কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বিউটি পার্লার খোলা বা তাতে কাজ করার বিধান

প্রশ্ন: স্বামীর আর্থিক অনটনের কারণে তাকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে কোন মহিলার জন্য বিউটি পার্লার খোলা বা তাতে কাজ করা বৈধ কি?

উত্তর:

বিউটি পার্লারগুলোতে সাধারণত নানা ধরণের শরিয়া বিরোধী ও গুনাহের কাজ সংঘটিত হয়। এ সকল শরীয়ত বিরোধী কার্যক্রম থেকে মুক্ত হলে (শর্ত সাপেক্ষে) মহিলাদের বিউটি পার্লার খোলা বা তাতে কাজ করা জায়েজ রয়েছে।
যেমন:
১) কেবল মেয়েরাই মেয়েদের জন্য কাজ করবে। সেখানে পুরুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
২) সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ইসলামে নারীদের জন্য যে সকল বিষয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেগুলো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। যেমন: ভ্রু প্লাগ, মাথায় কৃত্রিম চুল সংযোজন, শরীরে উল্কি অংকন, দাঁত চিকন করা, আতর সুগন্ধি লাগানো, মাথার উপরে উঁচু করে চুলের খোপা বাধা ইত্যাদি।

৩) কৃত্রিম নখ, ভ্রূ, ও চোখে কালার লেন্স ইত্যাদি না লাগানো। কেননা একদিকে এগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক অন্যদিকে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার নামান্তর।
৪) মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক বা হারাম উপাদান থেকে তৈরি কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার না করা।
৫) মহিলাকে সাজানোর সময় তার লজ্জা স্থানের দিকে না তাকানো বা তার স্পর্শকাতর স্থান স্পর্শ না করা।
৬) কাফের-ফাসেক নায়িকা-গায়িকা বা পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনের উদ্দেশ্যে মাথার চুল খাটো না করা। (এই উদ্দেশ্য না হলে প্রয়োজনে মহিলাদের মাথার চুল ছোট করা জায়েজ রয়েছে)
৭) যে সকল মহিলা পর্দা বিহীন ভাবে চলাফেরা করে বা যারা বোরকা পরে কিন্তু মুখমণ্ডল খোলা রাখে তাদের অঙ্গসজ্জা না করা। কেননা এতে তাদেরকে এ সকল গুনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়- যা ইসলামে নাজায়েজ।
৮) ফেতনা থেকে মুক্ত থাকা।

উপরোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে মহিলাদের জন্য বিউটি পার্লার খোলা, তাতে কাজ করা এবং এই উদ্দেশ্যে ঘর ভাড়া দেওয়া ইত্যাদিতে কোন বাধা নেই। কিন্তু এসকল শর্তাবলী লঙ্ঘন হলে অবশ্যই তা বৈধ নয়।
দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, বর্তমানে এই সকল শর্তাবলী পালন করে বিউটি পার্লার চালানো প্রায় অসম্ভব।

সুতরাং স্বামীর আর্থিক দুর্বলতায় একান্ত জরুরি অবস্থায় তাকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে (স্বামী না থাকলে নিজের বা পরিবারের আর্থিক দুর্গতি লাঘবের উদ্দেশ্যে) একজন মহিলার অর্থ কামানোর জন্য এই পথে না গিয়ে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ভিন্ন বৈধ উপায় অনুসন্ধান করা উচিত। যেমন: পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে এবং ফিতনা থেকে দূরে থেকে কেবল মহিলা অঙ্গনে হালাল জব করা, বাড়িতে বা বাড়ির আশেপাশে কেবল ছাত্রীদের জন্য কোচিং করা, বাড়িতে হাঁসমুরগি বা গবাদিপশু পালন করা, অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন ধরণের হালাল ব্যবসা করা, ফ্রিল্যান্সিং করা, হস্তশিল্প, পোশাক তৈরি, কাপড় সেলাই ইত্যাদি কাজ করা। আল্লাহু আলাম
আল্লাহ সাহায্য করুন। আমীন।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী
লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব।।

Share This Post