জমহুর তথা হানাফি, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবের মতে—সময় শুরু হয় সূর্য একটি বর্শা পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে। শাফেয়ি মাজহাবের মতে সময় শুরু হয় সূর্যোদয় থেকেই। কেননা এটি একটি বিশেষ কারণযুক্ত নামাজ, তাই মাকরুহ ওয়াক্তের বাধা এখানে প্রযোজ্য নয়।
প্রথম দলিল:
أَبُو عُمَيْرِ بنُ أَنَسِ بنِ مَالِكٍ قالَ: حَدَّثَنِي عُمُومَتِي مِنَ الأنصارِ مِن أصحابِ رسولِ اللهِ ﷺ قالُوا: أُغْمِيَ عَلَيْنَا هِلَالُ شَوَّالٍ فَأَصْبَحْنَا صِيَامًا، فَجَاءَ رَكْبٌ مِنْ آخِرِ النَّهَارِ فَشَهِدُوا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُمْ رَأَوُا الهِلَالَ بِالأَمْسِ، فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يُفْطِرُوا، وَأَنْ يَخْرُجُوا إِلَى عِيدِهِمْ مِنَ الغَدِ
আবু উমায়ের ইবনে আনাস ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার আনসারি চাচারা—যাঁরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবি ছিলেন—আমাকে বলেছেন: একবার শাওয়ালের চাঁদ আমাদের কাছে দেখা যায়নি। তাই আমরা সিয়াম রেখে সকাল করলাম। দিনের শেষভাগে এক দল লোক নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে সাক্ষ্য দিল যে, তারা গতকাল চাঁদ দেখেছে। তখন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের রোজা ভঙ্গ করতে করতে এবং পরের দিন ঈদে বের হতে নির্দেশ দিলেন। [সুনানে আবু দাউদ: ১১৫৭; সুনানে নাসাই: ১৫৫৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৫৩। ইবনুল মুনজির, খাত্তাবি, ইবনে হাজম, নববি ও শাওকানি (রহিমাহুমুল্লাহ) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।]
দ্বিতীয় দলিল:
يَزِيدُ بنُ خُمَيْرٍ الرَّحَبِيُّ قالَ: خَرَجَ عَبْدُ اللهِ بنُ بُسْرٍ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ ﷺ مَعَ النَّاسِ فِي يَومِ عِيدِ فِطْرٍ أَوْ أَضْحَى، فَأَنْكَرَ إِبْطَاءَ الإِمَامِ، فَقَالَ: إِنَّا كُنَّا قَدْ فَرَغْنَا سَاعَتَنَا هَذِهِ، وَذَلِكَ حِينَ التَّسْبِيحِ
ইয়াজিদ ইবনে খুমায়র আর রাহবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবি—একবার ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার দিন মানুষের সঙ্গে বের হলেন এবং ইমামের দেরিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বললেন: “আমরা তো এই সময়ের মধ্যেই নামাজ শেষ করে ফেলতাম আর এটা হলো তাসবিহের (অর্থাৎ যখন চাশতের সময় শুরু হয়)।” [সুনানে আবু দাউদ: ১১৩৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩১৭। আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) সহিহ বলেছেন]
তৃতীয় দলিল—ইজমা: শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, কোনো কোনো আলেম বলেছেন: ঈদের নামাজের সময় সূর্য উঁচু হওয়ার পর থেকে যাওয়াল (সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়া) পর্যন্ত—এবং এতে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই। [আদ দারারি আল মাদিয়্যাহ: ১/১১৮]
أُمِرَ أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلَاةِ
“নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সদাকাতুল ফিতর মানুষ নামাজে বের হওয়ার আগেই আদায় করতে হবে।”
সুতরাং নামাজ দেরিতে হলে মানুষের জন্য সময় আরও প্রশস্ত হয়। আর ঈদুল আজহা আগে পড়ার কারণ হলো, কুরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়ার বা নিদর্শন।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে নামাজ ও কুরবানিকে পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
“অতএব আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানি করুন।” [সুরা কাউসার: ২]
কুরবানি নামাজের আগে করা যায় না। তাই নামাজ আগে পড়া হলে কুরবানির সময় আরও প্রশস্ত হয়। [আশ শারহুল মুমতি, ইবনে উসাইমিন: ৫/১২২]
সূত্র: আল মাওসুআহ আল ফিকহিয়্যাহ—দুরারুস সানিয়্যাহ (dorar.net)
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।
অনুবাদক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার। সৌদি আরব।