ. الشَّرْطُ الثَّانِي: أَنْ يَكُونَ عِنْدَهُ دِينٌ يَمْنَعُهُ مِنَ الشَّهَوَاتِ. الشَّرْطُ الثَّالِثُ: أَنْ يَكُونَ مُحْتَاجًا إِلَى ذَلِكَ»
“অমুসলিম দেশে সফর তিনটি শর্ত ছাড়া জায়েজ নয়: প্রথম শর্ত—ব্যক্তির এমন ইলম বা জ্ঞান থাকতে হবে যা দিয়ে সে সংশয় দূর করতে পারে।
দ্বিতীয় শর্ত—তার মাঝে এমন দ্বীনদারি থাকতে হবে যা তাকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে।
তৃতীয় শর্ত—সেখানে যাওয়ার প্রকৃত প্রয়োজন থাকতে হবে।”
সারকথা হলো, আপনি যদি দ্বীনের ওপর অটল থাকার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হন তবে সেখানে যাওয়ায় কোনো বাধা নেই। তবে চেষ্টা করবেন আপনার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সফর করতে। পাশাপাশি সবসময় মুসলিম বিশ্বের আলেমদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন এবং দ্বীনি মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে তাঁদের জিজ্ঞেস করে জেনে নেবেন।
[উৎস: ইসলাম ওয়েব]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: