কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

তারাবীহ সালাতে মুসহাফ (কুরাআন) হাতে নিয়ে দেখে দেখে তিলাওয়াত করা কি জায়েয?

প্রশ্ন: তারাবীহ সালাতে মুসহাফ (কুরাআন) হাতে নিয়ে দেখে দেখে তিলাওয়াত করা কি জায়েয?
▬▬▬▬▬▬
উত্তর:
তারাবীহ সালাতে কুরআন মুখস্ত পড়ার চেষ্টা করতে হবে। তবে কুরআন দেখে পড়াও জায়েয আছে ইনশাআল্লাহ।

শাইখ আব্দুল হামীদ ফায়যী (হাফিযাহুল্লাহ) সালাতে মুবাশশির কিতাবে লিখেছেন:
“তারাবীহ্‌ প্রভৃতি লম্বা নামাযে (লম্বা ক্বিরাআতের) হাফেয ইমাম না থাকলে ‘কুল-খানী’ করে ঠকাঠক কয়েক রাকআত পড়ে নেওয়ার চেয়ে মুসহাফ (কুরআন মাজীদ) দেখে দেখে পাঠ করে দীর্ঘ ক্বিরাআত করা উত্তম। (অবশ্য কুরআন খতমের উদ্দেশ্যে নয়।) অনুরুপ (জামাআতে অন্য হাফেয মুক্তাদী না থাকলে) হাফেয ইমামের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোন মুক্তাদীর কুরআন দেখে যাওয়া বৈধ। এ সব কিছু প্রয়োজনে বৈধ; ফলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না।”

মা আয়েশা رضي الله عنها এর আযাদকৃত গোলাম যাকওয়ান রমযানে (তারাবীতে) দেখে দেখে কুরআন পাঠ করে তাঁর ইমামতি করতেন। (মালেক, মুঅত্তা, ইবনে আবী শাইবা ৭২১৫, ৭২১৬, ৭২১৭ নং)
হযরত আনাস (রাঃ) নামাযে ক্বিরাআত পড়তেন আর তাঁর গোলাম তাঁর পশ্চাতে মুসহাফ ধরে দাঁড়াতেন। তিনি কিছু ভুলে গেলে গোলাম ভুল ধরিয়ে দিতেন। (ইবনে আবী শাইবা ৭২২২ নং)

ইমাম হাসান, মুহাম্মদ, আত্বা প্রমুখ সলফগণ এরূপ (প্রয়োজনে) বৈধ মনে করতেন। (ইবনে আবী শাইবা ৭২১৪, ৭২১৮, ৭২১৯, ৭২২০, ৭২২১ নং)

 সৌদি আরবের উলামা ও মুফতী কমিটির সিদ্ধান্ত মতেও প্রয়োজনে মুসহাফ (কুরআন) দেখে তারাবীহ্‌ পড়ানো বৈধ। (ফিকহুস সুন্নাহ্‌ ১/২৩৪, মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্‌ ১৯/১৫৪, ২১/৫৬) সৌদি আরবের প্রায় অধিকাংশ মসজিদে আমলও তাই।
▬▬▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

Share This Post