কাবা ঘরে ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ইসাফ ও নায়েলার ঘটনাটি কতটুকু নির্ভরযোগ্য

প্রশ্ন: ইসাফ ও নায়েলার ঘটনাটির বর্ণনা কি সহিহ বা নির্ভরযোগ্য?
উত্তর: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহান আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর। একটি ঘটনা প্রচলিত রয়েছে যে, ইসাফ ও নায়েলা (মূর্তিদ্বয়) মূলত দুজন মানুষ ছিল। কাবার ভেতরে অনৈতিক ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ায় আল্লাহ তাদের পাথরে রূপান্তরিত করে দেন। ইতিহাস ও সিরাতবিশারদগণ এই ঘটনাটি বর্ণনা করার সময় এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা দিয়ে এর সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না। তারা সাধারণত “বর্ণিত আছে” বা “বলা হয়ে থাকে” এ ধরনের অনিশ্চয়তাসূচক শব্দ ব্যবহার করেছেন। তবে এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য বিবরণ পাওয়া যায় ইমাম ইবনে কাসির (র.)-এর ‘আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ’ গ্রন্থে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে:
“পরবর্তীকালে জুরহুম গোত্র মক্কায় সীমালঙ্ঘন ও ব্যাপক অন্যায়-অনাচারে লিপ্ত হয় এবং মসজিদে হারামের পবিত্রতা নষ্ট করে। এমনও বলা হয় যে, এই গোত্রের ‘ইসাফ ইবনে বাগী’ নামের এক পুরুষ এবং ‘নায়েলা বিনতে ওয়াইল’ নামের এক নারী কাবার ভেতরে একান্তে মিলিত হয় এবং পাপে লিপ্ত হয়। ফলে আল্লাহ তায়ালা তাদের দুজনকেই পাথরে পরিণত করেন। মানুষ যেন এ থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সেজন্য পাথর দুটি কাবার কাছে রেখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পর, খুজাআ গোত্রের আমলে লোকজন আল্লাহকে ছেড়ে এই পাথর দুটিকেই পূজা করতে শুরু করে।…”
◈ ইমাম ইবনে ইসহাক (র.) উল্লেখ করেছেন:
তারা জমজমের স্থানে ইসাফ ও নায়েলার মূর্তি দুটি স্থাপন করেছিল এবং সেগুলোর সামনে বলিদানের পশু জবাই করত। এরপর তিনি বর্ণনা করেন যে, এরা ছিল এক পুরুষ ও নারী, যারা কাবার ভেতর অনৈতিক কাজ করায় পাথরে পরিণত হয়েছিল।
◈ এরপর ইবনে ইসহাক আরও বলেন:
আব্দুল্লাহ ইবনে আবী বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাজম (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি আমরাহ (র.) সূত্রে বলেন: আমি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বলতে শুনেছি—
“আমরা সবসময় শুনে আসছি যে ইসাফ ও নায়েলা ছিল জুরহুম গোত্রের এক পুরুষ ও নারী। তারা কাবার ভেতরে অপকর্ম করেছিল, যার শাস্তিস্বরূপ মহান আল্লাহ তাদের পাথরে রূপান্তরিত করে দেন।” [ইবনে হিসাম]
❑ ঘটনার পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ:
হাদিসটিতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আম্মাজান আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এই কথাটি সরাসরি মহান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেননি। বরং তিনি বলেছেন, “আমরা সবসময় শুনে আসছি”। এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, এটি তখনকার যুগে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত একটি লোককথা ছিল, যা জাহেলি আমল থেকেই সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছিল। আল্লাহু আলাম-আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। [সূত্র: ইসলাম ওয়েব, ফতোয়া নম্বর: ১৫৬৩৪৩ (১১ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩২ হিজরী / ১৪ মে ২০১১)]
উল্লেখ্য যে, মক্কা বিজয়ের পর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাবা প্রাঙ্গণ ও সাফা-মারওয়ায় বিদ্যমান ‘ইসাফ’ ও ‘নায়েলা’ সহ সমস্ত পৌত্তলিক মূর্তি ভেঙে সম্পূর্ণরূপে অপসারণের নির্দেশ দেন। [ইমাম আল-আজরাকি তাঁর ‘আখবারু মাক্কাহ’ (পৃ. ৫০)]
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব।
Share: