কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

তার স্বামী বর্তমানে জেলে প্রতিবেশী ছেলেরা খারাপ প্রস্তাব দেয়

প্রশ্ন: তার স্বামী বেনামাজি, নেশাখোর, খুব অত্যাচার করে। বোনটির তিন ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই এই অত্যাচারের প্রতিবাদ করায় তার স্বামী উক্ত ভাই কে খুন করে। ভাই খুন হওয়ার পর বোনটির স্বামী এখন জেলে। এখন সমস্যা হচ্ছে, বোনকে তার বাপের বাড়িতে উঠতে দিচ্ছে না। বলছে, তোর জন্য তোর ভাই খুন হয়েছে। তুই আমাদের মেয়ে না।
এমনকি শ্বশুর বাড়িতেও কোনও ঠাঁই নেই।
বোনটি বর্তমানে দুটো ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে একাকী তাদের বাড়িতে থাকে। তার সংসার চলে খুব কষ্টে। সে যুবতী হওয়ায় প্রতিবেশী ছেলেরা তার সাথে জিনায় জড়াতে চায়। অনেকে সাহায্য করতে চায় কিন্তু তার বদলে জিনা করতে চায়।
এর মধ্যে একটা ছেলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং টাকাকড়ি দিয়ে তার সংসার চালায়। যেহেতু ছেলেটি তার সংসারের খরচ চালাচ্ছে তাই সে তাকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু তার মন কাঁদে তার স্বামীর জন্য। বোনটি চায়, তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতে যতক্ষণ না তার স্বামী জেল থেকে ছাড়া পায়। কিন্তু সমাজের ছেলেরা তাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। এখন তার কী করা উচিত?

উত্তর:

আপনার বিবরণ অনুযায়ী, উক্ত বোনের সাথে তার বাবা ও শ্বশুরের পক্ষ থেকে যা করা হচ্ছে তা জুলুম ছাড়া অন্য কিছু নয়। এটি খুবই দু:খ জনক এবং অগ্রহণযোগ্য আচরণ। তাদের উচিৎ আল্লাহকে ভয় করা এবং একজন অসহায় নারীর প্রতি সদয় হওয়া। মেয়েটি অভিভাবক তথা পিতার জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব হল, তার অসহায় মেয়েকে আশ্রয় দেয়া এবং বিপদে সাহায্য করা। তিনি রাগ বা জেদের বশবর্তী হয়ে এ দায়িত্ব পালন না করে তার
অসহায় মেয়েকে অনিশ্চিত গন্তব্য ও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিলে তাকে আখিরাতে অবশ্যই আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
অনুরূপভাবে শ্বশুরেরও উচিৎ, তার ছেলের বউকে ছেলের অনুপস্থিতিতে হেফাজতের ব্যবস্থা করা। এটি মানবিক ও সামাজিক উভয় দিক থেকে তার উপর কর্তব্য। বিশেষ করে বাবা যদি তার মেয়েকে আশ্রয় না দেয়।

বাবা কিংবা শ্বশুর কেউ তাকে আশ্রয় না দিলে সমাজের নেতৃস্থানীয় বা সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা প্রশাসন তার নিরাপত্তা বিধান করবে।

যাহোক, স্বামী জেলে থাকা অবস্থায় বর্তমান পরিস্থিতিতে তার উচিৎ, আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রেখে নিজের ইজ্জত-সম্ভ্রম হেফাজত করা, পরিপূর্ণ পর্দা রক্ষা করে চলা, বাড়ির বাইরে গেলে আতর-সুগন্ধি ব্যবহার না করা, কোনো পর পুরুষকে তার বাড়িতে আসার সুযোগ না দেয়া এবং তাদের সাথে বিনা প্রয়োজনে কথাবার্তা এড়িয়ে চলা।
আর যদি সম্ভব হয় তাহলে তার নিকটাত্মীয় কোনো মাহরাম ছেলে অথবা কমপক্ষে কোনো নিকটাত্মীয় মহিলাকে তার বাড়িতে রাখা। সেই সাথে যে সব মানুষ তাকে খারাপ প্রস্তাব দেয় এবং নানাভাবে ডিস্টার্ব করে তাদের ব্যাপারটি স্থানীয় সৎ দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে জানানো।
আর যেহেতু সে এখনো আরেকজনের স্ত্রী-তার স্বামী থেকে বিয়ে বিচ্ছেদ হয় নি সেহেতু অন্য কোনো ব্যক্তি সাথে বিয়ে শরিয়ত সম্মত নয়।

সুতরাং হয় সে তার স্বামী জেল থেকে মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে অথবা অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইলে আইনগত ভাবে কোর্টের মাধ্যমে খোলা তালাকের ব্যবস্থা করবে।
আল্লাহ তাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন। আমরা সকলেই তার জন্য দুআ করি। নিশ্চয় আল্লাহ হেফাজত কারী।
———————
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
জুবাইল, সৌদি আরব

Share This Post