কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

সুদ ভিত্তিক ব্যাংক এর অধীনে শরিয়া স্কিম/ইসলামিক শাখায় লেনদেন করা

প্রশ্ন: বর্তমানে রিবা/সুদ ভিত্তিক পরিচালিত অনেক ব্যাংক এর অধীনে শরিয়া স্কিম বা ইসলামি ব্যাংকিং শাখা খোলা হচ্ছে? এগুলো কি ইসলামিক শরিয়া সম্মত?
উত্তর:
বর্তমানে কিছু সুদ ভিত্তিক ব্যাংক ব্যবসায়িক স্বার্থে সুদের কারবার করতে আগ্রহী নয় এমন দীনদার লোকদেরকে তাদের গ্রাহক হিসেবে পাওয়ার জন্য সুদী ব্যাংক এর অধীনেই তথাকথিত শরিয়া স্কিম/ইসলামিক উইন্ডো বা ইসলামি ব্যাংকিং শাখা খুলেছে!

এটি মূলত: যে সকল মানুষ সুদ মুক্ত লেনদেন করতে চায় তাদেরকে গ্রাহক হিসেবে পাওয়ার একটি ব্যবসায়িক কৌশল মাত্র- যা এ সকল ধর্মপ্রাণ মানুষদের সাথে প্রতারণা শামিল বলে মনে করি। কারণ সুদী ব্যাংকিং ও কথিত ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার পরিচালক একই। তারা এক দিক থেকে সুদী ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ফায়দা লুটছে আবার অন্য দিকে ইসলামি ব্যাংকিং এর মাধ্যমেও ফায়দা লুটছে। অর্থাৎ ভালো পানি আর ময়লা পানির লাইন এক জায়গায় গিয়ে একাকার হয়ে গেছে।

তারা যদি সত্যিই সুদকে হারাম ও গুনাহের বিষয় মনে করতো তাহলে প্রথমে সুদী ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করত। কিন্তু বাস্তবে তারা তা মনে করে না। যার কারণে তারা হালাল-হারাম দু দিকই ঠিক রেখেছে-যেন কোনও একদিকও হাত ছাড়া না হয়ে যায়।

আল্লাহ ক্ষমা করুন। আমিন।

উল্লেখ্য যে, তথ্যমতে বাংলাদেশে যে সকল সুদী ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং শাখা খুলেছে সেগুলো হলো: সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, এবি ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ও যমুনা ব্যাংক লিমিটেড। সর্বশেষ এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হলো মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড। (উৎস: কালের কণ্ঠ)

সুতরাং সুদী ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত এ সকল তথাকথিত শরিয়া স্কিম বা ইসলামি ব্যাংকিং শাখার সাথে লেনদেন বন্ধ আবশ্যক। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।

—————————–

আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।

Share This Post