কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

মসজিদে দান কৃত কুরআন কি বাড়িতে নিয়ে পড়া যাবে?

প্রশ্ন: মসজিদে দান কৃত কুরআন কি বাড়িতে নিয়ে পড়া যাবে?
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
উত্তর:
মসজিদে মুসল্লিদের পড়ার জন্য যে সকল কুরআন ওয়াকফ (আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান) করা হয়েছে সেগুলো মসজিদ থেকে বের করা বৈধ নয়। পড়তে চাইলে মসজিদে বসেই পড়তে হবে। এমনকি মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনও কাউকে এগুলো নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার অধিকার রাখে না।

অবশ্য দানকারীর পক্ষ থেকে যদি সাধারণ দান হিসেবে মসজিদে রাখা হয় এবং প্রয়োজনে যে কারও তা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া থাকে তাহলে ভিন্ন কথা।
অর্থাৎ দান কারীর অনুমতি ছাড়া মসজিদ থেকে কুরআন বাইরে নেয়ার সুযোগ নাই। বরং মসজিদের জিনিস মসজিদেই থাকবে। বিভিন্ন শ্রেণির মুসল্লিগণ মসজিদে বসে পড়বে, উপকৃত হবে এবং নেকি অর্জন করবে। কিন্তু কেউ যদি মসজিদ থেকে তা বাড়িতে নিয়ে যায় তাহলে এতে অন্যান্য মুসল্লিদেরকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি দান কারীর উদ্দেশ্য পরিপন্থী কাজ হবে।

সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটিকে প্রশ্ন করা হয় যে, মসজিদে হারামের কুরআন কি বাড়িতে নেয়া জায়েজ?

তারা উত্তরে বলেন,
“ما كان وقفاً من المصاحف والكتب لينتفع بها في مكان معين لا يجوز إخراجها إلى غيره ، سواء كان حرماً أم غيره ، إلا إذا تعطل مكانها فتنقل إلى مثله أو أفضل في الانتفاع” انتهى
”কুরআন, ইসলামি বই-পুস্তক ইত্যাদি যদি কোথাও ওয়াকফ করা হয় তাহলে তা অন্যত্র নিয়ে যাওয়া জায়েজ নাই চাই তা মসজিদে হারাম (মক্কা-মদিনার মসজিদ) হোক বা অন্য কোথাও হোক। তবে যদি উক্ত স্থানটা পরিত্যক্ত হয় তাহলে উপকারের স্বার্থে অনুরূপ কোনও স্থান বা এর চেয়ে ভালো কোনও স্থানে তা সরিয়ে নেয়া যেতে পারে।”
উৎস: স্থায়ী ফতোয়া ও গবেষণা বিষয়য় স্থায়ী কমিটি (১৬/২৯)
শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায
শাইখ আব্দুল্লাহ বিন গুদাইয়ান
শাইখ আব্দুল্লাহ বিন কাঊদ

আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
জুবাইল, সৌদি আরব।

Share This Post