সংক্ষিপ্তভাবে সা. লিখার বিধান

প্রশ্ন: সংক্ষিপ্তভাবে (সা.) লিখার বিধান কি?
উত্তর: প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দরুদ তথা সালাত ও সালাম পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ আমল। এটি আল্লাহর নির্দেশ। যেমন:

◍ আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

‎”আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও নবীর সালাত ও সালাম পেশ করো।” [সূরা আহযাব: ৫৬]

◍ হাদিসে এর অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন:

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِي اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قَال :مَنْ صَلَّي عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا [رواه مسلم ، كتاب الصلاة على النبى صلي الله عليه وسلم]

“আবু হুরায়রা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়বে আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দশবার দরূদ পাঠ করেন।” [মুসলিম, হাদিস: ৪০৮]

সুতরাং আমাদের কতর্ব্য, অধিক পরিমাণে প্রিয় নবীর প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করা। আল্লাহ তওফিক দান করুন। আমিন।

সংক্ষেপে সা. লেখা উচিত নয়:

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দরুদ পাঠের ক্ষেত্রে যেমন মৌখিকভাবে পূর্ণাঙ্গ বাক্য উচ্চারণ করা উচিৎ তেমনি লেখার সময়ও পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখা উচিৎ। মুখে বারবার উচ্চারণ করা বা লেখার ক্ষেত্রে বিরক্তি অনুভব করা উচিৎ নয়।

বিজ্ঞ আলেমগণ এ বাক্যটিকে সংক্ষিপ্তভাবে লেখাকে বা এ জন্য চিহ্ন ব্যবহার করাকে অপছন্দ করেছেন। যেমন: বাংলায় (সা.), (সাঃ), (দ.) অথবা কেবল ‘আলাইহিস সালাম’ (সালাত ব্যতিরেক শুধু সালাম) অথবা আরবিতে ص صلعم ,صم ,عليه السلام ইত্যাদি।

অনুরূপভাবে কেবল সালাত অথবা সালাম লেখাও অনুচিত। বরং সালাত ও সালাম উভয়টি একসাথে পূর্ণাঙ্গভাবে লেখা উচিৎ। যেহেতু আল্লাহ তাআলা কুরআনে সালাত ও সালাম উভয়টির নির্দেশ দিয়েছেন।

● আল্লামা ইরাকি বলেন, “হে লেখক, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর সালাত ও সালামের ক্ষেত্রে চিহ্ন/আলামত ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।… এভাবে লেখায় কমতি থাকলে সওয়াবেও কমতি হবে।” [আল ফাতহুল মুগিস]

وقال العلامة السخاوي رحمه الله تعالى في كتابه ” فتح المغيث شرح ألفية الحديث للعراقي ” ما نصه : ( واجتنب أيها الكاتب ( الرمز لها ) أي الصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطك بأن تقتصر منها على حرفين ونحو ذلك فتكون منقوصة – صورة – كما يفعله ( الكتاني ) والجهلة من أبناء العجم غالبا وعوام الطلبة ، فيكتبون بدلا من صلى الله عليه وسلم ( ص ) أو ( صم ) أو ( صلعم ) فذلك لما فيه من نقص الأجر لنقص الكتابة خلاف الأولى )

● রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সংক্ষেপে দরুদ লেখার ব্যাপারে শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা একাধিক বার এ ব্যাপারে সতর্ক করেছি এবং আলেমগণও সতর্ক করেছেন। সুতরাং এমনটি করা উচিৎ নয়। এর সর্বনিম্ন অবস্থা হল, এটি খুবই অপছন্দীয়। বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি পূর্ণাঙ্গ সালাত লিখতে হবে…।”

– فتوي العلامة عبد الله بن باز رحمه الله:

حكم كتابة (ص) و(صلعم) بدلاً من صلى الله عليه وسلم

السؤال: نجد من يكتب بدلاً من ﷺ الحرف (ص) أو (صلعم) فهل هذا جائز؟

هذا لا ينبغي قد نبهنا عليه غير مرة، ونبه عليه العلماء فلا ينبغي ذلك، فأقل أحواله الكراهة الشديدة، بل يكتب الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم كاملة؛ يقول: ﷺ، فلا يجعل (ص) ولا (صلعم) كل هذا لا ينبغي.
ولهذا جاء في الحديث عنه ﷺ أنه قال: من صلى علي واحدة صلى الله عليه بها عشراً، ومن كتب هذه الكتابة يحرم هذا الخير، فينبغي لمن كتب شيئاً من ذلك أن يكتب كاملاً، أن يكتب الصلاة كاملة: ﷺ. نعم

মোটকথা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাম শোনা বা উচ্চারণ করার সাথে সাথে যেমন আমরা মুখে পূর্ণাঙ্গ সালাত ও সালাম পেশ করি ঠিক তদ্রূপ তাঁর নাম লেখার ক্ষেত্রেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে লেখা উচিৎ। তাহলে পাঠক প্রতিবার উচ্চারণে ১০টি করে নেকি লাভ করবে ইনশাআল্লাহ। তবে বিশেষ কারণ বশত: তা সংক্ষেপে লিখলেও গুনাহ হবে না। তবে যথাসাধ্য তা এড়িয়ে চলা উচিত। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার। সৌদি আরব।

Share: