কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

নারীদের ক্যারিয়ার গঠনে ইসলাম কি বাধা দেয়?

প্রশ্ন: বর্তমান আধুনিকতার যুগে পুরুষদের মত নারীরাও চায় তাদের উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে, লেখাপড়া শিখতে। কেউই নিজেদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখতে চায় না। নারীদের এই ক্যারিয়ার মুখী চিন্তাভাবনা বা এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের জন্য দয়া করে একটু বিস্তারিত জানাবেন প্লিজ।

উত্তর:

ইসলাম কখনো নারীদেরকে উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে বাধা দেয় না বরং এতে উৎসাহিত করে। তবে অবশ্যই তাকে ইসলামের বিধান মেনে তা করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে যদি ইসলামের বিধান লঙ্ঘিত হয় তখন অবশ্যই ইসলাম অগ্রাধিকার পাবে। এটাই ঈমানের দাবী। এ কথা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। একজন পুরুষের জন্যও বিধান হল, ক্যারিয়ার গঠন করতে গিয়ে যদি আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করতে হয় তখন তাকেও সে পথে থেকে ফিরে আসতে হবে। কেননা, মুমিনের জন্য দুনিয়ার আয়-উন্নতি, সাফল্য ও সমৃদ্ধির চেয়ে আখিরাতের সাফল্য ও মুক্তি বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

তাই, যতক্ষণ পর্যন্ত শরীয়তের সীমা-রেখার মধ্যে থেকে ক্যারিয়ার গঠন, চাকুরী, ব্যবসা ও অন্যান্য দুনিয়াবি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা যায় ততক্ষণ তাতে ইসলাম কোনভাবেই বাধা দেয় না।
সুতরাং একজন নারীও ইচ্ছা করলে নারী অঙ্গনে বা এমন পরিবেশে নিজেকে উন্নত করার যাবতীয় উপায় অবলম্বন করতে পারে যেখানে তার সম্ভ্রম ও ঈমান রক্ষা করা সম্ভব হয়। যেমন, বর্তমানে সউদী আরবে আল হামদুলিল্লাহ নারীরা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যাংকিং, আইটি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরুষের সংমিশ্রণ ছাড়া সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশে কাজ করে নিজেদের সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছেন।

মোটকথা, পরপুরুষের সংমিশ্রণ ছাড়া সম্পূর্ণ হিজাব রক্ষা করে একজন মহিলা নিজের ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে। ইসলাম এতে বাধা দেয় না। তবে এ জন্য আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্রের উপর অপরিহার্য দায়িত্ব হল, নারীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র তৈরি করা এবং তাদের সুরক্ষার সর্বাত্মক ব্যবস্থা করা।

তবে যদি পর্দা রক্ষা রক্ষা করে কাজ করার মত নিরাপদ পরিবেশ না পাওয়া যায় তাহলে একান্ত বাধ্য না হলে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত পর্দার ফরয বিধান লঙ্ঘন করার (অর্থাৎ হিজাবকে জলাঞ্জলী দিয়ে পরপুরুষের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে কাজ করার) সুযোগ নাই।

এ ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং জীবিকা ও উপার্জনের বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করতে হবে। কেউ যদি আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন যা সে কল্পনা করতে পারে না। যেমন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:‎
وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مِنۡ أَمۡرِهِ
“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন।” [সূরা তালাক: ৪]
তিনি আরও বলেন:
وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجٗا – وَيَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَيۡثُ لَا يَحۡتَسِبُۚ
“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন ‎যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” (সূরা তালাক: ২ ও ৩ নং আয়াত)‎

অবশ্য যদি কোনো মহিলা উপায়ান্তর না পেয়ে একান্ত জীবনের তাকিদে এমন পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয় তাহলে যথাসাধ্য পর্দা ও সম্ভ্রম রক্ষা করে কাজ করা জায়েয হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا
“আল্লাহ তা’আলা কারো উপর তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব চাপান না।” (সূরা বাকারা: ২৮৬ নং আয়াত)
এ ক্ষেত্রে নিভৃত কক্ষে পরপুরুষের নিকট সময় কাটাবে না।
তাদের সাথে নিষ্প্রয়োজনীয় কথা বলবে না।
কথা বলার সময় কোমল কণ্ঠ পরিহার করবে।
তাদের সাথে হাসাহাসি-দুষ্টামি করবে না।
আতর সুগন্ধি ব্যবহার করবে না
কাজ শেষ হলে অনতিবিলম্বে বাড়িতে ফিরে আসবে।
সেই সাথে আল্লাহর কাছে দুআ করবে এবং বিকল্পপন্থায় জীবিকা উপার্জনের পথ অনুসন্ধান করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সাহায্যকারী।

আল্লাহু আলাম।
▬▬▬🌐💠🌐▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।।

Share This Post