সালাতে মহিলাদের উঁচু আওয়াজে কিরাত পাঠের বিধান

প্রশ্ন: মহিলারা বাড়িতে একাকী সালাত আদায় করার সময় কি মাগরিব ও ইশার সালাতে উঁচু আওয়াজে কিরাত পাঠ করবে?

উত্তর:
জেহরি সালাত তথা যে সকল সালাতে উচ্চ আওয়াজে কিরাত পাঠ করতে হয় সেগুলোতে পুরুষরা যেমন উচ্চ আওয়াজে পাঠ করবে তেমনি নারীরাও। এটা সুন্নত। তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে শর্ত হল, তাদের কণ্ঠস্বর যেন কোনও পরপুরুষ শুনতে না পায়। কোনও পরপুরুষ শোনার সম্ভাবনা থাকলে আওয়াজ উঁচু করবে না। বরং নিম্নস্বরে পাঠ করবে। ইমাম মালেক রহ. মহিলার উঁচু আওয়াজের কারণে ফেতনা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে তা হারাম বলেছেন।

সুতরাং একজন মহিলা নিজ স্বামী, সন্তান, বাবা, ভাই, ভাইয়ের ছেলে (ভাতিজা), বোনের ছেলে (ভাগিনা), দাদা, চাচা, মামা, শ্বশুর ইত্যাদি মাহরাম পুরুষ অথবা শুধু নারীদের উপস্থিতিতে জেহরি সালাত সমূহে (সেগুলো হল: ফজরের ফরজ দু রাকাত এবং মাগরিব ও ইশার প্রথম দু রাকাত) উচ্চ আওয়াজে কিরাআত পাঠ করবে। এ ক্ষেত্রে আলেমগণ নিম্নোক্ত হাদিসটি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন: আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ
“(ইমামের ভুল সংশোধনে উদ্দেশ্যে) পুরুষদের ক্ষেত্রে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) বলা আর মহিলাদের বেলায় ‘তাসফীক’ (হাত তালি বা এক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের তালুতে মারা)।” [সহিহ বাখারি, অধ্যায়: ২১/ সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজ, পরিচ্ছেদ: ২১/৫. সালাতে মহিলাদের ‘তাসফীক’ (হাত তালি দেয়া)]

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল, ইমাম ভুল করলে মুক্তাদিরে জন্য তা সংশোধনের উদ্দেশ্যে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা ওয়াজিব। এমন ওয়াজিব ক্ষেত্রেও নারীদেরকে আওয়াজ উঁচু করার অনুমতি দেয়া হয় নি। সুতরাং সালাতে উঁচু আওয়াজে কিরাআত পাঠের মত সুন্নত (ওয়াজিব নয়) বিষয়ে তা অধিকতর প্রযোজ্য।

❑ নওবী রাহ. বলেন,

وَأَمَّا الْمَرْأَةُ فَقَالَ أَكْثَرُ أَصْحَابِنَا : إنْ كَانَتْ تُصَلِّي خَالِيَةً أَوْ بِحَضْرَةِ نِسَاءٍ أَوْ رِجَالٍ مَحَارِمَ جَهَرَتْ بِالْقِرَاءَةِ , سَوَاءٌ أَصَلَّتْ بِنِسْوَةٍ أَمْ مُنْفَرِدَةً , وَإِنْ صَلَّتْ بِحَضْرَةِ أَجْنَبِيٍّ أَسَرَّتْ
“আর মহিলার ব্যাপারে আমাদের অধিকাংশ সাথী বলেছেন যে, যদি সে একাকী অথবা মহিলাদের উপস্থিতিতে অথবা মাহরাম পুরুষদের উপস্থিতিতে সালাত আদায় করে তাহলে কিরাত উঁচু করবে-চাই সে অন্যান্য মহিলাদেরকে নিয়ে (জামাআতের সাথে) সালাত আদায় করুক অথবা একাকী আদায় করুক। আর যদি আজনবি পুরুষের উপস্থিতিতে সালাত আদায় করে তাহলে নীরবে পাঠ করবে।” [আল মাজমু ৩/৩৯০]

❑ সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রহ. এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন,

“আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য ফজরের সালাতে এবং ইশা ও মাগরিবের প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতে উচ্চস্বরে উঁচু স্বরে কিরাআত পাঠের বিধান দিয়েছেন। তা সাধারণভাবে পুরুষ-নারী উভয়ের জন্যই। কারণ শরিয়তের বিধিবিধানগুলো সাধারণভাবে সকলের জন্য প্রযোজ্য, কেবল দলিলের আলোকে পুরুষ বা নারীর জন্য যা নির্দিষ্ট করেছে তা ছাড়া। আর আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য ফরজ সালাতে, মাগরিবের প্রথম এবং দ্বিতীয় রাকাতে এবং ইশার প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাআতে উঁচু আওয়াজে কিরাত পাঠের বিধান দিয়েছেন।
সুতরাং একজন মহিলাও উঁচু আওয়াজে কিরাত পাঠ করবে যেন, তার আশেপাশে যারা আছে তারা উপকৃত হয়। তবে তার আশেপাশে যদি পরপুরুষ থাকে তাহলে উচ্চস্বরে না পড়াই উত্তম। কারণ সে তার কণ্ঠস্বরের কারণে ফিতনায় পতিত হতে পারে। সুতরাং এ অবস্থায় আওয়াজ উঁচু না করাই ভালো। অনুরূপভাবে আশেপাশে পরপুরুষ থাকলে হজ্জ ও ওমরাতে উচ্চস্বরে তালবিয়া (লাব্বাইক….) পাঠ না করাই উত্তম। করলেও ক্ষতি নেই, তবে না করা ভালো।” (binbaz}
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬❂❖❂▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।