সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে কমেন্ট, রিয়েক্ট এবং তা শেয়ার করা সম্পর্কে জরুরি ইসলামি নির্দেশনা

সোশ্যাল মিডিয়ায় পাবলিক পোস্টে কমেন্ট, রিয়েক্ট এবং তা শেয়ার করা সম্পর্কে জরুরি ইসলামি নির্দেশনা
▬▬▬▬◢◯◣▬▬▬▬
প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো পোস্টে কমেন্ট করা বা তাতে লাইক-শেয়ার ইত্যাদি করার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি? ছেলেদের পোস্টে মেয়েরা আর মেয়েদের পোস্টে ছেলেরা লাইক-কমেন্ট করতে পারবে কি? এতে কি গুনাহ হবে?
উত্তর:
এ কথায় কোনও সন্দেহ নাই যে, বর্তমান সময়ে সমাজের বিশাল জনগোষ্ঠী যুবক-যুবতি, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে সম্পৃক্ত। কেউ এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছে আর কেউ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যাহোক, নিম্নে সোশ্যাল মিডিয়ার পাবলিক পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা রিয়েক্ট প্রদান এবং তা শেয়ার প্রসঙ্গে কিছু ইসলামি দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হল:

যদি কোনও ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালো ও উপকারী কোনও লেখা, প্রবন্ধ, পোস্টার, ভিডিও ক্লিপ ইত্যাদি পোস্ট করে-যেমন: দাওয়াতি কার্যক্রম সংক্রান্ত পোস্ট তথা কুরআন-হাদিস ও সহিহ আকিদা ভিত্তিক লেখা বা ভিডিও ক্লিপ, মানুষকে সৎকর্ম ও মানব কল্যাণের প্রতি উৎসাহ প্রদান, পাপাচার ও অন্যায় প্রতিরোধের আহ্বান, সৎ চরিত্র ও সামাজিক মূল্যবোধ শিক্ষা, হারানো শিশুর সন্ধান চেয়ে পোস্ট ইত্যাদি।তাহলে এই জাতীয় পোস্টে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শালীন ভাষায় উৎসাহ মূলক কমেন্ট ও রিয়েক্ট প্রদান এবং সেগুলো শেয়ার করতে পারে। এতে কোন আপত্তি নেই ইনশাআল্লাহ।
এর মাধ্যমে দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের পাশাপাশি উপকারী ও কল্যাণময় বার্তা মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয় এবং পোস্ট দাতাকে ভালো কাজে সহযোগিতার করা হয়।

এতে করে যে তা পোস্ট করছে এবং যারা সৎ নিয়তে তাতে লাইক-শেয়ার করবে তারা সকলেই সওয়াব পাবে ইনশাআল্লাহ। কারণ এটি ভালো কাজের সহযোগিতার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ ۖ إِنَّ اللَّـهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
“আর সৎকর্ম ও আল্লাহ ভীতিতে একে অন্যের সহায়তা কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা কঠোর শাস্তি দাতা।” [সূরা মায়িদা: ২]

কিন্তু কোনও পোস্ট যদি খারাপ ও নোংরা বার্তা বহন করে, সমাজে পাপাচারের বিস্তার ঘটায়, দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয় এবং হারাম ও অন্যায়-অপকর্মের দিকে আহ্বান করে (যেমন: বেপর্দা নারীর ছবি, অপসংস্কৃতির প্রচার, মিউজিক, নাটক, সিনেমা, অশ্লীল ও অনর্থক ফানি ভিডিও ক্লিপ, শিরক, বিদআত সম্বলিত ওয়াজ, সমাজে অন্যায়-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী পোস্ট ইত্যাদি) তাহলে তাতে উৎসাহ মূলক কমেন্ট দেওয়া বা সেগুলো শেয়ার করা সবই হারাম।

এতে করে পোস্ট দাতা এবং কমেন্ট কারী বা শেয়ার কারী সকলেই গুনাহগার হবে। কারণ এটি সমাজে আল্লাহর নাফরমানি, হারাম, পাপাচার ও অন্যায়-অপকর্ম ছড়িয়ে দেওয়ার শামিল। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
“যারা পছন্দ করে যে, ইমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহা ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” [সূরা নূর: ১৯]

❑ পোস্টে রিয়েক্ট প্রদান ও কমেন্ট করার ব্যাপারে সতর্কতা:

সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে রিয়েক্ট প্রদান ও কমেন্ট করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। যেমন:

১. কোনও বিপরীত লিঙ্গের পোস্টে রিয়েক্ট বা কমেন্ট করার কারণে যদি তারা একে অপরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে যার কারণে ক্রমান্বয়ে তারা ফিতনার দিকে ধাবিত হয় তাহলে অবশ্যই এ থেকে বিরত থাকতে হবে-যদিও তা ইসলামি পোস্ট হয়। কারণ তা নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা। অন্যথায় কমেন্ট কারী গুনাহগার হবে।
২. কোনো পোস্টেই খারাপ ও বাজে বার্তাবাহী অথবা সে দিকে ইঙ্গিত করে এমন কমেন্ট করা বৈধ নয়।
৩. পাপাচার, অশ্লীলতা ও ক্ষতিকর কাজে উৎসাহ ব্যঞ্জক কমেন্ট করা বা রিয়েক্ট দেওয়া হারাম।
৪. কমেন্ট করার ক্ষেত্রে অশ্লীল ও অশালীন ভাষা প্রয়োগ করা বৈধ নয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
وَقُولُواْ لِلنَّاسِ حُسۡنٗا
“তোমরা মানুষের সাথে সুন্দর ভাষায় কথা বলো” [সূরা বাকারা: ৮৩]

৫. ভিন্নমতের কারো জবাব দিতে হলেও তা হতে হবে যৌক্তিক, প্রমাণ ভিত্তিক এবং শালীন ভাষায়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
ٱدۡعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِٱلۡحِكۡمَةِ وَٱلۡمَوۡعِظَةِ ٱلۡحَسَنَةِۖ وَجَٰدِلۡهُم بِٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِٱلۡمُهۡتَدِينَ
“আপনি আপনার রবের পথে আহবান করুন প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে সেই পদ্ধতিতে বিতর্ক করুন যা সবচেয়ে সুন্দর। নিশ্চয় আপনার রব, তাঁর পথ ছেড়ে কে বিপথগামী হয়েছে, সে সম্বন্ধে তিনি বেশি জানেন এবং কারা সৎপথে আছে তাও তিনি ভালভাবেই জানেন।” [সূরা আন নাহল: ১২৫]

আল্লাহ তাআলা আমদেরকে সবসময় কল্যাণকর কথা বলার এবং কল্যাণের পথে চলার তওফিক দান করুন এবং অকল্যাণ, ক্ষতিকর কার্যক্রম থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖❖
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদি আরব।।