যঈফ/দুর্বল সনদে বর্ণিত কোন দুআ পড়া কি জায়েয?

উত্তর:
গুনাহর বিষয় ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন সম্পর্কিত দুআ ছাড়া মহান আল্লাহর কাছে বান্দা যে কোন দুআ করতে পারে। এমন কি যদি কোন ভালো অর্থবোধক দুআ হয়- যা যঈফ/দুর্বল সূত্রে বর্ণিত হয়েছে সেটিও পড়া যাবে। এমনকি নিজ ভাষায় ইচ্ছেমত বানিয়ে বানিয়ে দুআ করাও জায়েয়।

2733 কেননা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দুআর বিষয়টি বান্দার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তাই তো তিনি বান্দাদেরকে স্বয়ং তার নিকট দুআ করার আহ্বান জানাচ্ছেন এই বলে:

ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
“তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।” (সূরা গাফির/৬০ নং আয়াত) আর দুআ একটি অন্যতম ইবাদত।

2733 দুআয় লাভ ছাড়া ক্ষতি নাই। কেননা, আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
ما من مسلم يدعو بدعوة، ليس فيها إثم ولا قطيعة رحم إلا أعطاه الله بـها إحدى ثلاث : إما أن يعجل له دعوته، وإما أن يدخرها له في الآخرة وإما أن يصرف عنه من السوء مثلها. قالوا : إذا نكثر قال : الله أكثر-رواه البخاري في الأدب المفرد 710 وصححه الألباني وأحمد
“যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি দুআ করে, যে দুআতে কোনো পাপ থাকে না ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয় থাকে না, তাহলে আল্লাহ তিন পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতিতে তার দুআ অবশ্যই কবুল করে নেন। যে দুআ সে করেছে হুবহু সেভাবে তা কবুল করেন অথবা তার দুআর প্রতিদান আখেরাতের জন্য সংরক্ষণ করেন কিংবা এ দুআর মাধ্যমে তার ওপর আগত কোনো বিপদ তিনি দূর করে দেন। এ কথা শুনে সাহাবিগণ বললেন, আমরা তাহলে অধিক পরিমাণে দুআ করতে থাকবো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : তোমরা যত প্রার্থনাই করবে আল্লাহ তার চেয়ে অনেক বেশি কবুল করতে পারেন। (বুখারী : আল-আদাবুল মুফরাদ ও আহমদ, সহীহ-আলবানী)
এ হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কোনো মুসলিম ব্যক্তির দুআ কখনো বৃথা যায় না।
2733 রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন,
ثُمَّ لِيَتَخَيَّرْ مِنَ الدُّعاَءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَيَدْعُوْا
“অত:পর তার কাছে যে দু’আ পছন্দনীয়, তা নির্বাচন করে দু’আ করবে।” (সহীহ বুখারী)

2733 অন্য এক বর্ণনায় আছে,
ثُمَّ يَتَخَيَّرْ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ
“অতঃপর যা ইচ্ছা চেয়ে দু’আ করতে পারে।” (মুসনাদে আহমদ, সহীহু বুখারী, শব্দগুলো মুসনাদে আহমদ থেকে নেয়া)
মোটকথা, বন্দা মহান আল্লাহর নিকট নিজের প্রয়োজন তুলে ধরে কাকুতি-মিনতি করে দুয়া করবে। তাহলে সে ইবাদত করার সওয়াব পাবে সেই সাথে দুনিয়া ও আখিরাতে বিরাট মর্যাদার অধিকারী হবে ইনশাআল্লাহ।

2b55 *তবে মনে রাখতে হবে,* দুর্বল সনদে বর্ণিত দুআটি ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী’ বলে বিশ্বাস করা যাবে না অনুরূপভাবে তাতে যদি বিশেষ কোন ফযীলতের কথা উল্লেখিত থাকে তাহলে তাতেও বিশ্বাস রাখা যাবে না। কারণ তা বিশুদ্ধ সনদে সুপ্রমাণিত নয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে সম্বন্ধ করে কোন কথা বলা হলে তা অবশ্যই বিশুদ্ধ সূত্রে প্রামাণিত হতে হবে।
আল্লাহু আলাম।

2712271227122712
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব
দাঈ, জুবাইল দওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।।

Share: