প্রশ্ন: বিদআতপন্থীদের দ্বারা পরিচালিত মসজিদে দান করার বিধান কী?
উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবার এবং তাঁর সাথীদের ওপর। অতঃপর:
যদি দানকৃত অর্থ আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজে ব্যয় করা হয়—যেমন: মসজিদের সংস্কার, কার্পেট বা ফরাস কেনা এবং মসজিদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বৈধ কর্মকাণ্ড তবে সেই মসজিদে দান করতে কোনো অসুবিধা নেই। পরিচালনাকারীরা বিদআতপন্থী হওয়া সত্ত্বেও এই দান করতে কোনো বাধা নেই। কেননা পরিচালকদের বিদআত মসজিদে নেক কাজ করতে বাধা সৃষ্টি করে না। এর প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়, উসমান (রা.)-এর সময় যখন খারেজিরা মদিনা ও তার মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং তারা মানুষের ইমামতি শুরু করে তখন লোকেরা তাদের পেছনে নামাজ পড়তে ইতস্তত বোধ করছিল। এমতাবস্থায় উসমান (রা.) তাদের মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর সহিহ গ্রন্থে “বিপথগামী ও বিদআতপন্থীর ইমামতি” (إِمَامَةِ المَفْتُونِ وَالمُبْتَدِعِ) শীর্ষক পরিচ্ছেদে উবাইদুল্লাহ বিন আদি বিন খিয়ার রাহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে:
أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، – وَهُوَ مَحْصُورٌ – فَقَالَ: إِنَّكَ إِمَامُ عَامَّةٍ، وَنَزَلَ بِكَ مَا نَرَى، وَيُصَلِّي لَنَا إِمَامُ فِتْنَةٍ، وَنَتَحَرَّجُ؟ فَقَالَ: «الصَّلاَةُ أَحْسَنُ مَا يَعْمَلُ النَّاسُ، فَإِذَا أَحْسَنَ النَّاسُ، فَأَحْسِنْ مَعَهُمْ، وَإِذَا أَسَاءُوا فَاجْتَنِبْ إِسَاءَتَهُمْ». اهــ
“তিনি অবরুদ্ধ অবস্থায় উসমান বিন আফফান (রা.)-এর কাছে প্রবেশ করে বললেন, “আপনি জনগণের ইমাম অথচ আপনার ওপর যা আপতিত হয়েছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি (আপনি অবরুদ্ধ)। এখন আমাদের ইমামতি করছে ফিতনাবাজ এক ব্যক্তি। এ কারণে আমরা (নামাজ পড়তে) সংকোচ বোধ করছি।” তখন উসমান (রা.) বললেন, “মানুষ যত আমল করে তার মধ্যে সালাত বা নামাজ হলো সর্বোত্তম। অতএব লোকেরা যখন ভালো কাজ করে, তখন তুমিও তাদের সাথে ভালো কাজে শরিক হও আর তারা যখন মন্দ কাজ করে তখন তাদের মন্দ থেকে বেঁচে থাকো।” তবে যদি সেই দান তাদের বিদআতি কার্যক্রমের পেছনে ব্যয় করা হয় তবে সেক্ষেত্রে দান করা জায়েজ হবে না। কারণ এটি হবে পাপাচারের কাজে সহযোগিতা করা। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
…وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
“…তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহর আজাব অত্যন্ত কঠিন।” [সূরা মায়িদাহ: ২]
মোটকথা, মসজিদের অবকাঠামো বা মুসল্লিদের সুবিধার্থে দান করা বৈধ। কিন্তু সরাসরি বিদআতি প্রথা বা অনুষ্ঠানের জন্য দান করা যাবে না। আপনার বাপ-চাচাদের মসজিদে দান করার ক্ষেত্রে এই মূলনীতিটি অনুসরণ করা আপনার জন্য নিরাপদ হবে। (উৎস: ইসলাম ওয়েব)
উল্লেখ্য যে, শিরক ও কুফরি পর্যায়ের বিদআতে লিপ্ত ব্যক্তিদের (যেমন: ব্রেলভি, রেজভি বা কথিত সুন্নি কবর পূজারী) নিয়ন্ত্রণাধীন ও পরিচালিত মসজিদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়। এমন পথভ্রষ্ট আকিদার ধারক ও বাহক ইমামের পেছনে যেহেতু নামাজ শুদ্ধ হবে না তাই তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মসজিদেও দান করা যাবে না। বরং এটি ঐ সকল মসজিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের মধ্যে এমন কিছু বিদআত রয়েছে যা শিরক বা কুফরি পর্যন্ত পৌঁছায় না। তবে সর্বাবস্থায় সহিহ সুন্নাহ ভিত্তিক পরিচালিত মসজিদে দান করা অধিক উত্তম। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদ: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।