শরিফ শব্দের সঠিক ও ভুল ব্যবহার এবং এ ব্যাপারে বিভ্রান্তি নিরসন

শরিফ (شريف) শব্দের অর্থ: সম্মানিত, ‌উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন, মর্যাদাবান, সম্ভ্রান্ত, অভিজাত ইত্যাদি। যেমন: আরবি অভিধানে বলা হয়েছে:
شريف: نبيل، عالي المنزلة، سامي المكانة، رفيع الدّرجة [almaany]
সাধারণত আমাদের সমাজের মানুষ মক্কা, মদিনা, কাবা, কুরআন, হাদিস ইত্যাদির প্রতি সম্মান ও সমীহ প্রকাশের উদ্দেশ্যেই এগুলোর সাথে ‘শরিফ’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। যেমন: বলা হয়: মক্কা শরিফ, মদিনা শরিফ, কাবা শরিফ, কুরআন শরিফ, হাদিস শরিফ ইত্যাদি। একে নাজায়েজ বা বিদআত বলার কোন সুযোগ নেই। কেননা মানুষ ইবাদতের নিয়তে বা বিশেষ কোনো সওয়াবের উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করে না। বরং তা নেহায়েত সম্মান সূচক সম্বোধন মাত্র। তাছাড়া অর্থগতভাবেও এতে কোন সমস্যা নেই। অবশ্যই এসকল বিষয় অত্যন্ত সন্মান ও মর্যাদার অধিকারী।
মনে রাখতে হবে, কোন নামের ক্ষেত্রে বিশেষণ ব্যবহার ততক্ষণ পর্যন্ত নাজায়েজ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাতে শরিয়ত বিরোধী বা অতিরঞ্জন মূলক কোন কিছু না পাওয়া যাবে। এটি নিতান্তই দুনিয়াবি বিষয়। যেভাবে মক্কা শব্দের সাথে ‘মুকাররমা’ (সম্মানিত) এবং মদিনা শব্দের সাথে ‘মুনাওয়ারা’ (আলোকিত) বিশেষণদ্বয় ব্যবহারের বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবিদের যুগে প্রচলিত ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্যে মানুষ এই শব্দগুলো যুক্ত করেছে। (এ বিষয়ে স্বতন্ত্র পোস্টে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি আলহামদুলিল্লাহ)।

যুগে যুগে আলেমদের নামের সাথে ইমাম, শাইখুল ইসলাম, আল্লামা, শাইখ, মাওলানা, হযরত ইত্যাদি শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়। এগুলোর উদ্দেশ্য কেবল সম্মান সূচক সম্বোধন। যদিও আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবিদের নামের সাথে এই ধরনের বিশেষণ ব্যবহারের রীতি প্রচলিত ছিল না।

– তদ্রুপ কুরআনের ক্ষেত্রে শরিফ শব্দের ব্যবহারও নাজায়েজ নয়। কারণ অর্থগতভাবে কোন সমস্যা নেই। কুরআন শরিফ অর্থ, মর্যাদাবান কুরআন। এটি মূলত কুরআন মাজীদ বা কুরআন কারীম-এর সমার্থক বোধক। অর্থাৎ শব্দ ভিন্ন হলেও অর্থ প্রায় এক। ‌তবে নিঃসন্দেহে কুরআনের সাথে মাজিদ (মর্যাদাবান), কারিম (সম্মানিত), হাকিম (প্রজ্ঞার আধার), মুবিন (সুস্পষ্ট) ইত্যাদি কুরআনে ব্যবহৃত আল্লাহর দেওয়া ‌বিশেষণ ব্যবহার করা উত্তম।

– একইভাবে অর্থগত দৃষ্টিকোণ থেকে হাদিস এবং হাদিসের কিতাবাদী তথা বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ইত্যাদির সাথে শরিফ শব্দযুক্ত করতে কোন আপত্তি নেই। যেমন: হাদিস শরিফ, বুখারি শরিফ, মুসলিম শরিফ ইত্যাদি। তবে আমাদের সালাফ বা পূর্বসূরীগণ এ সকল ক্ষেত্রে ‘শরিফ’ শব্দটি ব্যবহার করতেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই ব্যবহার না করাই ভালো। কিন্তু কেউ ব্যবহার করলেও তাকে হারাম বা বিদআত বলার সুযোগ নাই। কারণ এটি ইবাদতের বিষয় নয় এবং অর্থগতভাবেও এতে কোন সমস্যা নেই।

– মিলাদ, কিয়াম, মাজার, ওরশ, পীরের খানকা ও দরবার ইত্যাদি শব্দের সাথে শরিফ শব্দের ব্যবহার জায়েজ নয়। কারণ এগুলো বিদআতি কার্যক্রম এবং বিদআত চর্চা কেন্দ্র। আর বিদআত কখনো শরিফ হতে পারে না। পথভ্রষ্ট লোকেরা এই সকল বিদায়াতি কার্যক্রমের আবরণ হিসেবে এবং মানুষের সামনে এগুলোকে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে এগুলোতে শরিফ শব্দ ব্যবহার করে থাকে।

– শব্দের অর্থ বিবেচনায়, মানুষের নামের ক্ষেত্রে শরিফ বা শরিফা শব্দের ব্যবহারও আপত্তিজনক নয়। আল্লাহু আলম।

▬▬▬▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬▬▬▬
লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।