নেতৃত্বের জন্য কে বেশি উপযুক্ত? এমন ব্যক্তি যে, দক্ষ ও শক্তিশালী কিন্তু পাপাচারী? নাকি এমন ব্যক্তি যে, সৎ ও আমানতদার কিন্তু অদক্ষ ও দুর্বল?
শাইখুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়া রাহ. বলেন,
(وَاجْتِمَاعُ الْقُوَّةِ وَالْأَمَانَةِ فِي النَّاسِ قَلِيلٌ، وَلِهَذَا كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ: اللَّهُمَّ أَشْكُو إِلَيْكَ جَلَدَ الْفَاجِرِ وَعَجْزَ الثِّقَةِ. فَالْوَاجِبُ فِي كُلِّ وِلَايَةٍ الْأَصْلَحُ بِحَسَبِهَا؛ فَإِذَا تَعَيَّنَ رَجُلَانِ أَحَدُهُمَا أَعْظَمُ أَمَانَةً وَالْآخَرُ أَعْظَمُ قُوَّةً، قُدِّمَ أَنْفَعُهُمَا لِتِلْكَ الْوِلَايَةِ وَأَقَلُّهُمَا ضَرَرًا فِيهَا؛ فَيُقَدَّمُ فِي إِمَارَةِ الْحُرُوبِ الرَّجُلُ الْقَوِيُّ الشُّجَاعُ وَإِنْ كَانَ فِيهِ فُجُورٌ عَلَى الرَّجُلِ الضَّعِيفِ الْعَاجِزِ وَإِنْ كَانَ أَمِينًا، كَمَا سُئِلَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ عَنِ الرَّجُلَيْنِ يَكُونَانِ أَمِيرَيْنِ فِي الْغَزْوِ، وَأَحَدُهُمَا قَوِيٌّ فَاجِرٌ وَالْآخَرُ صَالِحٌ ضَعِيفٌ، مَعَ أَيِّهِمَا يُغْزَى؟ فَقَالَ: أَمَّا الْفَاجِرُ الْقَوِيُّ فَقُوَّتُهُ لِلْمُسْلِمِينَ وَفُجُورُهُ عَلَى نَفْسِهِ، وَأَمَّا الصَّالِحُ الضَّعِيفُ فَصَلَاحُهُ لِنَفْسِهِ وَضَعْفُهُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، فَيُغْزَى مَعَ الْقَوِيِّ الْفَاجِرِ. وَقَدْ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللهَ يُؤَيِّدُ هَذَا الدِّينَ بِالرَّجُلِ الْفَاجِرِ. وَرُوِيَ: بِأَقْوَامٍ لَا خَلَاقَ لَهُمْ. وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَاجِرًا كَانَ أَوْلَى بِإِمَارَةِ الْحَرْبِ مِمَّنْ هُوَ أَصْلَحُ مِنْهُ فِي الدِّينِ إِذَا لَمْ يَسُدَّ مَسَدَّهُ).
“মানুষের মধ্যে শক্তি (দক্ষতা) ও আমানতদারিতার (সততা) সমন্বয় খুব কমই দেখা যায়। এজন্যই ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন:
اللَّهُمَّ أَشْكُو إِلَيْكَ جَلَدَ الْفَاجِرِ وَعَجْزَ الثِّقَةِ
‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পাপাচারী ব্যক্তির কর্মতৎপরতা এবং বিশ্বাসভাজন (সৎ) ব্যক্তির অক্ষমতা ও দুর্বলতা থেকে পানাহ চাই।’
সুতরাং নিয়ম হলো—প্রত্যেক পদের জন্য ঐ পদের প্রকৃতি অনুযায়ী যে সবচেয়ে বেশি যোগ্য তাকেই নিয়োগ দেওয়া। যদি কোনো পদের জন্য এমন দুজন ব্যক্তি সামনে আসে যাদের মধ্যে একজন অত্যন্ত আমানতদার কিন্তু দুর্বল। আর অন্যজন অত্যন্ত শক্তিশালী ও দক্ষ কিন্তু পাপাচারী। তবে তাদের মধ্যে যে ঐ পদের জন্য বেশি উপকারী এবং যার দ্বারা ক্ষতির সম্ভাবনা কম তাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে একজন শক্তিশালী ও সাহসী ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে যদিও তার মধ্যে কিছু ব্যক্তিগত পাপাচার থাকে। এর বিপরীতে একজন সৎ কিন্তু দুর্বল ব্যক্তিকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে না। যেমন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ‘যুদ্ধে সেনাপতি হওয়ার মতো দুজন ব্যক্তি আছেন। একজন শক্তিশালী কিন্তু পাপাচারী, অন্যজন নেককার কিন্তু দুর্বল। কার নেতৃত্বে যুদ্ধ করা হবে?’
তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: ‘পাপাচারী শক্তিশালী ব্যক্তির শক্তি ও দক্ষতা মুসলিমদের উপকারে আসবে আর তার পাপের দায়ভার একান্তই তার নিজের। অন্যদিকে নেককার দুর্বল ব্যক্তির নেক আমল তার নিজের জন্য। কিন্তু তার দুর্বলতার কুফল ভোগ করতে হবে পুরো মুসলিম বাহিনীকে। তাই শক্তিশালী পাপাচারীর নেতৃত্বেই যুদ্ধ করা হবে।’
কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
إنَّ اللهَ يُؤَيِّدُ هَذَا الدِّينَ بِالرَّجُلِ الْفَاجِرِ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ এই দ্বীনকে পাপাচারী লোক দ্বারাও সাহায্য করেন।” [সহিহ বুখারি: ৩০৬২]
অন্য বর্ণনায় এসেছে:
إنَّ اللهَ ليُؤيِّدُ هذا الدِّينَ بقومٍ لا خلاقَ لهم
“নিশ্চয়ই আল্লাহ এই দ্বীনকে এমন জাতি দ্বারা (সাহায্য করেন) যাদের পরকালে কোনো অংশ নেই।” [সুনানে নাসায়ি: ৩০৯১, ইরাকি তার ‘তাখরিজ এহিয়া উলুমিদ্দিন’ গ্রন্থে বলেন, إسناده جيد ”এর সনদ ভালো।]
যদি সেই শক্তিশালী ব্যক্তি পাপাচারী না হয়ে সৎ হতেন তবে তিনিই যুদ্ধের নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হতেন। কিন্তু যদি এমন কাউকে পাওয়া না যায় তবে যুদ্ধের ময়দানে কেবল দ্বীনদারির খাতিরে একজন অদক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার চেয়ে দক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়াই উত্তম।” [মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড: ২৮, পৃষ্ঠা: ২৫৪]
উৎস: মাওসুআতুল আখলাকিল ইসলামিয়্যাহ (ইসলামি নীতি-নৈতিকতার বিশ্বকোষ)
মোটকথা, ইসলামি নীতি অনুসারে, নিখুঁত নেতা হলেন তিনি যিনি সৎ, আমানতদার, দক্ষ এবং শক্তিশালী। তবে যদি এই দুইটি গুণ একসাথে পাওয়া না যায় তবে জাতির নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করার লক্ষ্যে ‘শক্তিশালী কিন্তু পাপাচারী’ ব্যক্তিকে নির্বাচন করা যেতে পারে যতক্ষণ না তার পাপাচার জাতির মৌলিক ধর্ম বা স্বার্থকে ধ্বংস করে দেয়। কারণ তার ব্যক্তিগত পাপ আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয়। কিন্তু তার ক্ষমতা দিয়ে তিনি জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন। অন্যদিকে, একজন সৎ কিন্তু দুর্বল নেতার অধীনে জাতির ক্ষতি অনেক বেশি হতে পারে। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।