উত্তর: দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাসহ সমগ্র সৃষ্টি থেকে নিজের ইজ্জত, জালাল ও মহিমার নূরের পর্দায় আবৃত। সহিহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে:
حِجَابُهُ النُّورُ، لَوْ كَشَفَهُ لَأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ
“তাঁর পর্দা হলো নূর (জ্যোতি)। তিনি যদি সেই পর্দা সরিয়ে দিতেন, তাহলে তাঁর চেহারার জ্যোতি তাঁর দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত সমস্ত সৃষ্টিকে ভস্মীভূত করে দিত।” [সহিহ মুসলিম]
✪ হাফেজ ইবনে হাজার (রাহ.) বলেন:
وَذَلِكَ الْحِجَابُ الَّذِي تُدْهَشُ دُونَهُ الْعُقُولُ، وَتَبْهَتُ الْأَبْصَارُ، وَتَتَحَيَّرُ الْبَصَائِرُ، فَلَوْ كَشَفَهُ فَتَجَلَّى لِمَا وَرَاءَهُ بِحَقَائِقِ الصِّفَاتِ وَعَظَمَةِ الذَّاتِ، لَمْ يَبْقَ مَخْلُوقٌ إِلَّا احْتَرَقَ، وَلَا مَنْظُورٌ إِلَّا اضْمَحَلَّ. انْتَهَى. وَمَا ذَكَرَهُ الْحَافِظُ هُوَ شَرْحٌ لِحَدِيثِ: «حِجَابُهُ النُّورُ، لَوْ كَشَفَهُ لَأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِهِ مَا انْتَهَى إِلَيْهِ بَصَرُهُ مِنْ خَلْقِهِ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَبِهَذَا تَعْلَمُ أَنَّ الْمَلَائِكَةَ لَا يَرَوْنَ اللهَ تَعَالَى فِي الدُّنْيَا لِعُمُومِ الْحَدِيثِ الْمُتَقَدِّمِ. أَمَّا فِي الْآخِرَةِ فَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي ذَلِكَ، وَالْأَرْجَحُ أَنَّهُمْ يَرَوْنَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ فِي الْجَنَّةِ. جَاءَ فِي «مَطَالِبِ أُولِي النُّهَى»: وَيَرَوْنَ اللهَ تَعَالَى هُمْ، أَيِ الْجِنُّ وَالْمَلَائِكَةُ. قِيلَ لِابْنِ عَبَّاسٍ: كُلُّ مَنْ دَخَلَ الْجَنَّةَ يَرَى اللهَ؟ قَالَ: نَعَمْ. انْتَهَى. وَقَالَ الْخَادِمِيُّ فِي «بَرِيقَةٍ مَحْمُودِيَّةٍ»: إِنَّ الْأَرْجَحَ أَنَّهُمْ يَرَوْنَ اللهَ تَعَالَى. انْتَهَى. وَاللهُ أَعْلَمُ.
“এটি এমন পর্দা, যার সামনে বুদ্ধি হতবিহ্বল হয়, দৃষ্টি স্তম্ভিত হয় এবং অন্তর্দৃষ্টি দিশেহারা হয়ে পড়ে। তিনি যদি তা উন্মোচন করে এর আড়ালে থাকা গুণাবলির প্রকৃত রূপ ও সত্তার মহিমা প্রকাশ করতেন তাহলে এমন কোনো সৃষ্টি থাকত না, যা পুড়ে যেত না। আর এমন কোনো দৃশ্যমান বস্তু থাকত না, যা বিলীন হয়ে যেত না।” হাফেজের এই বক্তব্য মুসলিমে বর্ণিত উপর্যুক্ত হাদিসেরই ব্যাখ্যা। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে উপর্যুক্ত হাদিসের ব্যাপকতার কারণে ফেরেশতাগণ দুনিয়াতে আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পান না। আখিরাতে তাঁরা দেখতে পাবেন কি না, সে বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে অগ্রগণ্য মত হলো, তাঁরা জান্নাতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে দেখতে পাবেন। ‘মাতালিবু উলিন নুহা’ গ্রন্থে এসেছে, “জিন ও ফেরেশতাগণও আল্লাহ তাআলাকে দেখবেন। ইবনে আব্বাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, জান্নাতে প্রবেশকারী প্রত্যেকেই কি আল্লাহকে দেখবে? তিনি উত্তর দিলেন, হ্যাঁ।”
খাদিমি তাঁর ‘বারিকা মাহমুদিয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “অগ্রগণ্য মত হলো, তাঁরা আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পাবেন।” আল্লাহু আলাম। [islamweb]
✪ সৌদি আরবের সাবেক প্রধান মুফতি, বিশ্ববরেণ্য আলেম আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায (রাহ.) কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন:
لَا أَعْرِفُ، مَا وَرَدَ فِي هَذَا شَيْءٌ عَنِ اللهِ، وَلَا عَنِ الرَّسُولِ ﷺ، وَلَا عَنِ اللهِ فِي الْمَلَائِكَةِ… وَلَا أَعْلَمُ فِي شَيْءٍ مِنَ النُّصُوصِ مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْمَلَائِكَةَ تَرَى اللهَ، هَذَا يَحْتَاجُ إِلَى دَلِيلٍ مِنَ الْمَعْصُومِ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ فِي ذَلِكَ. أَمَّا الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ فَيَرَوْنَ اللهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَفِي الْجَنَّةِ.
“আমি জানি না। এ বিষয়ে আল্লাহ কিংবা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি। এমন কোনো দলিল আমার জানা নেই, যা প্রমাণ করে যে, ফেরেশতাগণ আল্লাহকে দেখতে পান। এ বিষয়ে নিষ্পাপ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সুনির্দিষ্ট দলিল থাকা প্রয়োজন। তবে মুমিন নর-নারীগণ কিয়ামতের দিন ও জান্নাতে আল্লাহকে দেখবেন।” [বিন বাযের অফিশিয়াল সাইট]
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।