কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

মহিলাদের কি আযান ও ইকামত নেই?

প্রশ্ন: যেহেতু মহিলা এবং পুরুষদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নাই সেহেতু পুরুষরা যেমন আযান-ইকামত দিয়ে নামাজ শুরু করে তেমনি মহিলারাও কি আযান ও ইকামত দিবে (একাকী পড়লেও)?
কোনো কোনো আলেম বলেন যে, মহিলারা যদি আযান শুনতে না পায় তাহলে তারাও আযান দিবে পরে ইকামত দিয়ে নামাজ শুরু করবে (যদি আযান শুনতে পায় তাহলে শুধু ইকামত দিবে এবং গায়রে মাহরামের কণ্ঠ শুনার আশঙ্কা থাকলে অল্প আওয়াজে দিবে) এবং তারা এই হাদিসটি উল্লেখ করে থাকে। হাদিসটা হল: ইবনে ওমর রা.কে মহিলাদের আযান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেছিলেন: “আমি কি আল্লাহর জিকির করা থেকে মানুষকে নিষেধ করতে পারি?”
এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলাটি জানেত চাই।

উত্তর:
সঠিক মতানুযায়ী সালাতের কিয়াম, কিরাআত, রুকু, সেজদা, হাশাহুদ, সালাম ইত্যাদি পদ্ধতিগতভাবে নারী-পুরুষের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু সালাত সংক্রান্ত কিছু বিষয়ের পার্থক্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন: আযান, একামত, মসজিদে গিয়ে জামাআতে শরিক হওয়া , জুমার সালাত ইত্যাদি। অনুরূপভাবে নামাযে পর্দা, ইমামতি, ইমামের ভুল সংশোধন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের পার্থক্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

🌀 মহিলাদের জন্য আযান ও একামত:

মহিলাদের জন্য আযান ও একামত নেই-তারা নিজেরা জামাআতে সালাত আদায় করুক অথবা একাকী করুক। এ ব্যাপারে জুমহুর বা অধিকাংশ আলেম একমত। কারণ এর পক্ষে একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন:

আয়েশা রা. বলেন, كنا نصلي بغير إقامة “আমরা একামত ছাড়া নামায আদায় করতাম।” (সুনানে বায়হাকী ২/১১৭)
উম্মে ওয়ারাকা বিনতে আব্দুল্লাহ আল হারিস আল আনসারিয়া রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
كانَ رسولُ اللَّهِ صلَّى اللَّهُ علَيهِ وسلَّمَ يَزورُها في بَيتِها ، وجعلَ لَها مؤذِّنًا يؤذِّنُ لَها ، وأمرَها أن تؤمَّ أهلَ دارِها
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বাড়িতে দেখা করতে যেতেন এবং তার জন্য একজন মুআযযিন ঠিক করে দিয়েছিলেন আর বলেছিলেন, তিনি যেন তার বাড়ির লোকদের (মহিলাদের) ইমামতি করেন।” (সহিহ আবু দাউদ, শাইখ আলবানী রহ. এটিকে হাসান বলেছেন)
এখানে দেখা যাচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে ওয়ারাকা রা. কে ইমামতির নির্দেশ দিলেও তাকে বা তার বাড়ির অন্য কোনো মহিলাকে আযান দেয়ার অনুমতি দেন নি। বরং আলাদা পুরুষ মুআযযিন ঠিক করে দিয়েছিলেন। সুতরাং যদি মহিলাদের আযান দেয়া বৈধ হত, তাহলে আলাদা পুরুষ মুআযযিন নির্ধারণ করতেন না।

ইবনে উমর রা. থেকে দু ধরণের বর্ণনা পাওয়া যায়। এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেছেন: ليس على النساء أذان ولا إقامة “মহিলাদের জন্য আযান ও একামত নেই।” (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী,ইবনে হাজার আসকালানী আত তালখীসুল হাবীর গ্রন্থে এটিকে সহিহ বলেছেন ১/৫২১)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
عن ابن عمر أنه سئل هل على النساء أذان فغضب، وقال: أنا أنهى عن ذكر الله
ইবনে উমর রা.কে মহিলাদের আযান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি রাগান্বিত হয়েছিলেন বলেছিলেন” আমি কি আল্লাহর জিকির করা থেকে মানুষকে নিষেধ করতে পারি?” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, ওহাব ইবনে কায়সান হতে বর্ণিত, শাইখ আলবানী বলেন, এর সনদ ভালো-তামামুল মিন্নাহ পৃষ্ঠা ১৫৩)
তাহলে দেখা যাচ্ছে, ইবনে উমর থেকে দু ধরণের মত পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কথা হল, যদি মহিলাদের আযান-একামত থাকত তবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন হাদিস পাওয়া যেত। কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ার পরেও এ ব্যাপারে কোন হাদিস পাওয়া যায় না।

শাইখ আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন:
لا يشرع للمرأة أن تؤذن أو تقيم في صلاتها إنما هذا من شأن الرجال، أما النساء فلا يشرع لهن أذان ولا إقامة بل يصلين بدون أذان ولا إقامة، وعليهن العناية بالوقت
“মহিলাদের সালাতের জন্য আযান ও একমত কোনটাই শরিয়ত সম্মত নয়। এগুলো পুরুষদের কাজ। মহিলাদের জন্য আযান ও একামত কোনটাই শরিয়ত সম্মত নয়। বরং তারা আযান-একামত ছাড়াই সালাত আদায় করবে। তারা সালাতের সময়ের দিকে খেয়াল রাখবে।” (বিন বায রহ. এর অফিসিয়াল ওয়েব সাইট)

অবশ্য মহিলাদের আযান ও ইকামতের বৈধতার পক্ষে একদল আলেম মত প্রকাশ করেছেন। আর হানাফি মাজহাবে তা মাকরূহ। কিন্তু অধিকাংশ সাহাবী, তাবেঈ ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের মতে মহিলাদের আযান ও ইকামত শরিয়ত সম্মত নয়। এগুলো কেবল পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য। আর উপরোল্লিখিত সাহাবীদের বক্তব্য থেকে এমতই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬◄❖►▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব।।

Share This Post