কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

মহিলাদের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য ও দোকানে কাজ করার বিধান

প্রশ্ন: আমার ডিভোর্স হয়েছে তিন বছর হল। তাই জীবনের প্রয়োজনে একটা দোকানে কাজ করি। দোকান ওয়েল ফুডের মত। আমি দোকানে বোরকা পড়ে আসি। এভাবে দোকানে কাজ করা কি আমার জন্য বৈধ? আর এখানে আমার গুনাহের পরিমাণটা কেমন হবে যদি মুখ খোলা থাকে?
উত্তর:
প্রথমে দুআ করি, মহান আল্লাহ আপনাকে একটি সুন্দর ও নিরাপদ আশ্রয় দান করেন এবং আপনার জীবন-জীবিকা সহজ করে দেন। আমীন।
অত:পর
ইসলামের দৃষ্টিতে জরুরি প্রয়োজনে মুসলিম নারীর জন্য পর্দা রক্ষা করে দোকানদারী করা বা হালাল ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা বৈধ। আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন।( وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا ) সুতরাং তা পুরুষ-নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। তবে এ ক্ষেত্রে তাকে মুখমণ্ডল সহ পূর্ণ হিজাব পরিধান করতে হবে (অধিক অগ্রাধিকার যোগ্য অভিমত হল, মুখমণ্ডল ঢাকা ফরয) এবং ফেতনা-ফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে।

পরপুরুষের সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলা এবং কোমল কণ্ঠ পরিহার করতে হবে। আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করবে না এবং পর পুরুষের সামনে নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে মহিলা সাহাবীগণ পর্দা ও সম্ভ্রম রক্ষা করে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন।

তবে কারো অজানা নয় যে, একজন নারীর জন্য এভাবে দোকানে বসে পরপুরুষদের নিকট কেনাবেচা করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে নানা ফেতনায় জড়িয়ে পড়ার পর্যাপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যথাসম্ভব কেবল মহিলাদের জন্য আলাদাভাবে মার্কেট থাকলে সেখানে দোকানদারী করার চেষ্টা করবে। (যেমন: সৌদি আরবে বিদ্যমান রয়েছে) অথবা নিজ ঘরে বসে কাপড় সেলাই, হস্তশিল্প, অনলাইন ব্যবসা ইত্যাদি বিভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করবে।
তবে এমন সুযোগ না থাকলে এবং তার জীবন যাপনের জন্য দোকানে বসা ছাড়া বিকল্প না থাকলে নিজের দ্বীন, চরিত্র ও সম্ভ্রম রক্ষা করে শরীয়তের পর্দা ঠিক রেখে দোকানে কাজ করতে পারে। আল্লাহু আলাম।

▬▬▬✪✪✪▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
লিসান্স: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব। দাঈ,জুবাইল দাওয়া এন্ড গাইডেন্স সেন্টার সউদী আরব

Share This Post